শিরোনামঃ
‘সেদিন জামিন না দিলে ওরা তারেককে মেরেই ফেলত’ ১৬ বছরের নীরব যন্ত্রণা: সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিস্ফোরক ও অশ্রুসজল জবানবন্দি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান আবারও শিক্ষার হাল ধরলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: চাঁদপুরের পাঁচ আসনে চারটিতে বিএনপি এগিয়ে, ফরিদগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মান, স্বীকৃতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বর্তমান মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের অগ্রযাত্রা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি: নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদিত চার লাইনের ব্যালটে লুকানো ৮৪ সিদ্ধান্ত: ভোটাররা কি জানেন ‘হ্যাঁ’ মানে কী? কারাফটকে থেমে গেল শেষ বিদায়: স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম কেন প্যারোলে মুক্তি পেলেন না কারাগারের ফটকে থামানো শেষ বিদায়: বন্দি অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমান: দক্ষ জনশক্তি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে অঙ্গীকার

আবারও শিক্ষার হাল ধরলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

#
news image

রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিনের আলোচনা-গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক-গণশিক্ষা—দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে একই সঙ্গে শিক্ষার দুই স্তরের নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টানা হলো।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পরপরই জানা যায়, শিক্ষাখাতের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ড. মিলন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু নসর আশরাফী পান ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট। আসনের ১১০টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফল ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পূর্ববর্তী দায়িত্বকালে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। পাবলিক পরীক্ষায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়, যা সে সময় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন দায়িত্বে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব থাকবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ড. মিলন বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তার প্রধান লক্ষ্য।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নিবন্ধনধারীদের শিক্ষক শূন্যপদে সুপারিশের দায়িত্বও সংস্থাটির আওতায় আসে।

এছাড়া ফলাফল মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রচলিত বিভাগভিত্তিক ফলাফলের পরিবর্তে জিপিএ ও সিজিপিএ পদ্ধতি চালু করা হয়, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত ও পরিমার্জিত হয়।

১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

মো: গোলাম মোস্তফা

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  6:34 PM

news image
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিনের আলোচনা-গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক-গণশিক্ষা—দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে একই সঙ্গে শিক্ষার দুই স্তরের নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টানা হলো।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পরপরই জানা যায়, শিক্ষাখাতের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ড. মিলন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু নসর আশরাফী পান ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট। আসনের ১১০টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফল ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পূর্ববর্তী দায়িত্বকালে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। পাবলিক পরীক্ষায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়, যা সে সময় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন দায়িত্বে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব থাকবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ড. মিলন বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তার প্রধান লক্ষ্য।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নিবন্ধনধারীদের শিক্ষক শূন্যপদে সুপারিশের দায়িত্বও সংস্থাটির আওতায় আসে।

এছাড়া ফলাফল মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রচলিত বিভাগভিত্তিক ফলাফলের পরিবর্তে জিপিএ ও সিজিপিএ পদ্ধতি চালু করা হয়, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত ও পরিমার্জিত হয়।

১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।