মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কী ভাবছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৫ বার পঠিত

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ অক্টোবর শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের (স্নাতক) ভর্তি পরীক্ষা। মহামারিকালে শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে নিজ ক্যাম্পাস ছাড়াও প্রথমবারের মতো বিভাগীয় শহরে কেন্দ্র স্থাপন করে পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁস, নিরাপত্তা ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সুবিধা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় শহরের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব ও অতীত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সবকিছু ছাপিয়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।

ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বিভাগীয় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা পরীক্ষা নিতে অভ্যস্ত। সে কারণে আমরা আশা করি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা থাকবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বাড়তি মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। সবমিলে আমরা আশা করছি যে, কোনো ধরণের ত্রুটি-বিচ্যুতি ছাড়াই ভালোভাবে নিতে পারব। তারপরও এটি আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নেতৃত্বে শিক্ষকরা আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে আমরা যেমন পরীক্ষা নিয়েছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে, তেমন প্রস্তুতিই আছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সট্রাকশন দিয়েছি। যেহেতু ঢাকার বাইরেও পরীক্ষা হবে, সে জন্য আমরা বাড়তি মনিটরিং ব্যবস্থাও রেখেছি। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাবি থেকেই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রিত হবে। প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। এছাড়া সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা যারা পরীক্ষা নিয়ে কাজ করে, তাদের সতর্ক দৃষ্টিও আছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ সমস্ত পরীক্ষা চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করার জন্য আইজিপি মহোদয় খুব দ্রুত এবং কার্যকরভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে একটি টিমও গঠন করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে আমাদের একটি সমন্বয় সভাও হয়েছে। আমরা অনুরোধ করেছি, যাতে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সুন্দরভাবে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, শঙ্কার চেয়ে গুজব বেশি। গুজবে কান না দেওয়া উত্তম। গুজব মানুষের ক্ষতি করে। কোনো কিছু তো শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই যেন পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তা আমাদের লক্ষ্য।

ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা বিকেন্দ্রীকরণ করে বিভাগীয় শহরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে শিক্ষার্থীদের এত দূরে না আসতে হয়। তারা যেন সকালে বাড়ি থেকে এসে পরীক্ষা দিতে পারে এবং বাড়ি ফিরতে পারে। সেসব বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। প্রতিনিয়ত আমরা সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা শিক্ষকরা কেউ কেউ স্পটেও যাচ্ছি। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে প্রশ্নপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। আশা করছি পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে।

চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমবার ঢাকার বাইরে পরীক্ষা হওয়ায় চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমরা যদি সফল হই, তবে ভবিষ্যতেও আমরা পরীক্ষাগুলো এভাবে নিতে পারব। কেননা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই এখন বেশি আসে, তাদের জন্য এ পদ্ধতিতেই পরীক্ষা দেওয়া সহজ। আশা করছি, আমরা সফল হব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর বিজ্ঞান অনুষদের (ক ইউনিট) পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে এবারের ভর্তি পরীক্ষা। ২ অক্টোবর কলা অনুষদ (খ ইউনিট), ২২ অক্টোবর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (গ ইউনিট), ২৩ অক্টোবর সামাজিক বিজ্ঞান (ঘ ইউনিট) ও ৯ অক্টোবর চারুকলা অনুষদের পরীক্ষা (চ ইউনিট) অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের ভর্তি পরীক্ষা দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিভাগের পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, খুলনা বিভাগের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সিলেট বিভাগের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, রংপুর বিভাগের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, বরিশাল বিভাগের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ময়মনসিংহ বিভাগের পরীক্ষা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ জাতীয় আরো খবর..