শিরোনামঃ
বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের কমিটি ঘিরে পদায়ন ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ মহানগর নাট্যমঞ্চ এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য পিবিআই এর এস আই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন এর একতরফা ও মনগড়া তদন্ত রিপোর্ট সংস্থার কার্যক্রমকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ গুলশানের মিছিলে নেতৃত্বে দেওয়া ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন মতলবের ঝর্ণা অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই: টুঙ্গিপাড়ায় বৃদ্ধার গাছ কেটে বসতভিটা দখলের অভিযোগ পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়না চক্রের জুলুম মামলা-কারাবরণ পেরিয়ে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তোফায়েল পাটোয়ারী নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি

ফারুকীর মুখে মোশাররফের উত্থানের গল্প

#
news image

প্রশংসিত অভিনেতা মোশাররফ করিমের উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা আছে পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর। ২০০৪ সালে প্রচারিত ‘ক্যারাম’ টেলিফিল্ম নতুন করে চেনায় এ অভিনেতাকে। যার নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

আজ (২২ আগস্ট) মোশাররফ করিমের জন্মদিন। এদিনকে ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনেতাকে নিয়ে স্মৃতি শেয়ার করেছেন ফারুকী। 

যেখানে জানান কীভাবে মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজের শুরু এবং তিনি তার মেধার পরিচয় দিয়েছেন, সেটাও।

এই নির্মাতা লেখেন, ‘‘মোশাররফ করিমের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ ‘ক্যারাম’! ‘ক্যারাম’ কাজটা মূলত দুইটা জিনিসের অনুপ্রেরণায় বানানো। প্রথমটা হলো ছোটবেলায় ক্যারামে আমার নিদারুণ ব্যর্থতা। মাসুদ, বাবলু, এমনকি জাহাঙ্গীরের কাছেও হারতাম। কিন্তু পরাজয়টা কখনোই মানতাম না। দ্বিতীয় অনুপ্রেরণা হচ্ছে আমাদের শুটিং বাড়ির ক্যারাম টুর্নামেন্ট। আমি আর আমরা সব ভাই-ব্রাদার এক সাথে থাকতাম সেখানে- এটা সবাই জানেন। সেই আবাসিক ক্যাম্পে আমরা আবিষ্কার করি, কচি খন্দকার মোটামুটি আমার ছোটবেলার বুড়ো ভার্সন! তখন আমরা প্রতি খেলায় হারার পর কচিকে অত্যাচার করার নানা সৃজনশীল উপায় আবিষ্কার করি। এবং কচি ঘেপেঘুপে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমি ঠিক করলাম এই সব নিয়েই ক্যারাম নামে একটা টেলিফিল্ম বানাবো। এবং কচি খন্দকারের প্রতি অত্যাচারের প্রতিদান হিসাবে তাকে স্ক্রিপ্ট রাইটার ক্রেডিট দিই। যদিও স্ক্রিপ্ট লেখা সেশনের সাথে তার আদতে কোনও সংস্পর্শ ছিল না!’

ফারুকী আরও লেখেন, ‘আমি স্ক্রিপ্ট লেখি সোফায় শুয়ে শুয়ে। লেখি না আসলে, দৃশ্য বলি! মাহমুদ আর সুজন সেটা কাগজে কপি করে। স্ক্রিপ্টের মাঝ পর্যায়ে মোশাররফ করিম আসেন আমাদের ক্যাম্পে। তাকে কাস্ট করার পর আমার ওপর চাপ বেড়ে যায়। একজন সাংবাদিক ফোন করে বললেন, বস, আপনি শিওর উনি পারবেন? উনি কিন্তু প্রমিনেন্ট কেউ না। আমি বললাম, হি উইল বি প্রমিনেন্ট প্রিটি সুন! সেই সাংবাদিক আমার ফ্রেন্ডলিস্টেও আছেন!’

শুটিং প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘তারপর শুটিংয়ে যাই কুমিল্লায়। প্রথম দিন উনি খুবই চাপে ছিলেন। আমি তখন কৌশলে কম চাপওয়ালা দৃশ্যগুলো করতে থাকি। আর উনাকে আমার সিস্টেমের মধ্যে ধীরে ধীরে ঢোকাতে থাকি। এটা একটা প্রক্রিয়া যেটা শুধু রিহার্সেল করে সম্ভব না। এটা হচ্ছে একটা হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ। যেখানে আমরা আলোচনা করি কবিতা নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে, দেশ নিয়ে। এসব করতে করতে কখন যে আলগোছে আমরা একজন আরেকজনের মাথার ভেতরে ঢুকে বসে যাই! এই ঢোকাটা হয়ে গেলে, বাকিটা তো ইশারায় হয়ে যা।’ 

শেষটা করেন এভাবে, ‘‘ক্যারাম’ আর ‘৪২০’র পর ওই সাংবাদিক ভাইটাই আমাকে এক অনুষ্ঠানে বলেন, না বস, মোশাররফ ইজ আ জিনিয়াস। আজকে সবাই জানে, হি ইজ আ জিনিয়াস। দীর্ঘায়ু হন মোশাররফ ভাই। আর ভালো ভালো কাজ করেন। ইউ হ্যাভ আ লট টু অফার।’

