শিরোনামঃ
‘সেদিন জামিন না দিলে ওরা তারেককে মেরেই ফেলত’ ১৬ বছরের নীরব যন্ত্রণা: সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিস্ফোরক ও অশ্রুসজল জবানবন্দি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান আবারও শিক্ষার হাল ধরলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: চাঁদপুরের পাঁচ আসনে চারটিতে বিএনপি এগিয়ে, ফরিদগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মান, স্বীকৃতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বর্তমান মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের অগ্রযাত্রা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি: নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদিত চার লাইনের ব্যালটে লুকানো ৮৪ সিদ্ধান্ত: ভোটাররা কি জানেন ‘হ্যাঁ’ মানে কী? কারাফটকে থেমে গেল শেষ বিদায়: স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম কেন প্যারোলে মুক্তি পেলেন না কারাগারের ফটকে থামানো শেষ বিদায়: বন্দি অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমান: দক্ষ জনশক্তি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে অঙ্গীকার

‘সেদিন জামিন না দিলে ওরা তারেককে মেরেই ফেলত’ ১৬ বছরের নীরব যন্ত্রণা: সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিস্ফোরক ও অশ্রুসজল জবানবন্দি

#
news image

“জয়নুল, গেট রেডি, আমি তোমাকে প্রেসিডেন্ট বানাবো”— বেগম জিয়ার সেই বিশ্বাসের আমানত রক্ষায় এক বিচারপতির নিঃসঙ্গ লড়াই

“সেদিন যদি আমি সাহসের সঙ্গে আইনি কলমটা না চালাতাম, তবে আজ আমরা এক ভিন্ন বাংলাদেশ দেখতাম। আওয়ামী লীগ আসলে সেই সময়কার যে পৈশাচিক পরিস্থিতি ছিল, তাতে তারেক রহমানকে সেদিন জেলের ভেতর মেরেই ফেলা হতো। ওর হাত-পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। আমি নিচ থেকে সব দেখছিলাম—ওদের চোখেমুখে ছিল খুনের নেশা।”

দীর্ঘ ১৬ বছর বুকের ভেতর চেপে রাখা আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কাঁপা গলায় কথাগুলো বলছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন। এটি কেবল ২০০৮ সালের একটি আইনি লড়াইয়ের গল্প নয়; এটি এক বিচারপতির রক্তক্ষরণ, এক মায়ের (বেগম খালেদা জিয়া) অশ্রুসজল বিশ্বাস আর সত্যের পক্ষে চলতে গিয়ে দীর্ঘ এক দশকের নিঃসঙ্গ নিপীড়নের করুণ আখ্যান।

‘তুমি আমার বড় ছেলের মতো, ওকে দেখো’: এক মায়ের আমানত রক্ষায় বিচারপতি আবেদীন

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজ আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বলেন, “বেগম জিয়া আমাকে নিজের বড় ছেলের মতো স্নেহ করতেন। তিনি আমাকে একবার নয়, একাধিকবার বলেছিলেন—জয়নুল, তুমি কিন্তু আমার বড় ছেলের মতো। ওরা তো ছোট, তুমি ওদের দেখো। এমনকি তিনি আমাকে সরাসরি বলেছিলেন—জয়নুল, গেট রেডি, আমি তোমাকে দেশের প্রেসিডেন্ট বানাবো।”

“সেদিন আদালত কক্ষে তারেক রহমানের সেই যন্ত্রণাকাতর মুখটা দেখে আমার কানে কেবল এক অসহায় মায়ের সেই আমানতের আর্তনাদ বাজছিল। আমি জানতাম, সেদিন যদি জামিন না দিতাম, তবে তারেক রহমান জেলের অন্ধকার কুঠুরি থেকে আর জীবিত বের হতে পারত না।”

২০০৮: যখন বিচারালয়ে কাঁপছিল ক্ষমতার রক্তচক্ষু

সেদিন আপিল বিভাগের সেই তপ্ত দুপুরে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পাশে বসা অন্য দুই বিচারপতির চোখে ছিল সীমাহীন আতঙ্ক। বিচারপতি আবেদীন বলেন,

