মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

মুজিব কিল্লা প্রকল্প অনিয়ম : মাঠে সাব-কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার ১৪ মে, ২০২২
  • ৪ বার পঠিত

সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মুজিব কিল্লা প্রকল্পের অগ্রগতি সর্ম্পকে বাস্তবে মিল নেই। অনিয়ম খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সাব-কমিটি। কমিটি প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের কার্যক্রমের ফাইলপত্র দেখছে।

সংসদীয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিতে যে প্রতিবেদনে জমা দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজ ১০ দশমিক ৯ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। মূলত অগ্রগতি হয়েছে ১ শতাংশ। এই প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের ১ জুলাই শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রটি জানায়, সংসদীয় কমিটির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কিন্তু গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১ শতাংশ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ কী তা খতিয়ে কমিটির সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। তিন সদস্যের এই সাব-কমিটিতে সদস্য আছেন জুয়েল আরেং ও মুজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তার জন্য মুজিব কিল্লা নির্মাণ করেছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ওই সব মুজিব কিল্লা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশে ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ অসংখ্য মানুষকে দুর্যোগকালে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিত্যক্ত মুজিব কিল্লা সংস্কারের পাশাপাশি নতুন করে আরো কিল্লা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেকে ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়।

সম্পূর্ণ রাজস্ব খাতভুক্ত ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৬ জেলার ৬৪ উপজেলা, বন্যা ও নদীভাঙনপ্রবণ ২২ জেলার ৮৪ উপজেলায় বিদ্যমান ১৭২টি মুজিব কিল্লা সংস্কার ও উন্নয়ন এবং ৩৭৮টি নতুন মুজিব কিল্লায় নির্মাণসহ মোট ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ হওয়ার কথা।

এই প্রকল্পের আওতায় ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৮৬টি মুজিব কিল্লা রয়েছে। এরমধ্যে ৫৫টি বিদ্যমান মুজিব কিল্লা পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার করা হবে এবং ১৩১টি নতুন কিল্লা নির্মাণ করা হবে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ১৭১টি মুজিব কিল্লা রয়েছে। এরমধ্যে ৬৩টি বিদ্যমান মুজিব কিল্লা পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার করা হবে এবং ১০৮টি নতুন কিল্লা নির্মাণ করা হবে। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ১৯৩টি মুজিব কিল্লা রয়েছে। এরমধ্যে ৫৪টি বিদ্যমান মুজিব কিল্লা পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার করা হবে এবং ১৩৯টি নতুন কিল্লা নির্মাণ করা হবে। কিল্লার আশপাশে ১ লাখ ১০ হাজারটি বীজ ও উদ্যান (বনায়ন) করা হবে। এছাড়াও কিল্লার কাজে ব্যবহারের জন্য অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি কেনা হবে ৫৭৯টি।

সংসদ সচিবালয় সূত্রটি জানায়, সংসদীয় কমিটির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের ১ জুলাই শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১ শতাংশ। যদিও মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গত বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও আলোচনা করা হয়। এ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়মসহ অন্যান্য কারণ অনুসন্ধান ও খতিয়ে দেখতে একটি সাব-কমিটি গঠন করে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সাব-কমিটির সদস্য করা হয়েছে জুয়েল আরেং এবং মুজিবুর রহমান চৌধুরকে (নিক্সন)।

এরইমধ্যে সাব-কমিটি কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ৩ টি মিটিংও করেছে সাব-কমিটি। তারা প্রকল্পের ফাইল ওয়ার্ক করছেন। সরেজমিনও প্রকল্পের কাজ দেখতে যাবেন তারা।

এসব বিষয় নিয়ে সাব-কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, প্রকল্পের কার্যক্রমের বিষয় নিয়ে ২-৩টি বৈঠক হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাব-কমিটির অনুসন্ধানের কাজ শেষ হয়নি। শিগগিরিই কমিটির বৈঠক হবে। পরে সরেজমিনে যাওয়া হবে।

কমিটির অপর এক সদস্য জানান, আমরা প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। ফাইল ওয়ার্ক চলছে। সরেজমিন দেখে পরে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.


এ জাতীয় আরো খবর..