‘ক্যারাম’র পর ‘ক্যারাম’ দ্বিতীয়পত্র টেলিফিল্মেও অভিনয় করেন মোশারফ। এরপর ‘৪২০’ নাটক মোশাররফ জনপ্রিয়তার অন্যরকম স্তরে নিয়ে যায়। একই নির্মাতার ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ ও ‘টেলিভিশন’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।

প্রভাতী খবর ডেস্ক

২২ আগস্ট, ২০২২,  11:59 PM

news image

প্রশংসিত অভিনেতা মোশাররফ করিমের উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা আছে পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর। ২০০৪ সালে প্রচারিত ‘ক্যারাম’ টেলিফিল্ম নতুন করে চেনায় এ অভিনেতাকে। যার নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

আজ (২২ আগস্ট) মোশাররফ করিমের জন্মদিন। এদিনকে ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনেতাকে নিয়ে স্মৃতি শেয়ার করেছেন ফারুকী। 

যেখানে জানান কীভাবে মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজের শুরু এবং তিনি তার মেধার পরিচয় দিয়েছেন, সেটাও।

এই নির্মাতা লেখেন, ‘‘মোশাররফ করিমের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ ‘ক্যারাম’! ‘ক্যারাম’ কাজটা মূলত দুইটা জিনিসের অনুপ্রেরণায় বানানো। প্রথমটা হলো ছোটবেলায় ক্যারামে আমার নিদারুণ ব্যর্থতা। মাসুদ, বাবলু, এমনকি জাহাঙ্গীরের কাছেও হারতাম। কিন্তু পরাজয়টা কখনোই মানতাম না। দ্বিতীয় অনুপ্রেরণা হচ্ছে আমাদের শুটিং বাড়ির ক্যারাম টুর্নামেন্ট। আমি আর আমরা সব ভাই-ব্রাদার এক সাথে থাকতাম সেখানে- এটা সবাই জানেন। সেই আবাসিক ক্যাম্পে আমরা আবিষ্কার করি, কচি খন্দকার মোটামুটি আমার ছোটবেলার বুড়ো ভার্সন! তখন আমরা প্রতি খেলায় হারার পর কচিকে অত্যাচার করার নানা সৃজনশীল উপায় আবিষ্কার করি। এবং কচি ঘেপেঘুপে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমি ঠিক করলাম এই সব নিয়েই ক্যারাম নামে একটা টেলিফিল্ম বানাবো। এবং কচি খন্দকারের প্রতি অত্যাচারের প্রতিদান হিসাবে তাকে স্ক্রিপ্ট রাইটার ক্রেডিট দিই। যদিও স্ক্রিপ্ট লেখা সেশনের সাথে তার আদতে কোনও সংস্পর্শ ছিল না!’

ফারুকী আরও লেখেন, ‘আমি স্ক্রিপ্ট লেখি সোফায় শুয়ে শুয়ে। লেখি না আসলে, দৃশ্য বলি! মাহমুদ আর সুজন সেটা কাগজে কপি করে। স্ক্রিপ্টের মাঝ পর্যায়ে মোশাররফ করিম আসেন আমাদের ক্যাম্পে। তাকে কাস্ট করার পর আমার ওপর চাপ বেড়ে যায়। একজন সাংবাদিক ফোন করে বললেন, বস, আপনি শিওর উনি পারবেন? উনি কিন্তু প্রমিনেন্ট কেউ না। আমি বললাম, হি উইল বি প্রমিনেন্ট প্রিটি সুন! সেই সাংবাদিক আমার ফ্রেন্ডলিস্টেও আছেন!’

শুটিং প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘তারপর শুটিংয়ে যাই কুমিল্লায়। প্রথম দিন উনি খুবই চাপে ছিলেন। আমি তখন কৌশলে কম চাপওয়ালা দৃশ্যগুলো করতে থাকি। আর উনাকে আমার সিস্টেমের মধ্যে ধীরে ধীরে ঢোকাতে থাকি। এটা একটা প্রক্রিয়া যেটা শুধু রিহার্সেল করে সম্ভব না। এটা হচ্ছে একটা হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ। যেখানে আমরা আলোচনা করি কবিতা নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে, দেশ নিয়ে। এসব করতে করতে কখন যে আলগোছে আমরা একজন আরেকজনের মাথার ভেতরে ঢুকে বসে যাই! এই ঢোকাটা হয়ে গেলে, বাকিটা তো ইশারায় হয়ে যা।’ 

শেষটা করেন এভাবে, ‘‘ক্যারাম’ আর ‘৪২০’র পর ওই সাংবাদিক ভাইটাই আমাকে এক অনুষ্ঠানে বলেন, না বস, মোশাররফ ইজ আ জিনিয়াস। আজকে সবাই জানে, হি ইজ আ জিনিয়াস। দীর্ঘায়ু হন মোশাররফ ভাই। আর ভালো ভালো কাজ করেন। ইউ হ্যাভ আ লট টু অফার।’

‘ক্যারাম’র পর ‘ক্যারাম’ দ্বিতীয়পত্র টেলিফিল্মেও অভিনয় করেন মোশারফ। এরপর ‘৪২০’ নাটক মোশাররফ জনপ্রিয়তার অন্যরকম স্তরে নিয়ে যায়। একই নির্মাতার ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ ও ‘টেলিভিশন’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।