শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

ভয়াল ১৫ নভেম্বর ‍আজ : ৫ বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৯ বার পঠিত

আজ ১৫ নভেম্বর, ভয়াল সুপার সাইক্লোন সিডরের ১৪ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৭ সালের এই দিনে ২৪০ কিলোমিটার গতির সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হেনেছিল। ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা। অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। এ অবস্থায় এখানের বাসিন্দারা একটি টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি তুলেছিলেন। শুরু হয় বাঁধের দাবিতে আন্দোলন। একপর্যায়ে শরণখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ পোল্ডারের ৬২ কিলোমিটারে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাউবোর উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি টেকসই বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ শুরু হয়। চীনের সিএইচডব্লিউই নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঁধ নির্মাণের কাজ পায়। তিন বছর মেয়াদের এই কাজ ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা মেয়াদ বাড়নো হয়। এরপরও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। এখনো বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শরণখোলার প্রায় দুই লাখ মানুষ।

এদিকে, বেড়িবাঁধের কাজ চলমান থাকার মধ্যেই বলেশ্বর নদের তীরের রায়েন্দার বড়ইতলা, সাউথখালীর তাফালবাড়ী এবং গাবতলা এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টের ব্লক সরে গেছে। নদী শাসন না করায় এসব এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে বেড়িবাঁধের কাছাকাছি চলে এসেছে।

শরণখোলা গাবতলা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকার শত শত কোটি টাকা খচর করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে। অথচ তাতেও আতঙ্ক কাটেনি তাদের। নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে যে কোনো সময় বাঁধে আঘাত হানবে।

সাউথখালীর ইউপি সদস্য মো. জাকির হাওলাদার জানান, শতাধিক প্রাণের বিনিময়ে একটা বেড়িবাঁধ পেয়েছি আমরা। কিন্তু টেকসই বেড়িবাঁধ হয়নি। কাজের মান অনেক খারাপ। বেড়িবাঁধ নিয়ে আমাদের আতঙ্ক কাটেনি।

সাউথখালীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের মান নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তারপরও যা হয়েছে, নদী শাসন না হলে এই বেড়িবাঁধ টিকবে না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে নদী শাসনের কাজ করার দাবি জানাই।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত জানান, বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নদী শাসনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবারো জানানো হবে।

চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিইআইপির ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. লাকিদুল ইসলাম জানান, করোনা এবং বারবার দুর্যোগের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। কাজের ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ জাতীয় আরো খবর..