শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

ব্যবসায় বিলেতসেরা সিলেটের হারুন

admin
  • আপডেট টাইম : শনিবার ২৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্ক : মাত্র ৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৫৫ হাজার টাকা) দিয়ে শুরু। এখন শতকোটি পাউন্ডের হাতছানি। যুক্তরাজ্যে ত্বক পরিচর্যার ব্যবসা শুরু করে এমনই বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা হারুন দানিস। তার প্রতিষ্ঠিত নন-সার্জিক্যাল ত্বক পরিচর্যা ক্লিনিক ‘স্কিন এইচকিউ’ করোনা মহামারিতেও প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখে। জায়গা করে নেয় ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকায়।

হারুন দানিস বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান। বয়স সবে ৩৪ ছুঁয়েছে। বাবা আঞ্জু আহমদ দানিস। মা শিরিন চৌধুরী। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। এই পরিবারের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে। হারুন দানিসের জন্ম পূর্ব লন্ডনে। পরিবারের বর্তমান বসতি ওয়েলসে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিরা সাধারণত রেস্তোরাঁ কিংবা দোকানপাটের বাইরে অন্য কিছু চিন্তা করেন না। সেদিক থেকে হারুনের ব্যবসার ক্ষেত্রটা আলাদা।

হারুন দানিসজানালেন, দাদা মোহাম্মদ দানিস পঞ্চাশের দশকে জাহাজে চড়ে এসেছিলেন বিলেতে। কাজ করতেন পূর্ব লন্ডনের এক পোশাক কারখানায়। পরে নিজেই ‘ডি ফ্যাশন’ নামে একটি কারখানা চালু করেন। এর সঙ্গে যুক্ত হন বাবা আঞ্জু আহমদ দানিস। কারখানার কর্মীদের খাবারের চিন্তা মাথায় রেখে ক্যানটিন চালু করেন। ব্যবসায়িক সম্ভাবনা দেখে পরে রেস্তোরাঁয় রূপান্তর করেন।

ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক হবেন বলে ২০০৬ সালে ভর্তি হয়েছিলেন ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে। কিন্তু এক বছরের মাথায় পড়াশোনা বাদ দিয়ে লেগে যান কাজে। মাথায় ছিল ব্যবসার চিন্তা। একপর্যায়ে নতুন ভবনে আসবাব সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন। ২০০৯ সালে ম্যানচেস্টারে নিজের প্রথম বাড়ি কেনেন। তখন অর্থনৈতিক মহামন্দার ধকল চারদিকে। ফলে নতুন কিছু করার চিন্তা করছিলেন। সুযোগ দেখেন ত্বক পরিচর্যা ক্লিনিকের। হারুন বলেন, ‘তখন এই ব্যবসার ধারণা বেশ নতুন।’

আসবাবের ব্যবসার সুবাদে তাঁর অবকাঠামো আগেই ছিল। ২০১০ সালে কেবল ৫০০ পাউন্ড বিনিয়োগ আর একজন কর্মী নিয়ে ম্যানচেস্টারে শুরু করে দেন ত্বক পরিচর্যা ক্লিনিক। এক বছরের মাথায় বার্মিংহাম ও লন্ডনে শাখা চালু করেন। ট্র্যাঙ্কুইল ক্লিনিক নামের ওই ব্যবসার পুরোটাই তিনি ২০১১ সালে বিক্রি করে দেন। হারুন বলেন, ‘যে পরিমাণ অর্থের প্রস্তাব পেয়েছিলাম, তা আমি আগে কখনো দেখিনি। যে কারণে পুরো ব্যবসাটাই বিক্রি করে দিই।’ বিষয়টি তাঁকে লাভের নতুন সুযোগ দেখায়। এরপর ‘জেন ক্লিনিক’ নামে একই রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। তিনটি শাখা চালুর পর ২০১৫ সালে এটিও বিক্রি করে দেন। একইভাবে ‘স্কিন ইমেইজ’ চালু করে ২০১৬ সালে তা বিক্রি করে দেন।

তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, বিষয়টি আমার কাছে খেলার মতো ছিল। কারণ, তখন আমি এই ব্যবসার সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি—সবকিছু জেনে গেছি। তবে এরপর অর্থের পেছনে না ছুটে সৌন্দর্য খাতে নামকরা একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান তিনি। ২০১৭ সালে ‘স্কিন এইচকিউ’ প্রতিষ্ঠা করেন। ম্যানচেস্টার থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শহরে বর্তমানে আটটি শাখা রয়েছে। চালুর অপেক্ষায় আছে আরও ৯টি শাখা। রূপচর্চার পরিচিত সেবাগুলোর পাশাপাশি লেজার প্রযুক্তি দিয়ে ত্বকের চিকিৎসা করা হয় এই প্রতিষ্ঠানে। তবে গ্রাহক ধরে রাখার ক্ষেত্রে আছে অভিনবত্ব।

হারুন বলেন, করোনা মহামারির এই সময়ে কয়েক মাস ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকলেও ২০১৯ সালের চেয়ে ব্যবসা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। কারণ, স্কিন এইচকিউ রূপচর্চায় নিজস্ব পণ্য বাজারে ছেড়েছে, যা গ্রাহকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। করোনার সময়কে বিপণনের কাজে লাগিয়েছি।

দানিস যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য এবং জরুরি সেবা খাতের কর্মীদের বিনা মূল্যে ত্বকচর্চার ঘোষণা দেন। বিনা মূল্যে প্রায় ১৪ লাখ পাউন্ডের সেবা দিয়ে হারুন দানিস যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেন। প্রচারণার এই সুযোগ নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্য এবং বিভিন্ন দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলার সুযোগ উন্মুক্ত করেন। ১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ২০০ আবেদন জমা পড়ে বলে জানান তিনি। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে ১০টি, দুবাইতে ১টি, সৌদি আরবে ১টি শাখা খোলার কাজ চলছে।

ওয়েল অনলাইন প্রকাশিত ২০২০ সালে ওয়েলসের ৩৫ বছরের কম বয়সী ৩৫ জন সেরা ব্যবসায়ী এবং পেশাদার পুরুষের তালিকায় সপ্তম স্থানে আছেন হারুন দানিস। এতে বলা হয় হারুনের প্রতিষ্ঠিত সদস্যপদ পদ্ধতির ত্বক পরিচর্যা ক্লিনিক ‘স্কিন এইচকিউ’ ইউকে স্কেল আপ ইনস্টিটিউটের বিবেচনায় প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী সেরা ১ শতাংশ কোম্পানির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

দ্য লয়েডস ব্যাংক ন্যাশনাল বিজনেস অ্যাওয়ার্ডসের বছরের সেরা উদ্যোক্তার জন্য মনোনয়ন পাওয়া ১০ জনের একজন এই বাঙালি সন্তান হারুন। জিতেছেন গ্রেট ব্রিটিশ এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাওয়ার্ডস। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘স্টিভি’ পুরস্কার। ৬৩টি দেশের ৩ হাজার ৮০০ মনোনয়নের মধ্য থেকে এই মার্কিন পুরস্কার জিতে নেয় স্কিন এইচকিউ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ জাতীয় আরো খবর..