সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

সড়কের যুবরাজ মুনতাসিরের উত্থান ও বিলাসী জীবন যাপন

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার ২৭ এপ্রিল, ২০২২
  • ১২ বার পঠিত

কেউ তাকে বলে সড়কের হিরো; আবার কেউ বলে সড়কের মডেল। কিন্তু তার সমর্থকরা এ সবকিছু ছাপিয়ে তাকে সড়কের যুবরাজ বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

তিনি আর কেউ নন সড়কের সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার থেকে সদ্য এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হওয়া ও সড়কের ডিপ্লোমা সমিতির সভাপতি সৈয়দ মুনতাসির হাফিজ । গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা।

নিজেকে পরিচয় দেন সড়কের প্ল্যানিং এবং মেনটেনেন্স উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মনিরুল হাসান এর ভাগ্নে বলে। এই সৈয়দ মনিরুল হাসান আবার সড়কের ভবিষ্যৎ প্রধান প্রকৌশলী।

খুবই অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি হতে চলেছেন সড়কের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী। সূত্রমতে সড়কের সিরিয়াল ও বয়সের মারপ্যাঁচের যেই প্রধান প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে প্রথা প্রচলিত রয়েছে; সেই মারপ্যাঁচের কাঁধে ভর করে মনিরুল হাসান সড়ক শাসন করবেন কমপক্ষে সাত বছর। তাই অনেক বাঘা বাঘা অফিসারও বিরাগভাজন হতে চান না সৈয়দ মুনতাসিরের। কারণ তারা মামা-ভাগিনা উভয়ই পুরো সড়ক তথা সড়কের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চালান।

অভিযোগ রয়েছে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মনির পাঠান  বিগত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সমিতির নির্বাচনে মুনতাসিরের পক্ষে নোংরাভাবে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে । আর এই কারনেই নির্বাচনের কিছুদিন আগে মনির পাঠান তড়িঘড়ি করে ৮/৩/২২ইং তারিখে একটি বদলি আদেশ করেন যার স্মারক নং-৩৫.০১.০০০০.১৫০.১৯.০২৩.০৫(৭ম খন্ড)-২৯৯ ওই প্রজ্ঞাপনে ১১ জন প্রকৌশলী কে বদলি করা হয় যা সম্পূর্ণ মুনতাসিরের পক্ষের জনসমর্থনের জন্য করা হয় ।

অনুসন্ধানে জানা যায় প্রধান প্রকৌশলী মনির পাঠান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আমানুল্লাহ সিন্ডিকেট মুনতাসিরের পক্ষে নিয়ে এতটাই নগ্নভাবে বদলি বাণিজ্যে লিপ্ত যে অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশ বা নির্দেশও পালন করেনি। শুধু এখানেই থেমে থাকেনি প্রধান প্রকৌশলী এবং আমানুল্লাহ সিন্ডিকেট ডিপ্লোমা সমিতির নির্বাচনে কারচুপির ও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে । জানা যায় নির্বাচনের দিন যে টিনশেড ভবনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল নির্বাচন শেষে ব্যালট বাক্স সেখানে গণনা না করে প্রধান প্রকৌশলী মনির পাঠান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আমানুল্লাহর যোগসাজশে ভোট কারচুপির জন্য সেই ব্যালট বাক্স নতুন বিল্ডিংয়ে নিয়ে গণনা করা হয় ।

কথিত আছে প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার ক্ষেত্রেও মনির পাঠান অতীতে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র অনিয়মে লিপ্ত এবং তাহার বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতির মামলা দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান রয়েছে শুধু তাই নয় মনির পাঠানের এসকল বিষয়াদি ইতোমধ্যেই সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে । তাই ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মনির পাঠানকে গ্রেড-2 থেকে গ্রেড-1 এ উন্নীতকরণ যে কার্যক্রম রয়েছে তা স্থগিত করে দিয়েছে  যা এখন তদন্তাধীন রয়েছে ।
মুনতাসির বিরোধীদের মতে, বিগত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স সমিতি নির্বাচনে এই কথিত মামার পরিচয় এবং লবিং এর জোরেই তিনি মূলত সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

মুনতাসিরের চলাফেরা জীবনযাপন ইতোমধ্যেই যুবরাজের মত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল দেখলেই তার উচ্চাভিলাষী জীবনযাপনের চিত্র ফুটে ওঠে। ছবি তোলাতে তিনি প্রতারক সাহেদকেও হার মানাবেন। সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমা সমিতির আওতাধীন সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারদের মাঝে কথিত আছে মুনতাসির লাখ টাকার নিচে কোন কমপ্লিট পাঞ্জাবির সেট কেনেন না পরেন না ।

তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল ঘাটলে দেখা যাবে অন্ততপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন কমপ্লিট সুট ও পাঞ্জাবিতে কমপক্ষে ৫০ টিরও বেশি ছবি রয়েছে । অথচ অবাক করার মত ব্যাপার সড়কের একজন এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের বেতন স্কেল মাত্র ২২ হাজার টাকা।

সড়কজুড়ে মুনতাসিরের এই বিলাসবহুল জীবন যাপনের উৎস নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের কানাঘুষা। ইতোমধ্যেই মুনতাসিরের চলমান জীবনযাপন, অর্থের উৎস ও সম্পত্তির হিসাব নিয়ে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক গণমাধ্যম ইতোমধ্যেই মুনতাসির ও তার কথিত মামার দুর্নীতি, সম্পত্তি ও জীবনযাপন নিয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে যা অচিরেই দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোয় প্রকাশ পাবে। আমাদের কাছেও মুনতাসিরের ক্ষমতার উৎস, সম্পত্তির পরিমাণ, বিলাসী জীবন-যাপন নিয়ে একাধিক প্রমাণ রয়েছ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.


এ জাতীয় আরো খবর..