মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

রাজধানীজুড়ে রমরমা ঈদবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার ২৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ১১ বার পঠিত

রাজধানী ঢাকার সড়কের দুই ধারে ফুটপাথ পথচারীদের চলাচলের নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ ঈদের বাজারের দখলে চলে গেছে বেশিরভাগ ফুটপাথ। মতিঝিল, পুরান ঢাকা, নবাবপুর, বংশাল, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, আজিমপুর, শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, এলিফ্যান্ট রোড, মৎস্য ভবন মোড়, হাইকোর্টের মোড়, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, শান্তিনগর, রামপুরা, মেরুল বাড্ডা, উত্তর, বাড্ডা, মহাখালী, সাতরাস্তা, মিরপুর, তেজগাঁও, খিলক্ষেতের মতো ব্যস্ত সব সড়কের ফুটপাথে পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন হকাররা।

গত কয়েকদিন সরেজমিন দেখা গেছে, হকাররা যত্রতত্র পসার সাজিয়ে বসলেও পুলিশ তাদের সরানোর চেষ্টা করেনি। তবে হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে ব্যাপক চাঁদাবাজি হচ্ছে। অনেক ফুটপাথে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই হকার বসিয়েছেন। ফলে এসব সড়কে যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকছে। বৈশাখের দুপুরে রোজাদার যাত্রীদের অবর্নণীয় দুর্ভোগে ত্রাহি অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। আবার যে সব এলাকায় সড়কের পাশে মার্কেট ও বিপনি বিতান গড়ে উঠেছে সেসব রাস্তার অনেক অংশ দখল করেছে হকাররা। এতে ঘর থেকে বের হলেই পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

গুলিস্তানে ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট তৌফিক-ই-ইলাহী জানান, রাস্তায় যানজট হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। এর মধ্যে মেট্রোরেলের কাছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেনাকাটায় যুক্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এজন্য যানজটের পর যানজট তৈরি হচ্ছে। তবে যানজট নিরসনে আমরা কাজ করছি।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে এবার ঈদে রাজধানীর ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা আয় শূন্য হয়ে ঋণের দায়ে জর্জরিত। এমন পরিস্থিতিতে এবার ঈদের বাজার আশার আলো দেখাচ্ছে তাদের। আয় কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্তরাও ফুটপাথ থেকে কেনাকাটা করছেন। এতে ফুটপাথের দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড় বেড়েছে।

জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজধানীর ঈদবাজার। নগরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। এই ভিড় ঠেলে কেনাকাটার পর যানজটে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে ক্রেতাদের জীবন। কিন্তু কেন এত যানজট!

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সড়কে পার্কিং এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানে ঈদ মৌসুমের ভিড়ের কারণে জট লেগেই আছে। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মতিঝিল, পুরান ঢাকা, নবাবপুর, বংশাল, গুলিস্থান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, নিউমার্কেট, আজিমপুর, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, এলিফ্যান্ট রোড, মৎস্য ভবন মোড়, হাইকোর্টের মোড়, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, শান্তিনগর, রামপুরা, মেরুল বাড্ডা উত্তর, বাড্ডা, মহাখালী, সাতরাস্তা, মিরপুর, তেজগাঁও, খিলক্ষেত, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটে থমকে আছে গাড়ি।

যানজট ঢাকা শহরে সারাবছর লেগে থাকলেও আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর কেনাকাটার বিশাল চাপ পড়েছে প্রধান সড়কের পাশের ফুটপাথ ও শপিংমলগুলোর আশেপাশে। এতে থমকে যায় গোটা নগরের যোগাযোগব্যবস্থা। এ কারণে ভয়াবহ যানজটে পড়ে ঈদবাজারে আসা ক্রেতার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে। সড়কের মধ্যে এমন দোকানপাটে নগর ভবনও অনেকাংশে ঢেকে গেছে। কিন্তু এর দায় নিচ্ছে না কেউ। নগরের প্রধান সড়ক দখল করে কেন ঈদবাজার হবে, এমন প্রশ্ন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফার্মগেট : ঢাকার ফার্মগেট এলাকার ফার্ম ভিউ সুপারমার্কেট। ঈদ উপলক্ষে নানা রকম পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানিরা। দোকানগুলোতে সারাদিনেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মার্কেটের শতাধিক দোকানের প্রায় একই চিত্র। ব্যতিক্রম নেই রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় গরিবের মার্কেট হিসাবে পরিচিত বিপণিকেন্দ্রগুলোতে।

