শিরোনামঃ
রাইয়ান বিল্ডিং মালিক প্রতারক মজিবুর রহমানকে খুঁজছে পুলিশ জলবায়ু ন্যায়বিচার: করুণা নয়, অধিকার স্বপ্নপূরণের পথে জেরিন: এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলের কমিটি ঘিরে পদায়ন ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ মহানগর নাট্যমঞ্চ এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য পিবিআই এর এস আই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন এর একতরফা ও মনগড়া তদন্ত রিপোর্ট সংস্থার কার্যক্রমকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ গুলশানের মিছিলে নেতৃত্বে দেওয়া ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন মতলবের ঝর্ণা অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই: টুঙ্গিপাড়ায় বৃদ্ধার গাছ কেটে বসতভিটা দখলের অভিযোগ

রাইয়ান বিল্ডিং মালিক প্রতারক মজিবুর রহমানকে খুঁজছে পুলিশ

#
news image

আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগ বিএনপির সময় বিএনপির লোক পরিচয়ে প্রতারণায় পটু রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেড মালিক সেই মজিবুর রহমানকে খুঁজছে গুলশান বনানী ভাটারা বাড্ডা রামপুরা থানা পুলিশ।

ক্ষমতাসীন এমপি মন্ত্রী নেতাদের সাথে ছবি করে, লোকদের সেই ছবি দেখিয়ে সুবিধা নেয়া তার প্রতারণার ফন্দি। রাতে মদের বারে ভাংচুর, মডেল অভিনেত্রীদের সাথে যৌনতা করাও তার শখ। বিল্ডিং নির্মাণের জমির শেয়ার এবং ফ্লাট বিক্রির কথা বলে গ্রাহকদের নিকট থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে জমির শেয়ার না দিয়ে প্রতারণাসহ নানান অভিযোগ মজিবুর রহমানের নামে। পাঁচটি থানায় ১৩ জন ভুক্তভোগী পৃথক অভিযোগ করছে প্রতারক মজিবুর রহমান এবং তার দুই আপন ভাই ইব্রাহীম- সালাম ও সহযোগী গোলাম সরোয়ার হিরুর নামে। ভুক্তভোগীরা বলছে, ফাঁদ ফন্দি আঁটতে জমির ব্যবসায় বেছে নিয়েছে এম রহমান। যেমন রেকর্ড ভুল, জরিপের সময় তথ্য সংগ্রহে ভুল বা উত্তরাধিকারীদের নাম বাদ পড়া। নামজারি না করা। দ্বৈত বিক্রি। এসব ঝামেলার জমির একটি পক্ষকে ৪/৫ লক্ষ টাকা বায়না করে সাইনবোর্ড টানিয়ে লোভনীয় প্রস্তাব দেয়- বাজার মূল্যের ৫০% কমে ঢাকায় নিজের বাড়ি করুণ। নিজের স্থায়ী ঠিকানার আশায় কেউবা ডাবল মুনাফার আশায় ফ্লাট তৈরী করার স্বপ্নে জমির শেয়ার কিনতে যায় এই মজিবুর রহমানের কাছে। কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে পাঁচতারকা হোটেল তৈরি করবে বলে এআই (কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা) দিয়ে ফাইভস্টার হোটের ছবি ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সেই হোটেলের শেয়ার বিক্রি করার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়ে মানুষ ঠকানো তার পেশা। নিজেকে বড় শিল্পপতি, বড় ব্যবসায়ী পরিচয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শতাধিক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ করছে এই প্রতারক। গুলশান বনানী মদের বারে পরিচিত হয়ে গত ১০ বছরে তিন হাজারের বেশি তরুণীর সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়েছে মজিবুর রহমান। পাঁচতারকা হোটেল দি ওয়েস্টইনে মদ খেয়ে বিল না দিয়ে ওয়েটারের সাথে দুর্ব্যবহার এবং একটি কক্ষে ৬টি মেয়ে নিয়ে রাত্রিযাপনের অভিযোগে ওয়েষ্টইন কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করে হোটেলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

২০২৪ সালে হাতিরঝিলের উত্তর অংশে পুলিশ প্লাজার পেছনের এলাকায় RAIYAN Buding Technology Ltd সাইনবোর্ডে জমির শেয়ার বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে শামীম আহমদ নামের একজন যোগাযোগ করে। শেয়ার বিক্রেতা মজিবুর রহমান পুলিশ প্লাজার পিছনের সাড়ে সাত কাঠা প্লট থেকে শামীম আহমদকে একটি শেয়ার রেজিষ্ট্রেশন করে দেয়ার অঙ্গীকার করে। ৩ বেডরুমের ১২০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট জমির শেয়ার মূল্য নির্ধারণ করে ২৩ লক্ষ টাকা। ৩ লক্ষ ছাড় দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী উত্তরা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে শামীম আহমদের নিকট থেকে অগ্রীম ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে মজিবুর। একই ব্যাংকের একই হিসাব থেকে পরের বছর ১৭ জুন আরো তিন লক্ষ গ্রহণ করে। একদিন পরে ১৮ জুন মজিবুর রহমানের পরিচালিত হিসাব ০২৩৩৪০১৯১৪৩ ব্যাংক এশিয়া বসুন্ধরা আবাসিক শাখায় দুই লক্ষ টাকাসহ মোট ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করে শামীম আহমদ। ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আজ পর্যন্ত মজিবুর রহমান কোন জমির শেয়ার রেজিষ্ট্রেশন দেয়নি শামীম আহমদকে।

