শিরোনামঃ
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছাত্রদল নেতা সোহাগ ভূঁইয়া ডিএনএ রিপোর্টে মিল, ধর্ষণ মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে; বিচারাধীন মিজানুর রহমান রিপন, ন্যায়বিচারের আশায় এক নারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানির অভিযোগ অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়, , রয়েল ইউনিভার্সিটি ঢাকা দেখার কেউ নেই,,,, ​বিয়ানীবাজারে পথরোধ করে হামলা: কুরবানির গরু কেনার টাকাসহ লাখ টাকার মালামাল ছিনতাই, থানায় মামলা উন্নয়নের কফিনে কোটি টাকার লাশ: এলজিইডিতে "ভূতুড়ে প্রকল্প" সাম্রাজ্যের নেপথ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম! পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব ছাড়া নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা সম্ভব নয়: বিএবি কর্মশালা প্রতিমন্ত্রী হতে পারে মাওলানা শামীম

কারাগারের ফটকে থামানো শেষ বিদায়: বন্দি অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম

#
news image

কারাবন্দি অবস্থায় একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত কীভাবে আসে, সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম সেখানে শেষবারের মতো দেখেছেন তার স্ত্রী সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের সন্তানের নিথর দেহ।

শনিবার সন্ধ্যায় সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। কারাগারের ফটকেই তাদের শেষবারের মতো স্পর্শ করার সুযোগ পান তিনি। এরপর আবার তাকে কারাগারের নিজ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ।

জেলার ভাষ্য অনুযায়ী, সব নিয়ম মেনেই সন্ধ্যার পর মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার পর জুয়েল হাসান সাদ্দামকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

এর একদিন আগে, শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙা গ্রাম থেকে সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তার শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় ঘরের মেঝে থেকে।

একই ঘরে মা ও শিশুর এমন মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান লাশ উদ্ধারের পর বলেন, এই মৃত্যু নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না। পুলিশ মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময়কার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে কারাবন্দি। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং মরদেহই আনা হয় কারাগারের ফটকে।

জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর জুয়েল হাসান সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় এবং এরপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন।

এই ঘটনায় এখনো একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, শিশুটির মৃত্যু কীভাবে ঘটল, পারিবারিক প্রেক্ষাপট কিংবা এই ট্র্যাজেডির পেছনে অন্য কোনো বিষয় জড়িত কি না—সবই তদন্তাধীন। পুলিশ অনুসন্ধানের কথা বললেও অনেক জায়গায় নীরবতা রয়ে গেছে। কারাগারের ফটকে থেমে যাওয়া সেই শেষ দেখা একদিকে আইনি প্রক্রিয়ার বাস্তবতা তুলে ধরছে, অন্যদিকে মানবিক প্রশ্নও সামনে আনছে—নিয়মের সীমারেখায় দাঁড়িয়ে এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার জায়গা ঠিক কোথায়।

 

মো: গোলাম মোস্তফা

২৫ জানুয়ারি, ২০২৬,  7:25 PM

news image
সংগৃহীত ছবি

কারাবন্দি অবস্থায় একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত কীভাবে আসে, সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম সেখানে শেষবারের মতো দেখেছেন তার স্ত্রী সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের সন্তানের নিথর দেহ।

শনিবার সন্ধ্যায় সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। কারাগারের ফটকেই তাদের শেষবারের মতো স্পর্শ করার সুযোগ পান তিনি। এরপর আবার তাকে কারাগারের নিজ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ।

জেলার ভাষ্য অনুযায়ী, সব নিয়ম মেনেই সন্ধ্যার পর মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার পর জুয়েল হাসান সাদ্দামকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

এর একদিন আগে, শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙা গ্রাম থেকে সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তার শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় ঘরের মেঝে থেকে।

একই ঘরে মা ও শিশুর এমন মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান লাশ উদ্ধারের পর বলেন, এই মৃত্যু নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না। পুলিশ মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময়কার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে কারাবন্দি। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং মরদেহই আনা হয় কারাগারের ফটকে।

জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর জুয়েল হাসান সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় এবং এরপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন।

এই ঘটনায় এখনো একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, শিশুটির মৃত্যু কীভাবে ঘটল, পারিবারিক প্রেক্ষাপট কিংবা এই ট্র্যাজেডির পেছনে অন্য কোনো বিষয় জড়িত কি না—সবই তদন্তাধীন। পুলিশ অনুসন্ধানের কথা বললেও অনেক জায়গায় নীরবতা রয়ে গেছে। কারাগারের ফটকে থেমে যাওয়া সেই শেষ দেখা একদিকে আইনি প্রক্রিয়ার বাস্তবতা তুলে ধরছে, অন্যদিকে মানবিক প্রশ্নও সামনে আনছে—নিয়মের সীমারেখায় দাঁড়িয়ে এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার জায়গা ঠিক কোথায়।