শিরোনামঃ
পিবিআই এর এস আই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন এর একতরফা ও মনগড়া তদন্ত রিপোর্ট সংস্থার কার্যক্রমকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ গুলশানের মিছিলে নেতৃত্বে দেওয়া ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন মতলবের ঝর্ণা অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই: টুঙ্গিপাড়ায় বৃদ্ধার গাছ কেটে বসতভিটা দখলের অভিযোগ পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়না চক্রের জুলুম মামলা-কারাবরণ পেরিয়ে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তোফায়েল পাটোয়ারী নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি রয়েল বিশ্ববিদ্যালয় অব ঢাকা ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও খেলার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ক্ষমতার আড়ালে শিল্প সাম্রাজ্য: পুলিশ কর্মকর্তার ছায়ায় বেনামে ৯৫ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

আবারও শিক্ষার হাল ধরলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

#
news image

রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিনের আলোচনা-গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক-গণশিক্ষা—দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে একই সঙ্গে শিক্ষার দুই স্তরের নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টানা হলো।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পরপরই জানা যায়, শিক্ষাখাতের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ড. মিলন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু নসর আশরাফী পান ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট। আসনের ১১০টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফল ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পূর্ববর্তী দায়িত্বকালে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। পাবলিক পরীক্ষায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়, যা সে সময় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন দায়িত্বে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব থাকবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ড. মিলন বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তার প্রধান লক্ষ্য।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নিবন্ধনধারীদের শিক্ষক শূন্যপদে সুপারিশের দায়িত্বও সংস্থাটির আওতায় আসে।

এছাড়া ফলাফল মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রচলিত বিভাগভিত্তিক ফলাফলের পরিবর্তে জিপিএ ও সিজিপিএ পদ্ধতি চালু করা হয়, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত ও পরিমার্জিত হয়।

১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

মো: গোলাম মোস্তফা

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  6:34 PM

news image
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিনের আলোচনা-গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক-গণশিক্ষা—দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে একই সঙ্গে শিক্ষার দুই স্তরের নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টানা হলো।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পরপরই জানা যায়, শিক্ষাখাতের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ড. মিলন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু নসর আশরাফী পান ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট। আসনের ১১০টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফল ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পূর্ববর্তী দায়িত্বকালে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। পাবলিক পরীক্ষায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়, যা সে সময় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন দায়িত্বে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব থাকবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ড. মিলন বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তার প্রধান লক্ষ্য।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নিবন্ধনধারীদের শিক্ষক শূন্যপদে সুপারিশের দায়িত্বও সংস্থাটির আওতায় আসে।

এছাড়া ফলাফল মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রচলিত বিভাগভিত্তিক ফলাফলের পরিবর্তে জিপিএ ও সিজিপিএ পদ্ধতি চালু করা হয়, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত ও পরিমার্জিত হয়।

১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।