বিক্রেতারা বলছেন, এই মার্কেটটিতে মূলত কেনাকাটার জন্য ভিড় করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। এবার দশ রমজানের পর থেকে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। শুধু এই মার্কেটই নয়, এর সামনে ও আনন্দ সিনেমা হলের উল্টো দিকের ফুটপাথেও পা ফেলার জায়গা নেই। সারাদিনই হচ্ছে বেচাকেনা।

মিরপুর : মিরপুরের পল্লবী এলাকার মোল্লা মার্কেট, রংধনু শপিংমল, পল্লবী শপিং কমপ্লেক্স, অনিক প্লাজা, নান্নু মার্কেট, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার শাহআলী শপিং কমপ্লেক্স, মিরপুর বেনারসি পল্লী, মিরপুর-১ নম্বরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, কো-অপারেটিভ মার্কেট, মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্স, নিউ মিরপুর নিউমার্কেটসহ ছোটবড় সব শপিংমলে ক্রেতা সাধারণের আনাগোনা শুরু হয়েছে। তবে দুপুরের পর দর্শনার্থী-ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। ইফতারির বিরতির পর আবার রাত পর্যন্ত চলে এই কেনাকাটা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা দুই ঈদ পর শপিং সেন্টারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। আর এতে ব্যবসা ভালো হওয়ার আশা দেখছেন তারা।

কারওয়ান বাজার : বছরজুড়েই কেনাকাটায় রাজধানীবাসীর আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে পান্থপথের বসুন্ধরা শপিংমল। তবে ঈদ সামনে এলে কেনাকাটার ধুম পড়ে জনপ্রিয় এই শপিংমলে। করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছরে কিছুটা ভাটা থাকলেও এবার ঈদের আগেই জমে উঠেছে কেনাকাটা।

কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিড় এড়াতে রোজার শুরু থেকেই এখানে ক্রেতার সমাগম ঘটেছে এবার। রমজান মাসের মাঝামাঝি এসে পুরোদমে জমে উঠেছে কেনাকাটা।

বসুন্ধরা শপিংমলে ঢুকেই দেখা গেল, চলন্ত সিঁড়ি আর লিফটগুলোর সামনে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়। অনেককে দেখা গেছে, পুরো পরিবার নিয়ে এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। আড়ং, ইয়েলো, কিউরিয়াস, ইনফিনিটি মেগামল, ইজি, জারা, প্লাস পয়েন্ট, সেইলর, জেন্টলপার্কসহ প্রায় সব দোকানেই ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের পোশাক বেছে নিতে ভিড় করেছে। যাদের সামর্থ্য কম তাদের দেখা গেছে, ফুটপাতে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। এতে গোটা এলাকায় ব্যাপক মানুষের চাপ তৈরি হয়। লোকজনের চাপ বাড়ায় রাস্তায়ও বেড়েছে যানজট।

নিউমার্কেট : সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের কারণে রাজধানীর নিউমার্কেটে ঈদের বিকিকিনিতে ভাটা পড়েছিল। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তাই, আগের রূপে ফিরছে নিউমার্কেট।

সরেজমিনে নিউমার্কেটে দেখা গেছে, ক্রেতা সমাগম প্রচুর। এর আগে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও বিক্রয়কর্মীদের সংঘর্ষের পর এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তাই, নিউমার্কেটে আবারও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা।

নিউমার্কেটের পাশের নূরজাহান মার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেটেও পুরোদমে বিকিকিনি চলছে। তবে নিউমার্কেটের ভেতরের দোকানের চেয়ে ক্রেতাদের ভিড় বেশি ফুটপাথের দোকানগুলোতে। দোকানগুলোতে জটলা বেধে কেনাকাটা করার কারণে রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

বাড্ডা : রাজধানীর বাড্ডা এলাকার হল্যান্ড সেন্টার, সুবাস্তু, মধ্য বাড্ডার দোকান ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। হল্যান্ড সেন্টারে মুক্তি শাড়ি, নিউ জেন্টস কালেকশন, সঞ্জু ফ্যাশন, সায়মন ফ্যাশন, ইসলাম শাড়ি বিতান, ফেনী শাড়ি বিতান, মা বস্ত্র বিতান, সামির টেক্স (বাচ্চাদের), প্রিয়া ওড়না হাউস ঘুরে দেখা গেল ক্রেতা সমাগমে বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখানে শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের ড্রেস, প্রসাধনী, অলঙ্কার, কসমেটিকস বেশি বিক্রি হচ্ছে। নারী ক্রেতাদের ভিড় বেশি লক্ষণীয়। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মার্কেটগুলোতে পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পোশাকের দোকানগুলোতে বাহারি রং ও ডিজাইনের ছোঁয়া।