রাইয়ান বিল্ডিংয়ের সাইনবোর্ডটিতে লেখা ছিলো- বায়না সূত্রে এই জমির মালিক। মোঃ মজিবর রহমান মোঃ গোলাম সরোয়ার হিরু। জমির পরিমাণ ১২৩৭ অজুতাংশ ৫৭.৫০ কাঠা। নিচের দিকে লেখা RAIYAN Buding Technology Ltd. রাইয়ান লেখাটুকো রূপায়ন হাউজিং কোম্পানির লোগোর অনুরূপ। এটাই প্রতারণা! মানুষ হঠাৎ দেখলে মনে করবে "রূপায়ণ" এটা নিশ্চিই সার্বজনীন এবং বিশ্বস্ত কোম্পানি। এই সংবাদ লেখার পূর্বে পরিদর্শন করে পুলিশ প্লাজার পেছনের এলাকার সেই সাইনবোর্ড দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি। সাইনবোর্ডের ছবি দেখিয়ে স্থানীয়দের জিগ্যেস করলে সোহেল নামের একজন বাসিন্দা বলছেন; "মজিবুর রহমানকে (এম রহমান) নামে চিনি, তার সাথে আছে গোলাম সরোয়ার হিরু এরা দু'জনই মহা প্রতারক। হিরু গুলশান দি ওয়েস্টইন হোটেলে চাকুরী করে এবং এম রহমান ফ্লাট বিক্রির নামে মানুষের নিকট থেকে টাকা অগ্রীম নিয়ে আত্মসাৎ করে। দু'জন প্রতারণা চক্রের সরদার। এম রহমানের বাড়ি বরগুনায়। তার পার্টনার গোলাম সরোয়ার হিরু বরগুনার পাথরঘাটা নাচনাপাড়া গ্রামের সহায়সম্বলহীন নিঃস্ব পরিবারের সন্তান। হিরু হোটেলে ওয়েটারের চাকুরী করতে ঢাকায় আসে। হোটেল থেকে চুরিচামারি করা ছাড়াও ফ্লাট বিক্রির প্রতারণায় যুক্ত। মুজিবুর রহমানের সাথে থেকে বেশ টাকা কামাই করছে। হিরু গার্মেন্টস খুলছে, স্কুল খুলছে, কয়েকটি ফ্লাটের মালিক! একটি চাকুরী করে এতো টাকা পেলো কোথায়? চাকুরী ছাড়া কি তার ইনকাম! চাকুরী তার সাইনবোর্ড, তার আসল ব্যবসা প্রতারণা।" 

মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু একই আবাসিক ভবনের যৌথ উদ্যোক্তা এবং সাদমান হলিডে টুরিজম কোম্পানির মালিক সাইফুর রহমান মানিক বলেন, "মজিবুর রহমান হানি ট্র্যাপের মহানায়ক। তিনি এই প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে? তার ব্যবসা কিসের! হ্যাঁ তার ব্যবসা আছে, নারীদের নিয়ে যৌন ব্যবসা। প্রতিদিনই দেখি নতুন নতুন মেয়েদের কালেকশন নিয়ে বারে যায়। নারী দ্বারা প্রলুব্ধ করে নিরীহ মানুষ ফাঁদে ফেলা। পরবর্তীতে আপত্তিকর ছবি, ভিডিও বা তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায় করার কৌশলে মজিবুর রহমান সেরা। প্রতিদিন মদের বারে গিয়ে পতিতাদের সাথে আড্ডা দেয়া এম রহমানের নেশা এবং মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা মেরে দেয়া তার পেশা। তিনি আরো বলেন, মজিবুর রহমান মানুষের টাকা মেরে দিয়ে অবৈধভাবে নিজে সম্পদশালী হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্লট ও ভবন করেছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক প্লট কিনেছে। আমেরিকায় তার প্রতারণার নেটওয়ার্ক আছে। ফেসবুকে ফ্লাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেও তার নিজস্ব কোন বিল্ডিং নাই। কয়েকটি বিল্ডিং শেয়ারে তৈরি করেছি আমরা, মজিবুর শেয়ার হোল্ডার। সেই যৌথ বিল্ডিং দেখিয়ে মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পালিয়ে আছে। শুনেছি বহু পাওনাদার খুঁজছে তাকে। রাতে গুলশান বনানী এলাকার মদের বারে ঘুরে ঘুরে মদ খায় এবং মেয়েদের সাথে সখ্যতা করে। টাকার বিনিময়ে সেই মেয়েদের নিয়ে আবাসিক হোটেলে রাত কাটায়। দুই স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্লাট ও প্লট কিনে দিয়ে স্ত্রীদের মুখ বন্ধ রাখছে। টাকায় নারীরা খুশি হয়। মজিবুর রহমান রাতে কোথায় ছিলো, কোন মেয়ের সাথে ছিলো, এমন কৈফিয়ত স্ত্রীদের দিতে হয় না। তার বহু নারী সঙ্গীসহ আমি তাকে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ভিসা করে দিয়েছি।"