“ওরা আমার কানে ফিসফিস করে বলছিল—স্যার, আমাদের চাকরি থাকবে না। ওদিক থেকে মেসেজ এসেছে, ও যেন কোনোভাবেই জামিন না পায়। ও চালিয়ে যাবে।”

“আমি ওদের সাফ বলেছিলাম—ও চালাবে কি না সেটা পরে দেখা যাবে; কিন্তু আমি বিচারকের শপথের মর্যাদা রক্ষা করব। বিচারকের মতো কাজ করুন। আইন অনুযায়ী জামিন প্রাপ্য হলে আমরা দিতে বাধ্য।” নিজের ক্যারিয়ার বা জীবনের তোয়াক্কা না করে সেদিন তিনি একাই লড়েছিলেন ক্ষমতার বিরুদ্ধে।

১৬ বছরের জীবন্ত নির্বাসন ও রাজকীয় বঞ্চনা

আইন মেনে সত্য রায় দেওয়ার অপরাধে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে গত ১৬ বছর একপ্রকার জীবন্ত নির্বাসন ভোগ করতে হয়েছে। যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থাকলেও তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়নি। তাঁর চোখের সামনে কনিষ্ঠদের উচ্চপদে বসিয়ে প্রতিদিন তিলে তিলে অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা সরকার আমাকে ১৬ বছর নিগৃহীত করেছে। শুধুই এজন্য যে আমি সেদিন তারেক রহমানকে মুক্তি দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ যখন দেখি সেই তারেক রহমানই দেশের মানুষের আশা-ভরসা, তখন মনে হয় আমার সেই ত্যাগ আর চোখের জল আজ সার্থক হয়েছে। আমার চেয়ে বেশি খুশি আজ কেউ হবে না।”

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা ও আগামী দিনের স্বপ্ন

প্রতিহিংসার আগুনে পুড়লেও বিচারপতি আবেদীনের হৃদয়ে আজ কোনো ঘৃণা নেই। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন এক বাংলাদেশের, যেখানে কোনো বিচারককে ইশারায় রায় লিখতে হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “তারেক রহমান আজ দেশের আশার আলো। আমি তাঁর সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করছি। আমি চাই তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করতে, তাঁকে শুভকামনা জানাতে। আমি দোয়া করি তিনি যেন সফল রাষ্ট্রনায়ক হন। তিনি যেন প্রতিহিংসার বদলে সুশাসন উপহার দেন।” দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একজন অভিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে দেশসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ও ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি কোয়ালিফায়েড লোক। বেগম জিয়া আমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। আজ দেশ চাইলে আমি সেই দায়িত্ব নিতে পারি। তবে সবকিছুই তারেক রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিলাম।” বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের এই জবানবন্দি আজ কেবল সংবাদ নয়; বরং বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।

 

 

মো: ফয়সাল আলম

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  9:28 PM

news image
বিচারপতি জয়নুল আবেদীন

“জয়নুল, গেট রেডি, আমি তোমাকে প্রেসিডেন্ট বানাবো”— বেগম জিয়ার সেই বিশ্বাসের আমানত রক্ষায় এক বিচারপতির নিঃসঙ্গ লড়াই

“সেদিন যদি আমি সাহসের সঙ্গে আইনি কলমটা না চালাতাম, তবে আজ আমরা এক ভিন্ন বাংলাদেশ দেখতাম। আওয়ামী লীগ আসলে সেই সময়কার যে পৈশাচিক পরিস্থিতি ছিল, তাতে তারেক রহমানকে সেদিন জেলের ভেতর মেরেই ফেলা হতো। ওর হাত-পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। আমি নিচ থেকে সব দেখছিলাম—ওদের চোখেমুখে ছিল খুনের নেশা।”

দীর্ঘ ১৬ বছর বুকের ভেতর চেপে রাখা আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কাঁপা গলায় কথাগুলো বলছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন। এটি কেবল ২০০৮ সালের একটি আইনি লড়াইয়ের গল্প নয়; এটি এক বিচারপতির রক্তক্ষরণ, এক মায়ের (বেগম খালেদা জিয়া) অশ্রুসজল বিশ্বাস আর সত্যের পক্ষে চলতে গিয়ে দীর্ঘ এক দশকের নিঃসঙ্গ নিপীড়নের করুণ আখ্যান।