বাড্ডা লিংক রোড ও গুদারাঘাট সংলগ্ন একটি স্থানীয় মার্কেট ঘুরে দেখা গেল সেখানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। এখানকার মা বস্ত্র বিতানের দোকানি হাবিবুর রহমান বলেন, স্থানীয় মধ্য ও নিম্নবিত্ত ক্রেতারাই আমাদের এখানে বেশি আসে। ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। তাই শেষ সময়ে এসে ঈদের বাজার জমজমাট। আমরা খুব বেশি লাভ না করেই বেশি সেল করতে পারছি।

এলিফ্যান্ট রোড : ঈদ উপলক্ষে রমজানের প্রথম থেকেই জমে উঠেছে এলিফ্যান্ট রোডের ঈদবাজার। এখানে সব ধরনের দোকান আছে, তাই এখানে ক্রেতার ভিড় বেশি। কাপড়, জুতো, বেল্ট, কসমেটিকস, ব্রান্ডের দোকান, শোরুম, গৃহস্থালি, সিরামিকস, বিয়েবাজার এবং কাপড় বানানোর অনেক টেইলার্স আছে। ইস্টার্ণ প্লাজা, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টচার, সুবাস্তু আকের্ড, ইস্টার্ন মল্লিকা, হাতিরপুল মার্কেট, মেহের প্লাজা ছাড়াও নানা ধরনের দোকান। এলিফ্যান্ট রোডে দোকানের পরিমাণ প্রায় দুই হাজারের বেশি। মূলত জুতার দোকানের জন্য সুপরিচিত এলিফ্যান্ট রোড। জুতোর দোকানগুলোতে ছিলো উপচে পড়া ভিড়। সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্রেতাদের দম ফেলার ফুসরত নেই। ক্রেতাদের ভিড়ে যেন এ এলাকার ফুটপাথ দিয়ে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

উত্তরা : আবদুল্লাহপুর সংলগ্ন উত্তরার সবচেয়ে বড় এবং নিরিবিলি মার্কেট পলওয়েল কার্নেশন। পলওয়েলে রয়েছে প্রায় সব ধরনের শপ। শিশুদের জন্য রয়েছে বেবি শপ। মেয়েদের থ্রি-পিসের দোকান দেখা যায় এক ফ্লোরের বেশিরভাগ অংশজুড়েই। এছাড়া হাউস বিল্ডিং থেকে সোজা পশ্চিমে সোনারগাঁ জনপদ। জনপ্রিয় সব ফ্যাশন হাউসের রমরমা আয়োজন রয়েছে এই রোডে। ঢুকতেই ডান পাশে দেশের নতুন সাড়া জাগানো ফ্যাশন হাউস আম্বার লাইফস্টাইল। তার পাশেই জেন্টল পার্ক, শপার্স ওয়ার্ল্ড। এছাড়া উত্তরার আজমপুর থেকে সোজা পশ্চিমে চলে গেছে রবীন্দ্র সরণি। মাসকট প্লাজা, রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, এইচএম প্লাজা, নিগার প্লাজা এবং বেইলি কমপ্লেক্স যেখানে ঈদ উপলক্ষে ভীড় লেগেই আছে।

মতিঝিল : রমজানের শেষের দিকে বিক্রি বেড়েছে মতিঝিলের ফটপাথের দোকানগুলোতে।। সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য রং-বেরঙের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যায় ফুটপাথে। সারি সারি এসব দোকান থেকে প্রতিনিয়তই পছন্দমতো জামা-কাপড় ও শার্ট রাখা হয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা রকমের জুতা। পণ্য ভেদে দামও রয়েছে কম-বেশি। এখানে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে শার্ট বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। শিশুদের ফ্রক, টি-শার্ট ছাড়াও বাহারী ডিজাইন ও নানা রঙের পোশাক পাওয়া যায় যেগুলোর দাম ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা। ফুটপাথের দোকানের কারণে দিনের শুরুতেই ভিড় জমতে থাকে মতিঝিলের আরিকো ভবনের সামনে। দিলকুশার ব্যাংকপাড়ায় অফিস থেকে বের হয়েই অনেকে পছন্দ মতো কাপড় ও জুতা কিনতে পারেন তাই এখানে পণ্যের পসরা বসিয়েছেন দোকানিরা। সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায়ও দোকান গুলোতে দেখা যায় লোকজনের ভিড়। রাস্তার বেশিরভাগ অংশেই দোকান থাকায় প্রতিদিনই রেগে থাকে দীর্ঘ যানজট।