নরসিংদীতে ২য় স্ত্রীর বাপের বাড়ি কিছুদিন আগে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছিলো। ২য় শশুড় শাশুড়ীর জন্য অত্যাধুনিক ব্যয়বহুল ডুপ্লেক্স সেই বাড়িটি নির্মাণ করেছে মজিবুর রহমান। কাবিন ছাড়া নগদ পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা দিয়ে বহু মেয়েকে নিজের স্ত্রীর মতো ব্যবহার করছে। তাদের আশ্বাস দিয়েছে পরে বিয়ে করবে। কাউকে আশ্বাস দিয়েছে ফ্লাট লিখে দেবে। পঞ্চাশ বা একলক্ষ টাকা বেতনে নিজের কোম্পানি 'রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজিতে' চাকুরী দেয়ার আশ্বাস দিয়েও বহু মেয়ের সাথে যৌনতা করেছে। অভিযোগ দেয়ার যথাযথ কর্তৃপক্ষ না থাকায় সেই মেয়েরা নিরব। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তার কোম্পানি শুধু ফেসবুকে সীমাবদ্ধ। কোন স্টাফ নাই। মজিবুর রহমান মালিক তিনি নিজেই পিয়ন, নিজেই অফিস ঝাড়ুদার, নিজেই চা তৈরি করে আগন্তুকদের পরিবেশন করে। নাদিয়া নামের একটি মেয়ে তার অফিসে নিয়মিত রাত্রিযাপন করে। নিজের আপন ছোট ভাই ইব্রাহীম গাজীপুরের গ্রীন লাইফ গার্মেন্টসে চাকুরী ছেড়ে ভাই মজিবুর রহমানের সাথে ফ্লাট বিক্রির প্রতারণায় যুক্ত হয়েছে। চুরি ও প্রতারণার অভিযোগে গার্মেন্টস থেকে ইব্রাহীমকে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে ২০২০ সালে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে গ্রীন লাইফ গার্মেন্টসে যোগাযোগ করলে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু ফয়সাল মুসাব্বির বলেছেন, ইব্রাহীম নামের বরগুনার একটি ছেলে আমার কারখানায় জব করতো সম্ভবত। চুরির দায়ে তার সহকর্মীরা তাকে বিতাড়িত করেছে। তাকে কারখানা থেকে বের করে দিয়েছি। একজন সাংবাদিক নেতার অনুরোধে ইব্রাহীম নামের ওই কর্মীকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিয়েছি। মজিবুর রহমানের অন্য আপন বড় ভাই আঃ ছালাম আছে দারোয়ানের দ্বায়িত্বে। বাড্ডা থানার পূর্ব পাশে আনন্দনগর এলাকায় মজিবুর রহমানের দুটি প্লট দেখাশোনা করা এই ভাইয়ের দ্বায়িত্ব। সালাম শ্রমিক দলের নেতা বা বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে চলে।