‘তুমি আমার বড় ছেলের মতো, ওকে দেখো’: এক মায়ের আমানত রক্ষায় বিচারপতি আবেদীন

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজ আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বলেন, “বেগম জিয়া আমাকে নিজের বড় ছেলের মতো স্নেহ করতেন। তিনি আমাকে একবার নয়, একাধিকবার বলেছিলেন—জয়নুল, তুমি কিন্তু আমার বড় ছেলের মতো। ওরা তো ছোট, তুমি ওদের দেখো। এমনকি তিনি আমাকে সরাসরি বলেছিলেন—জয়নুল, গেট রেডি, আমি তোমাকে দেশের প্রেসিডেন্ট বানাবো।”

“সেদিন আদালত কক্ষে তারেক রহমানের সেই যন্ত্রণাকাতর মুখটা দেখে আমার কানে কেবল এক অসহায় মায়ের সেই আমানতের আর্তনাদ বাজছিল। আমি জানতাম, সেদিন যদি জামিন না দিতাম, তবে তারেক রহমান জেলের অন্ধকার কুঠুরি থেকে আর জীবিত বের হতে পারত না।”

২০০৮: যখন বিচারালয়ে কাঁপছিল ক্ষমতার রক্তচক্ষু

সেদিন আপিল বিভাগের সেই তপ্ত দুপুরে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পাশে বসা অন্য দুই বিচারপতির চোখে ছিল সীমাহীন আতঙ্ক। বিচারপতি আবেদীন বলেন,

“ওরা আমার কানে ফিসফিস করে বলছিল—স্যার, আমাদের চাকরি থাকবে না। ওদিক থেকে মেসেজ এসেছে, ও যেন কোনোভাবেই জামিন না পায়। ও চালিয়ে যাবে।”

“আমি ওদের সাফ বলেছিলাম—ও চালাবে কি না সেটা পরে দেখা যাবে; কিন্তু আমি বিচারকের শপথের মর্যাদা রক্ষা করব। বিচারকের মতো কাজ করুন। আইন অনুযায়ী জামিন প্রাপ্য হলে আমরা দিতে বাধ্য।” নিজের ক্যারিয়ার বা জীবনের তোয়াক্কা না করে সেদিন তিনি একাই লড়েছিলেন ক্ষমতার বিরুদ্ধে।

১৬ বছরের জীবন্ত নির্বাসন ও রাজকীয় বঞ্চনা

আইন মেনে সত্য রায় দেওয়ার অপরাধে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে গত ১৬ বছর একপ্রকার জীবন্ত নির্বাসন ভোগ করতে হয়েছে। যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থাকলেও তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়নি। তাঁর চোখের সামনে কনিষ্ঠদের উচ্চপদে বসিয়ে প্রতিদিন তিলে তিলে অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা সরকার আমাকে ১৬ বছর নিগৃহীত করেছে। শুধুই এজন্য যে আমি সেদিন তারেক রহমানকে মুক্তি দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ যখন দেখি সেই তারেক রহমানই দেশের মানুষের আশা-ভরসা, তখন মনে হয় আমার সেই ত্যাগ আর চোখের জল আজ সার্থক হয়েছে। আমার চেয়ে বেশি খুশি আজ কেউ হবে না।”

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা ও আগামী দিনের স্বপ্ন

প্রতিহিংসার আগুনে পুড়লেও বিচারপতি আবেদীনের হৃদয়ে আজ কোনো ঘৃণা নেই। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন এক বাংলাদেশের, যেখানে কোনো বিচারককে ইশারায় রায় লিখতে হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “তারেক রহমান আজ দেশের আশার আলো। আমি তাঁর সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করছি। আমি চাই তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করতে, তাঁকে শুভকামনা জানাতে। আমি দোয়া করি তিনি যেন সফল রাষ্ট্রনায়ক হন। তিনি যেন প্রতিহিংসার বদলে সুশাসন উপহার দেন।” দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একজন অভিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে দেশসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ও ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি কোয়ালিফায়েড লোক। বেগম জিয়া আমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। আজ দেশ চাইলে আমি সেই দায়িত্ব নিতে পারি। তবে সবকিছুই তারেক রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিলাম।” বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের এই জবানবন্দি আজ কেবল সংবাদ নয়; বরং বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।