শিরোনামঃ
উন্নয়নের কফিনে কোটি টাকার লাশ: এলজিইডিতে "ভূতুড়ে প্রকল্প" সাম্রাজ্যের নেপথ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম! পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব ছাড়া নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা সম্ভব নয়: বিএবি কর্মশালা প্রতিমন্ত্রী হতে পারে মাওলানা শামীম সকলের সময়ের নির্বাহী সম্পাদককে হত্যার হুমকি রায়পুরায় মেঘনা গ্রুপের থাবায় ফসলি, অকৃষি, সরকারি খাস জমি ও কাঁকন নদী অনিক ও সোহেলের ভুয়া “প্রাচীন পিলার ও কয়েন” চক্রে নিঃস্ব হচ্ছে অনেকে ছাত্রদের সৎ, চরিত্রবান ও দেশ প্রেমে উদ্যোগী হতে হবে : নূর হাকিম মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের শিকার দুদক মহাপরিচালক, আটক ২

উন্নয়নের কফিনে কোটি টাকার লাশ: এলজিইডিতে "ভূতুড়ে প্রকল্প" সাম্রাজ্যের নেপথ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম!

#
news image

রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেট কি জনগণের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে, নাকি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদ তৈরির গোপন কারখানায় পরিণত হয়েছে সরকারি প্রকল্পগুলো? পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর ভয়াবহ অনিয়ম ও লুটপাটের চিত্র সামনে আসার পর এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

কাগজে-কলমে উন্নয়ন, বাস্তবে শূন্য - বহুদিনের সেই পুরনো অভিযোগ যেন এবার আরও নগ্নভাবে উন্মোচিত হয়েছে। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে শত শত "ভূতুড়ে প্রকল্প"-এর তথ্য, যেখানে বাস্তবে কোনো কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও নেই রাস্তা, নেই অবকাঠামো, নেই পুনর্বাসনের দৃশ্যমান কাজ; অথচ সরকারি নথিতে সবকিছুই "সম্পন্ন" দেখানো হয়েছে।

এই বিশাল দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের নাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রভাব ছাড়া এত বড় পরিসরের আর্থিক জালিয়াতি কার্যত অসম্ভব ছিল।

দুদকের অনুসন্ধান নথি অনুযায়ী, IBRP, CAFDARID, PDRIDP এবং BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় অন্তত ১২৮টি ভুয়া বা কল্পিত স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উত্তোলিত অর্থের বড় অংশই আত্মসাৎ করা হয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রকল্প CAFDARID। অভিযোগ রয়েছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার নামে ৬৯টি ভূতুড়ে স্কিম দেখিয়ে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি বিল উত্তোলন করা হয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের সময় বরাদ্দ হওয়া অর্থও রক্ষা পায়নি দুর্নীতির থাবা থেকে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলার মতো ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ও পরে মাঠপর্যায়ের যাচাই, পরিমাপ বই (Measurement Book), তদারকি প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বহু প্রকল্পেই এসবের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে আত্মীয়স্বজন ও বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অনেক প্রকল্পের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যন্ত কিছু জানেন না। কোথাও কাজ হয়নি, অথচ সরকারি খাতায় প্রকল্প শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন - যখন দুদক শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে, তখনও তিনি কীভাবে বহাল তবিয়তে স্বপদে দায়িত্ব পালন করছেন?

জনমনে আরও প্রশ্ন উঠেছে, কোটি কোটি টাকার বিল পাস, প্রকল্প অনুমোদন এবং নিরীক্ষা ছাড়ের পেছনে শুধুই কয়েকজন প্রকৌশলী জড়িত, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া?

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নের নামে এ ধরনের লুটপাট শুধু আর্থিক অপরাধ নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যকার বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ যদি দুর্নীতির অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যায়, তাহলে "উন্নয়ন" শব্দটাই একসময় সাধারণ মানুষের কাছে প্রতারণার প্রতীকে পরিণত হবে।

এখন সচেতন মহলের দাবি একটাই - দুদকের মামলা যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের অর্থ লুটের দায় শুধু আইনের আদালতেই নয়, জনগণের আদালতেও একদিন বিচার হবে।

মো: গোলাম মোস্তফা

১৯ মে, ২০২৬,  3:57 PM

news image
শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম

রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেট কি জনগণের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে, নাকি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদ তৈরির গোপন কারখানায় পরিণত হয়েছে সরকারি প্রকল্পগুলো? পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর ভয়াবহ অনিয়ম ও লুটপাটের চিত্র সামনে আসার পর এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

কাগজে-কলমে উন্নয়ন, বাস্তবে শূন্য - বহুদিনের সেই পুরনো অভিযোগ যেন এবার আরও নগ্নভাবে উন্মোচিত হয়েছে। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে শত শত "ভূতুড়ে প্রকল্প"-এর তথ্য, যেখানে বাস্তবে কোনো কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও নেই রাস্তা, নেই অবকাঠামো, নেই পুনর্বাসনের দৃশ্যমান কাজ; অথচ সরকারি নথিতে সবকিছুই "সম্পন্ন" দেখানো হয়েছে।

এই বিশাল দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের নাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রভাব ছাড়া এত বড় পরিসরের আর্থিক জালিয়াতি কার্যত অসম্ভব ছিল।

দুদকের অনুসন্ধান নথি অনুযায়ী, IBRP, CAFDARID, PDRIDP এবং BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় অন্তত ১২৮টি ভুয়া বা কল্পিত স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উত্তোলিত অর্থের বড় অংশই আত্মসাৎ করা হয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রকল্প CAFDARID। অভিযোগ রয়েছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার নামে ৬৯টি ভূতুড়ে স্কিম দেখিয়ে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি বিল উত্তোলন করা হয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের সময় বরাদ্দ হওয়া অর্থও রক্ষা পায়নি দুর্নীতির থাবা থেকে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলার মতো ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ও পরে মাঠপর্যায়ের যাচাই, পরিমাপ বই (Measurement Book), তদারকি প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বহু প্রকল্পেই এসবের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে আত্মীয়স্বজন ও বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অনেক প্রকল্পের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যন্ত কিছু জানেন না। কোথাও কাজ হয়নি, অথচ সরকারি খাতায় প্রকল্প শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন - যখন দুদক শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে, তখনও তিনি কীভাবে বহাল তবিয়তে স্বপদে দায়িত্ব পালন করছেন?

জনমনে আরও প্রশ্ন উঠেছে, কোটি কোটি টাকার বিল পাস, প্রকল্প অনুমোদন এবং নিরীক্ষা ছাড়ের পেছনে শুধুই কয়েকজন প্রকৌশলী জড়িত, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া?

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নের নামে এ ধরনের লুটপাট শুধু আর্থিক অপরাধ নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যকার বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ যদি দুর্নীতির অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যায়, তাহলে "উন্নয়ন" শব্দটাই একসময় সাধারণ মানুষের কাছে প্রতারণার প্রতীকে পরিণত হবে।

এখন সচেতন মহলের দাবি একটাই - দুদকের মামলা যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের অর্থ লুটের দায় শুধু আইনের আদালতেই নয়, জনগণের আদালতেও একদিন বিচার হবে।