গতমাসের ২১ তারিখ রাজধানীর ভাটারা থানায় লিখত অভিযোগ দিয়েছে দক্ষিণ মান্ডা মুগ্ধা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম। রাজধানীর উত্তরখানে ৪ কাঠা জমি রেজিষ্ট্রেশন দেয়ার কথা বলে ২০২২ সালে মজিবুর রহমান এই সালামের নিকট থেকে ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। পাঁচশতো টাকার স্টাম্পে টিপসই দিয়ে মজিবুর এই টাকা আব্দুস সালামের নিকট থেকে গ্রহণ করেছে। আজ পর্যন্ত আব্দুস সালামকে জমি দেয়নি এবং টাকাও ফেরত দেয়নি। আব্দুস সালামের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তৎপর হয়েছে। ভাটারা থানার পুলিশ বলছে মজিবুর রহমানকে খুঁজছি। একসপ্তাহ আগে (পূজার বন্ধের দুদিন আগে) মজিবুর রহমানকে থানায় ধরে এনেছিলো এস আই ফরহাদ। পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করে থানা থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন। পুলিশ বলছে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত না দিলে তাকে পরবর্তীতে পাওয়ার পরে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুক্তভোগী আব্দুস সালামের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদকের হটসঅ্যপে লিখিত জানায়, বানানরীতি অপরিবর্তিত রেখে হুবহু তুলে ধরছি;- "একজন মহাপ্রতারকের সন্ধান দিতে চাই। বিশ্ব চিটার মজিবুর রহমান ও তার ভাই ইব্রাহিম যেটা আশুলিয়ার একটা গার্মেন্টসে অপারেটরের কাজ করতো, এখন পাবলিকের টাকা মেরে তারা দুই ভাই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। এই প্রতারকদের অফিসের ঠিকানা বারিধারা নতুনবাজার ২ নং রোডে ৩ নং বাড়ি জে ব্লক রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেড নামের একটি ডেভলপার কোম্পানির মালিক মজুবুর রহমান, সে আমার ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্ট্যাম্পে টিপ্ সহি-সহ সিগনেচার বায়না চুক্তিনামা বাবদ নিয়ে উত্তরখানের নীলাখান গংদের ৪ কাটা জমি রেজিষ্ট্রেশন দেবে বলে নিয়েছে আজ প্রায় ৩ বছর। আমি জমি মেপে আসার পর দেখি অন্য লোকদের বায়না সূত্রে মালিকানা সাইনবোর্ড আমার বরাদ্দকৃত জমিতে লাগিয়ে দে, পরবর্তীতে প্রতারক মজিবরকে জিজ্ঞেস করলে আমাকে উত্তর দেয় খুব দ্রুতই আপনার ডিমারগেশন করা জমি রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। 
যাহা অদ্যবধি জমিও দেয় না টাকাও ফেরত দেয় না, দেখা করে না, আমার ফোন ধরেনা এ বিষয়ে তার সাথে অনেকবার আমি বসেও সমঝোতে আসতে পারি নাই, কারণ বিভিন্ন সময়ে জমি আজকে দিব দিচ্ছি কালকে দিচ্ছি বলে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। সে বিএনপির নেতা পরিচয় দেয়। সে নাকি কোন কোন পাওনাদারদের ভাটারা থানায় নিয়ে বেঁধে পিটাইছে, এমন হুমকি আমাকে দেয় লোক মার্ফত এবং আমাকে মামলা দিয়ে ধরে নিয়ে যাবে এই ধরনের হুমকিও দিয়েছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। ৩ বছর সে আমার টাকা আটকিয়ে রাখছে, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময় সে আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রীদের সাথে চলাচল করে ছবি তুলছে এবং গ্রাহকদের লক্ষ লক্ষ টাকা মেরে খেয়েছে, এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় তাই বিএনপির পরিচয় দিয়ে দাপট দেখায়। মজিবুর রহমানের মোবাইল নাম্বার  +880 1710536136 সে আওয়ামী লীগের সময় বলতো তার মা বাবা আওয়ামী লীগের ভক্ত তাই বঙ্গবন্ধুর নামের সাথে মিল রেখে তার নাম রাখা হয়েছে মজিবুর রহমান। প্রতিদিন গুলশান বনানী বিভিন্ন ক্লাবে বারে নিত্যনতুন মেয়েদের নিয়ে রাত্রি যাপন করে।"

Raiyan Building Technology Ltd নামে ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রেজেন্টেশন বিজ্ঞাপন দেয় মজিবুর রহমানের আপন ছোটভাই গার্মেন্টস কর্মী ইব্রাহীম। সেই বিজ্ঞাপনে বলা হয় বাজার মূল্যের ৪০ শতাংশ কম মূল্যে ফ্লাট বিক্রি করা হয়। নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলতে ধনাঢ্য ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে গুলশান বনানী বাড্ডা রামপুরা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কিছু সুন্দরী মেয়ে দিয়ে মার্কেটিং চালায়। ক্রেতার নিকট থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে মার্কেটিং করা সুন্দরী মেয়েকে কৌশল শিখিয়ে দেয় প্রেমের ফাঁদ পাতানোর জন্য। ক্রেতার মতিগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতারক মজিবুর রহমান। মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ আছে এমন ঝোঁক বুঝে কোন রেস্টুরেন্টে বসে আলাপ করতে করতে সুবিধাজনক সময়ে বনানী বা গুলশানের কোন আবাসিক হোটেলে যায় মজিবুর রহমান। সেখানে উপস্থিত হয় ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করা কোন সুন্দরী মেয়ে। সেই মেয়েকে পরিচয় করানো হয় ছোট বোন বা তার স্টাফের বান্ধবী। এর পরে শুরু করে আড্ডা। আড্ডা শেষে বিভিন্ন আপ্যায়ন। আপ্যায়নের শেষাংশে থাকে মদ। মদের শেষাংশে ওই নারীর সাথে শেয়ার ক্রেতার যৌনতার সুযোগ তৈরি করে মজিবুর রহমান। সুযোগ বুঝে এসব ব্যক্তিগত মুহুর্ত মোবাইলে ভিডিও করে মজিবুর। এর পরে শুরু হয় মজিবুরের ভিন্ন রূপ। শেয়ার বা ফ্লাট ক্রেতাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করার উপকরণ মজিবুরের মোবাইলে থাকায় বহু লোক মজিবুর রহমান থেকে দুরে সরে গেছে। হাজারো লোক আছে এক বা দুই লক্ষ টাকা অগ্রীম দিয়েছে। মজিবুরের কর্মকান্ড বুঝে তারা জোর দিয়ে টাকা ফেরত চায় না। একাধিক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী তাকে এক লক্ষ বা দুই লক্ষ টাকা অগ্রীম দিয়েছে। পরে শেয়ার নেয়া হয়নি, তবে সেই টাকা ফেরতযোগ্য হলেও মজিবুর কাউকে ফেরত দেয়নি। দুবছর আগে কূটকৌশলে মজিবুর বিশ লক্ষ টাকা মেরে দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের। ব্যাংকের ডিএমডি বলছেন- আমাকে শেয়ার রেজিষ্ট্রেশন দেয়ার মধ্যস্থতা করেছে মজিবুর। আমাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার নিকট থেকে বিশ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে। আমার সৎ ইনকাম। আমার টাকা মেরে ব্যবসা করতে পারবে না। মজিবুর রহমানকে না জানানোর শর্তে ডিএমডি বলেছেন- "আমার প্লান আছে প্রতারক রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার বিল্ডিং নির্মাণ বন্ধ করবো।"

