মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

পদ্মা সেতুতে নাট খোলার ঘটনা একাধিক, কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার ২৭ জুন, ২০২২
  • ১২ বার পঠিত

স্বপ্নের পদ্মা সেতু সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। খুলে দেয়ার প্রথম দিনেই এই সেতু ঘিরে দেখা গেছে মানুষের ঢল। সেতু ঘিরে দেখা গেছে তুমুল উচ্ছ্বাস। একই সঙ্গে দেখা গেছে নিয়ম ভাঙারও হিড়িক। নিয়ম না থাকলেও সেতুতে গাড়ি থেকে নেমে ছবি তোলা, টিকটক ভিডিও করতে দেখা গেছে অনেককেই। এমনকি সেতুর রেলিংয়ের নাট পর্যন্ত খুলতে দেখা গেছে!

রোববার (২৬ জুন) সকালে সেতু খুলে দেয়া হয় চলাচলের জন্য। এর মধ্যেই পদ্মা সেতুর নাট খুলে নেয়ার একটি টিকটক ভিডিও দুপুরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে বায়েজিদ নামে ওই তরুণকে চিহ্নিত করে রাজধানীর শান্তিনগর থেকে আটকও করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করতে হয়েছে পদ্মা সেতু উত্তর থানাকে।

জানা গেছে, কেবল বায়েজিদ নয়, এদিন পদ্মা সেতুর রেলিং থেকে নাট খোলার ঘটনা ঘটেছে একাধিক স্থানে। এ অভিযোগে অনেককেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সেতুর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) সহায়তায় বাকিদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২৬ জুন) রাতে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে সেতুর নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর হতে যাচ্ছে প্রশাসন। সোমবার (২৭ জুন) থেকে সেতুর উপরিভাগ এবং উভয় প্রান্তে জরুরিভিত্তিতে টহল জোরদার করা হবে। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ দিয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট ও সেফটি টিমের প্রধান সমন্বয়কের কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়, শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর রোববার সকাল থেকে তা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। সেতুর উপরিভাগ ও সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মালামাল রয়েছে। সেতুর ওপর যানবাহন থেকে নামা নিষিদ্ধ থাকলেও সাধারণ যাত্রীরা সেতুর উপরিভাগে নেমে সেতুর গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি ও ক্ষতি করছে। এছাড়া সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সাধারণ জনগণ প্রবেশ করে মালামালের ক্ষতি করছে। এ অবস্থায় সেতুর উপরিভাগ ও উভয় প্রান্তে জরুরি ভিত্তিতে টহল জোরদার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, সেতুর ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট ও সেফটি টিমের প্রধান সমন্বয়কসহ মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরে সেতু সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই কঠোরভাবে সেতুর নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে কোনোভাবেই যেন কেউ সেতুতে নেমে অপ্রীতিকর কিছু করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর ভূমিকা নেয়া হবে। সেতুতে যেন কেউ না নামতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন আরো কঠোর হবে।

পদ্মা সেতু সবার জন্য খুলে দেয়ার প্রথম দিনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, দেশের এতবড় একটি অর্জন এই সেতু, একে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু আজ যা হয়েছে, তাতে অনেক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাও ঘটে গেছে। সারাদিন এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করতে হয়েছে প্রশাসনের প্রায় সকলকেই। একজনকে দেখলাম পিলারের ওপরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। একজনকে দেখলাম বাইক থেকে রেঞ্জ বের করে সেতুতে লাগানো নাট খুলছে। একজনকে পেলাম, যিনি বলছেন বাড়িতে স্মৃতি হিসেবে নিয়ে যেতে নাকি নাট খুলেছেন! এগুলো দুঃখজনক। সবাইকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আর যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিকভাবে সমন্বয় করে নিরাপত্তার বিষয়গুলো কার্যকর করা হবে। সবাই তো আর বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। যারা পারে, তাদের নিয়েই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজ হাসান জানান, রোববার সারাদিন নানাভাবে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করা হয়েছে। আমরা মাইকিং করেছি। তবে সেতুর ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে কিন্তু অনেক অংশীজন যুক্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন আছে, ঠিক একই ভাবে সেতু কর্তৃপক্ষও আছে। উনারা যেভাবে নির্দেশনা দেন, সেভাবেই আমরা বাস্তবায়ন করব।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.


এ জাতীয় আরো খবর..