শিরোনামঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি: নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদিত চার লাইনের ব্যালটে লুকানো ৮৪ সিদ্ধান্ত: ভোটাররা কি জানেন ‘হ্যাঁ’ মানে কী? কারাফটকে থেমে গেল শেষ বিদায়: স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম কেন প্যারোলে মুক্তি পেলেন না কারাগারের ফটকে থামানো শেষ বিদায়: বন্দি অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমান: দক্ষ জনশক্তি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে অঙ্গীকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা পড়ল কমিশনের সুপারিশ এসআই আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বিচারিক কাজে বাধার অভিযোগে রুমিন ফারহানার বিষয়ে ব্যবস্থা চেয়ে চিঠি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১০ম বর্ষে পদার্পন করল সকালের সময়

কারাফটকে থেমে গেল শেষ বিদায়: স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম কেন প্যারোলে মুক্তি পেলেন না

#
news image

জুমার নামাজ শেষে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এক মর্মান্তিক খবর—একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে এক গৃহবধূ ও তার নয় মাস বয়সী শিশুসন্তানের নিথর দেহ। মুহূর্তেই ঘটনাটি স্থানীয় কৌতূহল ছাড়িয়ে যায় তদন্ত ও প্রশাসনিক জটিলতার কেন্দ্রে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ বছর বয়সী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালীর মরদেহ পাওয়া যায় স্বামীর বাড়ির সিলিংয়ের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায়। একই ঘরে ছিল তার শিশুসন্তান সেজাদ হাসান ওরফে নাজিফের নিথর দেহ। শিশুটিকে বাথরুমের বালতির পানিতে পাওয়া যায়। শিশুটি তখনো বাঁচতে পারে—এই আশায় স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।

কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকিয়া হক জানান, শিশুটিকে যখন আনা হয়, তখন সে আর জীবিত ছিল না। তিনি বলেন, পানিতে পড়া রোগী এলে উদ্ধার শ্বাস (রেসকিউ ব্রেথ) দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুটি কীভাবে পানিতে গেল—নিজে পড়ে নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ৪৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়েও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কানিজের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায় কানিজ ছিলেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের স্ত্রী। সাদ্দাম তখন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।

আত্মহত্যা না হত্যা—কোথায় প্রশ্নের ফাঁক

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় লোকজন ও কানিজের স্বজনদের একটি অংশ দাবি করেন, স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারার হতাশা ও মানসিক অবসাদ থেকেই কানিজ এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন তার পরিবারের সবাই।

রোববার দুপুরে কানিজের ভাই শাহ নেওয়াজ আমিন বলেন, এই ঘটনায় একাধিক তথ্যগত ফাঁক রয়েছে। তার ভাষায়, নামাজের পর আনুমানিক দুপুর ১টা ৪০ থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে খবর শোনা যায়, অথচ সে সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিল না। তিনি দাবি করেন, তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

কানিজের বাবা, জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মো. রুহুল আমিন, এই ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—কানিজ আত্মহত্যা করলেও শিশুটি কীভাবে মারা গেল? তার মতে, এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।

পারিবারিক টানাপোড়েন ও মানসিক চাপের দাবি

সাদ্দামের ছোট ভাই মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও পরে বিয়েটি মেনে নেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কানিজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার ভাষায়, বিভিন্নজন তাকে বলতেন সাদ্দাম কখনোই মুক্তি পাবেন না, এমনকি মুক্তি পেলেও তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে—এসব কথায় কানিজ গভীর হতাশায় ছিলেন। শহিদুল ইসলাম জানান, সাদ্দামের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১১টি মামলা রয়েছে, যেগুলো তাদের দাবি অনুযায়ী রাজনৈতিক। চারবার জামিন হলেও নতুন মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 কারাফটকে সীমিত সময়ের শেষ দেখা

কানিজ ও শিশুসন্তানের মৃত্যুর খবর পৌঁছালেও সাদ্দাম প্যারোলে মুক্তি পাননি। শুক্রবার মরদেহ দুটি লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ মিনিটেরও কম সময় স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ পান তিনি।

সাদ্দামের ভাইয়ের বর্ণনায়, তিনি শিশুটিকে কোলে নিতে পারেননি। সন্তানের মাথায় হাত রেখে নিজের অক্ষমতার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। কানিজের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম শুধু স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানান।

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর উদ্দেশে লেখা বলে দাবি করা একটি চিঠি ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

প্যারোল প্রশ্নে প্রশাসনিক জটিলতা

২০২৫ সালের এপ্রিলে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন জানান, তিনি প্রথমে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। পরে জানানো হয়, যেহেতু বন্দী যশোর কারাগারে আছেন, প্যারোলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। পরিবারের দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা স্পষ্টভাবে জানতেন না।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, লিখিত আবেদন জমা পড়েছিল, তবে সঠিক কর্তৃপক্ষ যশোরে আবেদন করতে বলা হয়। যশোরে আদৌ আবেদন করা হয়েছিল কি না, তা তাদের জানা নেই।

যশোর প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষের অবস্থান

যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলের জন্য যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি। মৌখিক অনুরোধের ভিত্তিতে মানবিক কারণে কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, প্যারোল দেওয়ার এখতিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। কারা কর্তৃপক্ষ কেবল আদেশ বাস্তবায়ন করে। তাদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই অবস্থান তুলে ধরে জানায়, প্যারোলের কোনো আবেদন না থাকায় মুক্তির প্রশ্ন ওঠেনি। তবে মানবিক বিবেচনায় লাশ দেখানোর সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে।