পুরান ঢাকা : জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার ফুটপাথের বেচাকেনা। ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ কেনাকাটা করছেন এখান থেকে। কম দামে পোশাক কিনতে সবাই বিশেষ করে মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তরা ফুটপাথের দারস্থ হচ্ছেন। লক্ষ্মীবাজার, সদরঘাট, ধূপখোলার রায়সাহেব বাজার ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার ফুটপাতে দেখা যায় ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড়। সাধ্যের মধ্যে ঈদের জন্য কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। সকাল থেকে ভিড় জমে রাস্তার পাশের এই অস্থায়ী দোকানগুলোতে। বিকেলে ভিড় একটু কম হলেও সন্ধ্যার পর শুরু হয় ক্রেতাদের জনসমাগম। অন্যান্য জায়গার তুলনায় সদরঘাট ও লক্ষ্মীবাজারে একটু বেশিই ভিড় দেখা যায়। এখানকার ফুটপাথের দোকানগুলোতে ভিড় থাকার কারণে পুরান ঢাকার বেশিরভাগ রোডেই রিকশার জট লেগে থাকতে দেখা গেছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে এলাকাবাসীর।

গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম : বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর-পশ্চিম গেট, দৈনিক বাংলা মোড়, ফকিরাপুল, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হকার্স সমিতি মার্কেট, গুলিস্তান মোড়ের চারপাশের ফুটপাত, নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়কের ফুটপাথ, গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন ফুটপাথ, বঙ্গবাজার ফুটপাতের চিত্র একই। এসব এলাকায় জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা। ঈদকে সামনে রেখে এমনভাবে বিভিন্ন অলিগলিতে এখন অনেকেই নানা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এসব দোকানে টুপি থেকে শুরু করে জুতাও পাওয়া যাচ্ছে। এ সুযোগে অনেকে পাড়া-মহল্লা থেকেও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছেন। ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোর সঙ্গে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোয়ও ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন এখানকার দোকানিরা। দোকানগুলোতে বিক্রি যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে এসব এলাকার যানজট ও জনজট। পীর ইয়ামেনী মার্কেটের সামনের রাস্তায় সবসময়ই লেগে থাকে যানজট। রাজধানীর পোশাকের অন্যতম পাইকারি বাজার বঙ্গবাজার শপিং কমপ্লেক্সের পাইকারি মার্কেটেও বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। তাই এই রাস্তায় রাতদিন ট্রাকে করে মাল উঠানামা করার কারণে সব সময়ই লেগে থাকে যানজট।

যাত্রাবাড়ী : যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার দক্ষিণে শহীদ ফারুক সড়কে ইদ্রিস সুপার মার্কেট, তাজ সুপার মার্কেট, রহমান প্লাজা, সামিউল্লাহ প্লাজা মোবাইল মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট রয়েছে। মার্কেটগুলো ঘিরে গোটা এলাকার ফুটপাথগুলোতে গড়ে উঠেছে ছোট দোকান। গত কয়েক দিনে এখানকার ফুটপাথগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা ও বিক্রি দুটিই বেড়েছে। আর এখানে ঢাকার বাইরে থেকে বাস এসে থেমে যাত্রী নামানোর কারণে যানজট লেগেই থাকে।

মালিবাগ : মালিবাগ ও মৌচাক মার্কেট এলাকার বিপণিবিতনগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তবে মার্কেটের তুলনায় ফুটপাথের ছোট দোকানগুলোতেই বেশি ভিড়। গেঞ্জি, শার্ট, জিনস, থ্রি-পিস কিংবা বাচ্চাদের পোশাক কেনাবেচা চলছে বেশি। এখানে আশপাশ এলাকায় মৌচাক মার্কেট, হোসাব মার্কেট, সেঞ্চুরী মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি বিপনিবিতান থাকায় লোকজনের সমাগমের কারণে যানজট লেগেই থাকে। আবার এখানকার কাছাকাছি এলাকায় বেইলি রোড থাকায় যানজটের মাত্রা আরও বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

টিকাটুলি : টিকাটুলি এলাকায় রাজধানী সুপার মার্কেটের বাইরে দোকানদাররা পণ্য নিয়ে বসে বিক্রি করছেন। লোকজনের ভিড় থাকার কারণে রাস্তায় যানবাহন চলতে বাধাগ্রস্ত হয় এতে এই এলাকায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
মহাখালী এলাকায় ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মনসুর আলী বলেন, মহাখালীতে সব মার্কেট খোলা। এ সব মার্কেটে ঈদে বেচাকেনা জমে উঠছে। এ কারণে অতিরিক্ত মানুষ রাস্তায় বের হওয়ায় যানজট বেশি দেখা যাচ্ছে।

এছাড়াও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর দোকান সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। ফলে রাজধানীর মুল সড়ক ছাড়াও পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.


এ জাতীয় আরো খবর..