শিরোনামঃ
জলবায়ু ন্যায়বিচার: করুণা নয়, অধিকার স্বপ্নপূরণের পথে জেরিন: এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের কমিটি ঘিরে পদায়ন ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ মহানগর নাট্যমঞ্চ এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য পিবিআই এর এস আই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন এর একতরফা ও মনগড়া তদন্ত রিপোর্ট সংস্থার কার্যক্রমকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ গুলশানের মিছিলে নেতৃত্বে দেওয়া ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন মতলবের ঝর্ণা অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই: টুঙ্গিপাড়ায় বৃদ্ধার গাছ কেটে বসতভিটা দখলের অভিযোগ পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়না চক্রের জুলুম

জলবায়ু ন্যায়বিচার: করুণা নয়, অধিকার

#
news image

জলবায়ু পরিবর্তন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি এখন বিশ্বের কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রতিদিন প্রভাবিত করছে। কোথাও দীর্ঘ খরা, কোথাও ভয়াবহ বন্যা, আবার কোথাও ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। কিন্তু এই সংকটের দায় এবং এর ক্ষতির বোঝা সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। শিল্পায়ন ও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে যে দেশগুলো দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে, জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে কঠিন অভিঘাত পড়ছে তুলনামূলকভাবে কম দায়ী ও কম সামর্থ্যসম্পন্ন দেশগুলোর ওপর। এই বৈষম্যের প্রেক্ষাপটেই জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রায়ই ‘সহায়তা’, ‘অনুদান’ বা ‘তহবিল’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়নকে কেবল ধনী দেশের সদিচ্ছা বা দাতব্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা যথার্থ নয়।

ঐতিহাসিকভাবে যেসব দেশ বেশি কার্বন নিঃসরণ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বড় ভূমিকা রেখেছে, তাদের সেই দায় স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো ন্যায়সংগত। অর্থাৎ, জলবায়ু অর্থায়ন করুণা নয়—এটি ন্যায্যতার দাবি, এবং সেই দাবি বাস্তবায়নে দরকার কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা। বাংলাদেশ এ বৈষম্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে সামান্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও উপকূলীয় বাস্তবতার কারণে দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, সুপেয় পানির সংকট, নদীভাঙন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলছে। কৃষক ফসল হারাচ্ছেন, পরিবার হারাচ্ছে বসতভিটা, আর জীবিকার সন্ধানে বহু মানুষ শহরে চলে আসছেন। এর ফলে শহরগুলোতে বাড়ছে বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ। এই সংকট মোকাবিলায় বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং সুপেয় পানির অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। কিন্তু এসব উদ্যোগের ব্যয় অনেক সময় দেশের নিজস্ব সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে সৃষ্ট ক্ষতি সামলাতে গিয়ে যদি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আবার ঋণ নিতে হয়, তবে সংকটের বোঝা আরও বাড়ে।

জলবায়ু সহায়তার বড় অংশ ঋণনির্ভর হলে তা ন্যায়বিচারের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক: ক্ষতির দায় যে দেশগুলোর নয়, তারাই ঋণ ও সুদ পরিশোধের ভার বহন করবে কেন? এ কারণেই জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অর্থ ছাড় হতে হবে সময়মতো, সহজ শর্তে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। শুধু তহবিল ঘোষণা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; অর্থ প্রকৃতপক্ষে কোথায় যাচ্ছে, কাদের উপকারে লাগছে এবং কী ফল দিচ্ছে—তার স্বচ্ছ হিসাবও থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রাপক দেশগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে, যেন বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং দুর্নীতি বা অদক্ষতার কারণে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়। ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আলোচনা হয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে তহবিল কার্যকর হওয়ার মানদণ্ড হবে এর নাম বা ঘোষণা নয়, বরং পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান, দ্রুত অর্থ ছাড় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বছরের পর বছর জটিল প্রক্রিয়ায় অর্থ আটকে থাকলে তা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারবে না। তাই তহবিল পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রেখেও প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করতে হবে। অর্থায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরও জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রযুক্তি যেন শুধু ধনী দেশগুলোর নাগালে সীমাবদ্ধ না থাকে। দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রযুক্তি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্য যদি সত্যিই বৈশ্বিক হয়, তবে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারও হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। জলবায়ু আলোচনায় কারা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিও ন্যায়বিচারের অংশ। ঝুঁকিতে থাকা দেশ ও জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব না পেলে পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে মিলবে না।

আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় তাদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানবাধিকার, জীবিকা ও নিরাপদ পরিবেশের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আইনি ও নীতিগত জবাবদিহি বাড়াতে হবে। জলবায়ু সংকট কোনো রাষ্ট্রীয় সীমানা মানে না। এক অঞ্চলের বিপর্যয় অন্য অঞ্চলের অর্থনীতি, অভিবাসন ও খাদ্যনিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার শুধু ক্ষতিগ্রস্ত দেশের দাবি নয়; এটি একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার বৈশ্বিক স্বার্থ। ঐতিহাসিক দায় স্বীকার, অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ছাড়া প্রতিশ্রুতি অর্থহীন থেকে যাবে। জলবায়ু বিপর্যয়ের ভার যারা সবচেয়ে কম তৈরি করেছে, তাদের একা সেই ভার বহন করতে দেওয়া যায় না। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই জলবায়ু অর্থায়নকে করুণা নয়, অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

 

শাহাদাত হোসেন সবুজ

০১ নভেম্বর, ২০২৬,  2:43 AM

news image
শাহাদাত হোসেন সবুজ

জলবায়ু পরিবর্তন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি এখন বিশ্বের কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রতিদিন প্রভাবিত করছে। কোথাও দীর্ঘ খরা, কোথাও ভয়াবহ বন্যা, আবার কোথাও ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। কিন্তু এই সংকটের দায় এবং এর ক্ষতির বোঝা সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। শিল্পায়ন ও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে যে দেশগুলো দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে, জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে কঠিন অভিঘাত পড়ছে তুলনামূলকভাবে কম দায়ী ও কম সামর্থ্যসম্পন্ন দেশগুলোর ওপর। এই বৈষম্যের প্রেক্ষাপটেই জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রায়ই ‘সহায়তা’, ‘অনুদান’ বা ‘তহবিল’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়নকে কেবল ধনী দেশের সদিচ্ছা বা দাতব্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা যথার্থ নয়।

ঐতিহাসিকভাবে যেসব দেশ বেশি কার্বন নিঃসরণ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বড় ভূমিকা রেখেছে, তাদের সেই দায় স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো ন্যায়সংগত। অর্থাৎ, জলবায়ু অর্থায়ন করুণা নয়—এটি ন্যায্যতার দাবি, এবং সেই দাবি বাস্তবায়নে দরকার কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা। বাংলাদেশ এ বৈষম্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে সামান্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও উপকূলীয় বাস্তবতার কারণে দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, সুপেয় পানির সংকট, নদীভাঙন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলছে। কৃষক ফসল হারাচ্ছেন, পরিবার হারাচ্ছে বসতভিটা, আর জীবিকার সন্ধানে বহু মানুষ শহরে চলে আসছেন। এর ফলে শহরগুলোতে বাড়ছে বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ। এই সংকট মোকাবিলায় বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং সুপেয় পানির অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। কিন্তু এসব উদ্যোগের ব্যয় অনেক সময় দেশের নিজস্ব সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে সৃষ্ট ক্ষতি সামলাতে গিয়ে যদি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আবার ঋণ নিতে হয়, তবে সংকটের বোঝা আরও বাড়ে।

জলবায়ু সহায়তার বড় অংশ ঋণনির্ভর হলে তা ন্যায়বিচারের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক: ক্ষতির দায় যে দেশগুলোর নয়, তারাই ঋণ ও সুদ পরিশোধের ভার বহন করবে কেন? এ কারণেই জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অর্থ ছাড় হতে হবে সময়মতো, সহজ শর্তে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। শুধু তহবিল ঘোষণা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; অর্থ প্রকৃতপক্ষে কোথায় যাচ্ছে, কাদের উপকারে লাগছে এবং কী ফল দিচ্ছে—তার স্বচ্ছ হিসাবও থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রাপক দেশগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে, যেন বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং দুর্নীতি বা অদক্ষতার কারণে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়। ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আলোচনা হয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে তহবিল কার্যকর হওয়ার মানদণ্ড হবে এর নাম বা ঘোষণা নয়, বরং পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান, দ্রুত অর্থ ছাড় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বছরের পর বছর জটিল প্রক্রিয়ায় অর্থ আটকে থাকলে তা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারবে না। তাই তহবিল পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রেখেও প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করতে হবে। অর্থায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরও জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রযুক্তি যেন শুধু ধনী দেশগুলোর নাগালে সীমাবদ্ধ না থাকে। দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রযুক্তি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্য যদি সত্যিই বৈশ্বিক হয়, তবে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারও হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। জলবায়ু আলোচনায় কারা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিও ন্যায়বিচারের অংশ। ঝুঁকিতে থাকা দেশ ও জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব না পেলে পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে মিলবে না।

আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় তাদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানবাধিকার, জীবিকা ও নিরাপদ পরিবেশের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আইনি ও নীতিগত জবাবদিহি বাড়াতে হবে। জলবায়ু সংকট কোনো রাষ্ট্রীয় সীমানা মানে না। এক অঞ্চলের বিপর্যয় অন্য অঞ্চলের অর্থনীতি, অভিবাসন ও খাদ্যনিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার শুধু ক্ষতিগ্রস্ত দেশের দাবি নয়; এটি একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার বৈশ্বিক স্বার্থ। ঐতিহাসিক দায় স্বীকার, অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ছাড়া প্রতিশ্রুতি অর্থহীন থেকে যাবে। জলবায়ু বিপর্যয়ের ভার যারা সবচেয়ে কম তৈরি করেছে, তাদের একা সেই ভার বহন করতে দেওয়া যায় না। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই জলবায়ু অর্থায়নকে করুণা নয়, অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।