অনুসন্ধানে ১১ জন তরুনী পাওয়া গেছে যারা স্বীকার করে বলেছে মজিবুর রহমান তাদেরকে রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেডে চাকুরী দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করছে। ওইসব তরুনীদের হাতে রয়েছে সেই ধর্ষণের ভিডিও। মেয়েদের মোবাইল থেকে এমন আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে তারা মজিবুরের উপযুক্ত বিচার আশা করছে। পাওনাদারদের অভিযোগ ও প্রমাণাদি পেয়ে রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাথে যোগাযোগ করলে তিনি হটসঅ্যপে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। আমার রাজনৈতিক বিরোধিতা অনেকে করতে চায়! কোন সালা আমার কাছে টাকা পাইবে? সাহস থাকলে আমার সামনে আসুক। রনি মাহমুদ নামের একজন আছে, সে না-কি আমার কাছে টাকা পায়। তারা আসছিলো গতকাল, সালারা আওয়ামী লীগ করতো। কয়েকজনকে ধরে বেঁধে বাড্ডা থানায় নিয়েছিলাম। ওসির রুমে আটকিয়ে ওদেরকে পিটিয়ে স্টাম্পে লিখিত নিয়েছি। এখন জিগ্যেস করেন- আমার কাছে টাকা পায় কি-না? এই প্রতিবেদককে জিগ্যেস করে আপনি কি রনির তথ্যের ভিত্তিতে ফোন করেছেন? রনি আমার কাছে টাকা পায় না, তবুও ওসির অনুরোধে এক লক্ষ দিয়ে দিয়েছি। আসলে আমার অফিস আমার প্রজেক্ট দেখিয়ে রনি মাহমুদ বহু লেকের নিকট থেকে টাকা নিয়েছে। সে আমার পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ক্ষতি করছে। এমন থ্রেট করেছি, ভবিষ্যতে সাহস করে বলবে না- আমার কাছে টাকা পায়। আপনি ওসির সাথে কথা বলবেন? 'এই নেন' ওসি সাহেব ফোনটা ধরেন, দেখেন কোথাকার সাংবাদিক! দেখেন আওয়ামী লীগের দোসর কি-না। "ওসি" পরিচয়ে কাকে ফোন দিয়েছে তা অনুমান করা সম্ভব হয়নি। ওপাশ থেকে ফোনে বলেন, রাইয়ান বিল্ডিংয়ের এমডি স্যারের নিকট কেউ টাকা পায় না। গত কাল একটি সালিশ করে সমাধান দিলাম। এই কথা বলে ফোন রেখে দিলো।

বাড্ডায় ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অলিভ লাউঞ্জ রেস্তোরাঁ মালিক রনি মাহমুদ মজিবুর রহমানের কাছে টাকা পায় একুশ লক্ষ টাকা। জানতে চেয়েছি সেই টাকা উদ্ধারে তার পদক্ষেপ কি? রনি মাহমুদ বলেন, সারা জীবন সে আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে চলাচল করে আওয়ামী লীগের লোকজন থেকে হাজার রকম উপকার এবং স্বার্থ নিয়ে এখন তার নানারকম অপকর্ম ঢাকার জন্য বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেকে পরিচয় দেয়, বিএনপির অনেক বড় অবস্থানে আছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তার অপকর্মগুলো জানতে পারবে। রহমানের আসল রূপ সামনে প্রকাশ পাবে। আমার পাওনা টাকার বিষয় আমি আল্লাহর কাছে জানিয়ে রেখেছি। আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা হবে। বরগুনা গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, মজিবুর ঢাকায় বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করার তথ্য গ্রামের লোকেরা জানে। গ্রামে তার চলাচল সীমিত থাকায় হালনাগাদ খবর কেউ বলতে পারেনি। তার পিতা মৃত্যু রশিদ হাওলাদার, মাতা মোসাঃ আমবীয়া বেগম, Date of Birth 02 Apr 1983, NID No. 329 800 8859। ভাটারা থানায় একাধিক অভিযোগের তথ্য পেয়ে বর্তমান ঠিকানা- ফ্লাট ৮বি, অফিসার্স টাওয়ার, হোল্ডিং ৫০১, বারোবিঘা, বীরপ্রতীক সড়ক, ভাটারা, ঢাকা ঠিকানা থেকে পালিয়ে গেছে। বিশস্ত সুত্র বলছে, বর্তমানে তার স্ত্রীর নামে ক্রয়কৃত ফ্লাটে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আত্মগোপনে আছে। তেজগাঁও থানা পূর্ব পাশে ১০/১/এ ভুইয়াবাড়ি তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা আবদুস সালামের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করে পালিয়ে রয়েছে এম রহমান। আব্দুস সালাম তার ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে মুজিবুর রহমানকে খুঁজছে। ফেসবুকে মজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে তিনি লিখছে- রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেডের মালিক মহাপ্রতারক মজিবুর রহমানকে ধরিয়ে দিতে পারলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার দেব।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ নভেম্বর, ২০২৬,  5:15 PM