তদন্তের অপেক্ষায় উত্তর

পুলিশ জানায়,সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে কানিজের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শিশুটির মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে পানি পাওয়া গেছে। বাগেরহাট সদর থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একদিকে রহস্যজনক মৃত্যু, অন্যদিকে প্যারোল সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা—এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একাধিক প্রশ্ন। কেন প্যারোল কার্যকর হলো না, কীভাবে তথ্যের ঘাটতি তৈরি হলো, আর কার দায়িত্বে ছিল সিদ্ধান্তের শেষ সীমারেখা—তদন্তই হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে।

মো: গোলাম মোস্তফা

২৬ জানুয়ারি, ২০২৬,  1:35 AM

news image
সংগৃহীত ছবি

জুমার নামাজ শেষে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এক মর্মান্তিক খবর—একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে এক গৃহবধূ ও তার নয় মাস বয়সী শিশুসন্তানের নিথর দেহ। মুহূর্তেই ঘটনাটি স্থানীয় কৌতূহল ছাড়িয়ে যায় তদন্ত ও প্রশাসনিক জটিলতার কেন্দ্রে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ বছর বয়সী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালীর মরদেহ পাওয়া যায় স্বামীর বাড়ির সিলিংয়ের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায়। একই ঘরে ছিল তার শিশুসন্তান সেজাদ হাসান ওরফে নাজিফের নিথর দেহ। শিশুটিকে বাথরুমের বালতির পানিতে পাওয়া যায়। শিশুটি তখনো বাঁচতে পারে—এই আশায় স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।

কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকিয়া হক জানান, শিশুটিকে যখন আনা হয়, তখন সে আর জীবিত ছিল না। তিনি বলেন, পানিতে পড়া রোগী এলে উদ্ধার শ্বাস (রেসকিউ ব্রেথ) দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুটি কীভাবে পানিতে গেল—নিজে পড়ে নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ৪৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়েও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কানিজের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায় কানিজ ছিলেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের স্ত্রী। সাদ্দাম তখন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।

আত্মহত্যা না হত্যা—কোথায় প্রশ্নের ফাঁক

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় লোকজন ও কানিজের স্বজনদের একটি অংশ দাবি করেন, স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারার হতাশা ও মানসিক অবসাদ থেকেই কানিজ এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন তার পরিবারের সবাই।

রোববার দুপুরে কানিজের ভাই শাহ নেওয়াজ আমিন বলেন, এই ঘটনায় একাধিক তথ্যগত ফাঁক রয়েছে। তার ভাষায়, নামাজের পর আনুমানিক দুপুর ১টা ৪০ থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে খবর শোনা যায়, অথচ সে সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিল না। তিনি দাবি করেন, তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

কানিজের বাবা, জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মো. রুহুল আমিন, এই ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—কানিজ আত্মহত্যা করলেও শিশুটি কীভাবে মারা গেল? তার মতে, এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।

পারিবারিক টানাপোড়েন ও মানসিক চাপের দাবি

সাদ্দামের ছোট ভাই মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও পরে বিয়েটি মেনে নেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কানিজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার ভাষায়, বিভিন্নজন তাকে বলতেন সাদ্দাম কখনোই মুক্তি পাবেন না, এমনকি মুক্তি পেলেও তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে—এসব কথায় কানিজ গভীর হতাশায় ছিলেন। শহিদুল ইসলাম জানান, সাদ্দামের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১১টি মামলা রয়েছে, যেগুলো তাদের দাবি অনুযায়ী রাজনৈতিক। চারবার জামিন হলেও নতুন মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 কারাফটকে সীমিত সময়ের শেষ দেখা

কানিজ ও শিশুসন্তানের মৃত্যুর খবর পৌঁছালেও সাদ্দাম প্যারোলে মুক্তি পাননি। শুক্রবার মরদেহ দুটি লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ মিনিটেরও কম সময় স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ পান তিনি।

সাদ্দামের ভাইয়ের বর্ণনায়, তিনি শিশুটিকে কোলে নিতে পারেননি। সন্তানের মাথায় হাত রেখে নিজের অক্ষমতার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। কানিজের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম শুধু স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানান।

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর উদ্দেশে লেখা বলে দাবি করা একটি চিঠি ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

প্যারোল প্রশ্নে প্রশাসনিক জটিলতা

২০২৫ সালের এপ্রিলে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন জানান, তিনি প্রথমে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। পরে জানানো হয়, যেহেতু বন্দী যশোর কারাগারে আছেন, প্যারোলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। পরিবারের দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা স্পষ্টভাবে জানতেন না।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, লিখিত আবেদন জমা পড়েছিল, তবে সঠিক কর্তৃপক্ষ যশোরে আবেদন করতে বলা হয়। যশোরে আদৌ আবেদন করা হয়েছিল কি না, তা তাদের জানা নেই।

যশোর প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষের অবস্থান

যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলের জন্য যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি। মৌখিক অনুরোধের ভিত্তিতে মানবিক কারণে কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, প্যারোল দেওয়ার এখতিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। কারা কর্তৃপক্ষ কেবল আদেশ বাস্তবায়ন করে। তাদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই অবস্থান তুলে ধরে জানায়, প্যারোলের কোনো আবেদন না থাকায় মুক্তির প্রশ্ন ওঠেনি। তবে মানবিক বিবেচনায় লাশ দেখানোর সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে।

তদন্তের অপেক্ষায় উত্তর

পুলিশ জানায়,সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে কানিজের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শিশুটির মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে পানি পাওয়া গেছে। বাগেরহাট সদর থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একদিকে রহস্যজনক মৃত্যু, অন্যদিকে প্যারোল সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা—এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একাধিক প্রশ্ন। কেন প্যারোল কার্যকর হলো না, কীভাবে তথ্যের ঘাটতি তৈরি হলো, আর কার দায়িত্বে ছিল সিদ্ধান্তের শেষ সীমারেখা—তদন্তই হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে।