বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

পদকপ্রাপ্তের তালিকায় শীষে শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১২৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের পদকপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শীর্ষ তালিকায় রাজশাহী শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমী। দেশে-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় স্বর্ণ, রৌপ এবং বৌঞ্জ পদক নিয়ে এসেছে শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমীর শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৭ সাল থেকে তার কার্যক্রম শুরু করে এবং ১৯৮৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করে।

পরবর্তীতে বর্তমানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারাতে, জুজুৎসু, পেনচাকসিলাত, সিলামবাম মার্শাল আর্ট, জুডো, ইয়োগা প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ১৯৯৭ সাল থেকে উশু প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমী। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশন সরকারীভাবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমীতে প্রায় ১১০ ছেলে এবং ৪০ জন মেয়ে মোট দেড় শত শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

রাজশাহী শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শরিফুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন মার্শাল আর্টের উপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উশু কোচ, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক, রাজশাহী জেলা উশু এসোসিয়েশনের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এ পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মোট ৭১ জন শিক্ষার্থী স্বর্ণ, রৌপ এবং বৌঞ্জ পদক পেয়ে বাংলাদেশে নাম উজ্জ্বল করেছে।

নেপালে অনুষ্টিত ১৩তম সউথ এশিয়ান গেমস (১৯-২০) প্রতিযোগীতায় শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমী ৪ খেলোয়ার স্বর্ণ ও বৌঞ্জ পদক পেয়েছে। স্বর্ণ পদক প্রাপ্তরা হলেন, আল আমিন ইসলাম নয়ন। বৌঞ্জ পদক প্রাপ্তরা হলেন, মিলন আলি, রাসেল হোসেন ও বাসনা খন্দকার।

বঙ্গবন্ধু ১৫তম জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশীপ ২০২০ প্রতিযোগীতায় স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত হয়েছে মোট ১০ শিক্ষার্থী। এরা হলেন, রাসেল হোসেন, মিলন আহম্মেদ, শিলা খাতুন, সুমাইয়া আক্তার, আয়শা খাতুন, মুক্তি মিরা, ফাতেমা আক্তার মিম, বৈশাখী আক্তার, পূজা রানী শাহ ও রাবিনা আক্তার মিম। এরা ২০১৬ সাল থেকে প্রত্যেক বছরই পর্যায়ক্রমে পদক পেয়ে আসছে।

২০১৯ সালে শহীদ হাসানুল্লাহ মাস্টার জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশীপে মোট ১২ জন স্বর্ণ, রৌপ ও বৌঞ্জ পদক লাভ করে। এদের মধ্যে স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত রাহুর হোসেন, ফরিদা আক্তার ও মিলন আলী। রৌপ পদক প্রাপ্তরা হলেন, ইয়াসমিন আরা, মোস্তাফিজুর রহমান ও সিজ্জিন আরা। বৌঞ্জ পদক প্রাপ্তরা হলেন, মুকিত আলী, মল্লিকা পারভীন, মৌনতা খাতুন, মৌসুমী আক্তার, প্রতীমা বিশ^াস ও বিকাশ সিং।

২০১৩-২০১৮ সাল পর্যন্ত রাজশাহী শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমীর শিক্ষার্থী হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতায় স্বর্ণ, রৌপ ও বৌঞ্জ পদক প্রাপ্তরা হলেন, রাকিবুল ইসলাম (স্বর্ণ), ইয়াসমিন আরা (স্বর্ণ), সিজ্জিন আরা (স্বর্ণ), মোস্তাফিজুর রহমান (স্বর্ণ), মোল্লিকা পারভীন (স্বর্ণ), শিলা আক্তার (স্বর্ণ), শারমিন আক্তার (স্বর্ণ), রানী খাতুন (স্বর্ণ), লিজা খন্দকার (স্বর্ণ), বাসনা খন্দকার (স্বর্ণ), রিদয় বিশ^াস (স্বর্ণ), ফরিদা খাতুন (স্বর্ণ), নাসরিন আক্তার (স্বর্ণ), শামিম হোসেন (স্বর্ণ), জাহিদ আলী (স্বর্ণ), জাহিদ হাসান (রৌপ), রাজিয়া সুলতানা (রৌপ), সম্পা খাতুন (রৌপ), শরমিলা খাতুন (রৌপ), সবুজ আলী (রৌপ), শরিয়ত (রৌপ), তাহামীদ ইসলাম (রৌপ), হেলেনা বিশ^াস (রৌপ), শাকিব হোসেন (রৌপ), সাব্বির হোসেন (রৌপ), ফাহিম (রৌপ), অঞ্জুরাণি (রৌপ), মফিজা খানম (রৌপ), রুবেল আলী (বৌঞ্জ), স্বপ্না (বৌঞ্জ), রেনেতা বিশ^াস (বৌঞ্জ), নেপালী বিশ^াস (বৌঞ্জ), শিবলী সাংমা (বৌঞ্জ), শ্রাবন্তি ইসলাম (বৌঞ্জ), সোহাগি বিশ^াস (বৌঞ্জ), তিশা মনি খাতুন (বৌঞ্জ), আয়সা খাতুন (বৌঞ্জ), জেসমিন আক্তার (বৌঞ্জ), জান্নাতুন খাতুন (বৌঞ্জ), নিরঞ্জন শাহ্ (বৌঞ্জ), অরুন সিং (বৌঞ্জ), পূজা রাণী শাহ্ (বৌঞ্জ), রবিনা আক্তার মিম (বৌঞ্জ) ও শ্রাবণ (বৌঞ্জ)।

রাজশাহী শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমীর অন্যতম শিক্ষার্থী রুমা খাতুন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমীর সহকারী প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি জাতীয় কারাতে স্বর্ণ পদক এবং জাতীয় উশু চ্যাম্পিশীপ ২০১০ প্রতিযোগীতায় দুইটি স্বর্ণ পদক লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনটি স্বর্ণ ও তিনটি রৌপ পদক লাভ করে। তিনি বøাক বেল্ট ২য় ডানও অর্জন করেন।

রাজশাহী শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শরিফুল ইসলাম ধূমকেতু নিউজকে বলেন, আমি প্রশিক্ষক হিসেবে ১৯৮৭ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করি। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করি। যাত্রার শুরু থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণ, রৌপ ও বৌঞ্জ পদক পেয়ে আসছে আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ পদকপ্রাপ্ত আমার শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমী শিক্ষার্থীরা। আমার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই এখন সরকারী-বেসরকারী বিকেএসপি, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।

তিনি ধূমকেতু নিউজকে আরও বলেন, ২০২০ সালেও বাংলাদেশের পদকপ্রাপ্ত তালিকার জরীপে আমার শিক্ষার্থীরা শীর্ষ স্থানে রয়েছে। আমাদের একসময় প্রায় সাড়ে ৪ শ’ শিক্ষার্থী ছিলো। করোনাকালীন সময়ে মানুষ ঘরবন্দি থাকায় বর্তমানে প্রায় ১১০ ছেলে এবং ৪০ জন মেয়ে মোট দেড় শত শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

শরিফুল ইসলাম ধূমকেতু নিউজকে বলেন, কুনফু হচ্ছে চাইনিজ মার্শাল আর্ট। কুংফু থেকে উশুর জন্ম। কুনফু হচ্ছে ট্রেডিশনাল মার্শাল আর্ট, উশু হচ্ছে মর্ডান মার্শাল আর্ট। উশুর মধ্যে কুনসু, জিয়ানসু, চিয়ানসু, দাউসু, নানদাও, নানগুন, তাইসিশোর্ড, কোয়ানদাওসহ সব ধরণের ইন্সট্রুমেন্ট আছে, যা ব্যবহারের অনুমোদন আছে। উশুতে ৪০ টি গোল্ডের খেলা হয়। এ কারণে ছেলে মেয়েরা সাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং অনেক আগ্রহ সহকারী অনুশীলন করে।

প্রশিক্ষণার্থী বৈশাখী আক্তার বিথি ধূমকেতু নিউজকে বলেন, আমি রাজশাহী শাওলিন উশু তাইচি কুংফু একাডেমী থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০২০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বঙ্গবন্ধু ১৫তম জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশীপ ২০২০ প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে স্বর্ণ ও রৌপ পদক পেয়েছি এবং মহিলা বিভাগের শেরা খেলোয়াড়ের হিসেবে সম্মাননা স্মারক পেয়েছি।

আরেক প্রশিক্ষণার্থী ফাহিম ধূমকেতু নিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৫তম জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশীপ ২০২০ প্রতিযোগীতায় রৌপ পদক অর্জন করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ জাতীয় আরো খবর..