news image

আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগ বিএনপির সময় বিএনপির লোক পরিচয়ে প্রতারণায় পটু রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেড মালিক সেই মজিবুর রহমানকে খুঁজছে গুলশান বনানী ভাটারা বাড্ডা রামপুরা থানা পুলিশ।

ক্ষমতাসীন এমপি মন্ত্রী নেতাদের সাথে ছবি করে, লোকদের সেই ছবি দেখিয়ে সুবিধা নেয়া তার প্রতারণার ফন্দি। রাতে মদের বারে ভাংচুর, মডেল অভিনেত্রীদের সাথে যৌনতা করাও তার শখ। বিল্ডিং নির্মাণের জমির শেয়ার এবং ফ্লাট বিক্রির কথা বলে গ্রাহকদের নিকট থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে জমির শেয়ার না দিয়ে প্রতারণাসহ নানান অভিযোগ মজিবুর রহমানের নামে। পাঁচটি থানায় ১৩ জন ভুক্তভোগী পৃথক অভিযোগ করছে প্রতারক মজিবুর রহমান এবং তার দুই আপন ভাই ইব্রাহীম- সালাম ও সহযোগী গোলাম সরোয়ার হিরুর নামে। ভুক্তভোগীরা বলছে, ফাঁদ ফন্দি আঁটতে জমির ব্যবসায় বেছে নিয়েছে এম রহমান। যেমন রেকর্ড ভুল, জরিপের সময় তথ্য সংগ্রহে ভুল বা উত্তরাধিকারীদের নাম বাদ পড়া। নামজারি না করা। দ্বৈত বিক্রি। এসব ঝামেলার জমির একটি পক্ষকে ৪/৫ লক্ষ টাকা বায়না করে সাইনবোর্ড টানিয়ে লোভনীয় প্রস্তাব দেয়- বাজার মূল্যের ৫০% কমে ঢাকায় নিজের বাড়ি করুণ। নিজের স্থায়ী ঠিকানার আশায় কেউবা ডাবল মুনাফার আশায় ফ্লাট তৈরী করার স্বপ্নে জমির শেয়ার কিনতে যায় এই মজিবুর রহমানের কাছে। কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে পাঁচতারকা হোটেল তৈরি করবে বলে এআই (কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা) দিয়ে ফাইভস্টার হোটের ছবি ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সেই হোটেলের শেয়ার বিক্রি করার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়ে মানুষ ঠকানো তার পেশা। নিজেকে বড় শিল্পপতি, বড় ব্যবসায়ী পরিচয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শতাধিক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ করছে এই প্রতারক। গুলশান বনানী মদের বারে পরিচিত হয়ে গত ১০ বছরে তিন হাজারের বেশি তরুণীর সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়েছে মজিবুর রহমান। পাঁচতারকা হোটেল দি ওয়েস্টইনে মদ খেয়ে বিল না দিয়ে ওয়েটারের সাথে দুর্ব্যবহার এবং একটি কক্ষে ৬টি মেয়ে নিয়ে রাত্রিযাপনের অভিযোগে ওয়েষ্টইন কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করে হোটেলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

২০২৪ সালে হাতিরঝিলের উত্তর অংশে পুলিশ প্লাজার পেছনের এলাকায় RAIYAN Buding Technology Ltd সাইনবোর্ডে জমির শেয়ার বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে শামীম আহমদ নামের একজন যোগাযোগ করে। শেয়ার বিক্রেতা মজিবুর রহমান পুলিশ প্লাজার পিছনের সাড়ে সাত কাঠা প্লট থেকে শামীম আহমদকে একটি শেয়ার রেজিষ্ট্রেশন করে দেয়ার অঙ্গীকার করে। ৩ বেডরুমের ১২০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট জমির শেয়ার মূল্য নির্ধারণ করে ২৩ লক্ষ টাকা। ৩ লক্ষ ছাড় দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী উত্তরা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে শামীম আহমদের নিকট থেকে অগ্রীম ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে মজিবুর। একই ব্যাংকের একই হিসাব থেকে পরের বছর ১৭ জুন আরো তিন লক্ষ গ্রহণ করে। একদিন পরে ১৮ জুন মজিবুর রহমানের পরিচালিত হিসাব ০২৩৩৪০১৯১৪৩ ব্যাংক এশিয়া বসুন্ধরা আবাসিক শাখায় দুই লক্ষ টাকাসহ মোট ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করে শামীম আহমদ। ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আজ পর্যন্ত মজিবুর রহমান কোন জমির শেয়ার রেজিষ্ট্রেশন দেয়নি শামীম আহমদকে।

রাইয়ান বিল্ডিংয়ের সাইনবোর্ডটিতে লেখা ছিলো- বায়না সূত্রে এই জমির মালিক। মোঃ মজিবর রহমান মোঃ গোলাম সরোয়ার হিরু। জমির পরিমাণ ১২৩৭ অজুতাংশ ৫৭.৫০ কাঠা। নিচের দিকে লেখা RAIYAN Buding Technology Ltd. রাইয়ান লেখাটুকো রূপায়ন হাউজিং কোম্পানির লোগোর অনুরূপ। এটাই প্রতারণা! মানুষ হঠাৎ দেখলে মনে করবে "রূপায়ণ" এটা নিশ্চিই সার্বজনীন এবং বিশ্বস্ত কোম্পানি। এই সংবাদ লেখার পূর্বে পরিদর্শন করে পুলিশ প্লাজার পেছনের এলাকার সেই সাইনবোর্ড দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি। সাইনবোর্ডের ছবি দেখিয়ে স্থানীয়দের জিগ্যেস করলে সোহেল নামের একজন বাসিন্দা বলছেন; "মজিবুর রহমানকে (এম রহমান) নামে চিনি, তার সাথে আছে গোলাম সরোয়ার হিরু এরা দু'জনই মহা প্রতারক। হিরু গুলশান দি ওয়েস্টইন হোটেলে চাকুরী করে এবং এম রহমান ফ্লাট বিক্রির নামে মানুষের নিকট থেকে টাকা অগ্রীম নিয়ে আত্মসাৎ করে। দু'জন প্রতারণা চক্রের সরদার। এম রহমানের বাড়ি বরগুনায়। তার পার্টনার গোলাম সরোয়ার হিরু বরগুনার পাথরঘাটা নাচনাপাড়া গ্রামের সহায়সম্বলহীন নিঃস্ব পরিবারের সন্তান। হিরু হোটেলে ওয়েটারের চাকুরী করতে ঢাকায় আসে। হোটেল থেকে চুরিচামারি করা ছাড়াও ফ্লাট বিক্রির প্রতারণায় যুক্ত। মুজিবুর রহমানের সাথে থেকে বেশ টাকা কামাই করছে। হিরু গার্মেন্টস খুলছে, স্কুল খুলছে, কয়েকটি ফ্লাটের মালিক! একটি চাকুরী করে এতো টাকা পেলো কোথায়? চাকুরী ছাড়া কি তার ইনকাম! চাকুরী তার সাইনবোর্ড, তার আসল ব্যবসা প্রতারণা।" 

মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু একই আবাসিক ভবনের যৌথ উদ্যোক্তা এবং সাদমান হলিডে টুরিজম কোম্পানির মালিক সাইফুর রহমান মানিক বলেন, "মজিবুর রহমান হানি ট্র্যাপের মহানায়ক। তিনি এই প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে? তার ব্যবসা কিসের! হ্যাঁ তার ব্যবসা আছে, নারীদের নিয়ে যৌন ব্যবসা। প্রতিদিনই দেখি নতুন নতুন মেয়েদের কালেকশন নিয়ে বারে যায়। নারী দ্বারা প্রলুব্ধ করে নিরীহ মানুষ ফাঁদে ফেলা। পরবর্তীতে আপত্তিকর ছবি, ভিডিও বা তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায় করার কৌশলে মজিবুর রহমান সেরা। প্রতিদিন মদের বারে গিয়ে পতিতাদের সাথে আড্ডা দেয়া এম রহমানের নেশা এবং মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা মেরে দেয়া তার পেশা। তিনি আরো বলেন, মজিবুর রহমান মানুষের টাকা মেরে দিয়ে অবৈধভাবে নিজে সম্পদশালী হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্লট ও ভবন করেছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক প্লট কিনেছে। আমেরিকায় তার প্রতারণার নেটওয়ার্ক আছে। ফেসবুকে ফ্লাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেও তার নিজস্ব কোন বিল্ডিং নাই। কয়েকটি বিল্ডিং শেয়ারে তৈরি করেছি আমরা, মজিবুর শেয়ার হোল্ডার। সেই যৌথ বিল্ডিং দেখিয়ে মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পালিয়ে আছে। শুনেছি বহু পাওনাদার খুঁজছে তাকে। রাতে গুলশান বনানী এলাকার মদের বারে ঘুরে ঘুরে মদ খায় এবং মেয়েদের সাথে সখ্যতা করে। টাকার বিনিময়ে সেই মেয়েদের নিয়ে আবাসিক হোটেলে রাত কাটায়। দুই স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্লাট ও প্লট কিনে দিয়ে স্ত্রীদের মুখ বন্ধ রাখছে। টাকায় নারীরা খুশি হয়। মজিবুর রহমান রাতে কোথায় ছিলো, কোন মেয়ের সাথে ছিলো, এমন কৈফিয়ত স্ত্রীদের দিতে হয় না। তার বহু নারী সঙ্গীসহ আমি তাকে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ভিসা করে দিয়েছি।"

নরসিংদীতে ২য় স্ত্রীর বাপের বাড়ি কিছুদিন আগে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছিলো। ২য় শশুড় শাশুড়ীর জন্য অত্যাধুনিক ব্যয়বহুল ডুপ্লেক্স সেই বাড়িটি নির্মাণ করেছে মজিবুর রহমান। কাবিন ছাড়া নগদ পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা দিয়ে বহু মেয়েকে নিজের স্ত্রীর মতো ব্যবহার করছে। তাদের আশ্বাস দিয়েছে পরে বিয়ে করবে। কাউকে আশ্বাস দিয়েছে ফ্লাট লিখে দেবে। পঞ্চাশ বা একলক্ষ টাকা বেতনে নিজের কোম্পানি 'রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজিতে' চাকুরী দেয়ার আশ্বাস দিয়েও বহু মেয়ের সাথে যৌনতা করেছে। অভিযোগ দেয়ার যথাযথ কর্তৃপক্ষ না থাকায় সেই মেয়েরা নিরব। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তার কোম্পানি শুধু ফেসবুকে সীমাবদ্ধ। কোন স্টাফ নাই। মজিবুর রহমান মালিক তিনি নিজেই পিয়ন, নিজেই অফিস ঝাড়ুদার, নিজেই চা তৈরি করে আগন্তুকদের পরিবেশন করে। নাদিয়া নামের একটি মেয়ে তার অফিসে নিয়মিত রাত্রিযাপন করে। নিজের আপন ছোট ভাই ইব্রাহীম গাজীপুরের গ্রীন লাইফ গার্মেন্টসে চাকুরী ছেড়ে ভাই মজিবুর রহমানের সাথে ফ্লাট বিক্রির প্রতারণায় যুক্ত হয়েছে। চুরি ও প্রতারণার অভিযোগে গার্মেন্টস থেকে ইব্রাহীমকে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে ২০২০ সালে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে গ্রীন লাইফ গার্মেন্টসে যোগাযোগ করলে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু ফয়সাল মুসাব্বির বলেছেন, ইব্রাহীম নামের বরগুনার একটি ছেলে আমার কারখানায় জব করতো সম্ভবত। চুরির দায়ে তার সহকর্মীরা তাকে বিতাড়িত করেছে। তাকে কারখানা থেকে বের করে দিয়েছি। একজন সাংবাদিক নেতার অনুরোধে ইব্রাহীম নামের ওই কর্মীকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিয়েছি। মজিবুর রহমানের অন্য আপন বড় ভাই আঃ ছালাম আছে দারোয়ানের দ্বায়িত্বে। বাড্ডা থানার পূর্ব পাশে আনন্দনগর এলাকায় মজিবুর রহমানের দুটি প্লট দেখাশোনা করা এই ভাইয়ের দ্বায়িত্ব। সালাম শ্রমিক দলের নেতা বা বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে চলে।

গতমাসের ২১ তারিখ রাজধানীর ভাটারা থানায় লিখত অভিযোগ দিয়েছে দক্ষিণ মান্ডা মুগ্ধা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম। রাজধানীর উত্তরখানে ৪ কাঠা জমি রেজিষ্ট্রেশন দেয়ার কথা বলে ২০২২ সালে মজিবুর রহমান এই সালামের নিকট থেকে ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। পাঁচশতো টাকার স্টাম্পে টিপসই দিয়ে মজিবুর এই টাকা আব্দুস সালামের নিকট থেকে গ্রহণ করেছে। আজ পর্যন্ত আব্দুস সালামকে জমি দেয়নি এবং টাকাও ফেরত দেয়নি। আব্দুস সালামের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তৎপর হয়েছে। ভাটারা থানার পুলিশ বলছে মজিবুর রহমানকে খুঁজছি। একসপ্তাহ আগে (পূজার বন্ধের দুদিন আগে) মজিবুর রহমানকে থানায় ধরে এনেছিলো এস আই ফরহাদ। পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করে থানা থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন। পুলিশ বলছে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত না দিলে তাকে পরবর্তীতে পাওয়ার পরে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুক্তভোগী আব্দুস সালামের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদকের হটসঅ্যপে লিখিত জানায়, বানানরীতি অপরিবর্তিত রেখে হুবহু তুলে ধরছি;- "একজন মহাপ্রতারকের সন্ধান দিতে চাই। বিশ্ব চিটার মজিবুর রহমান ও তার ভাই ইব্রাহিম যেটা আশুলিয়ার একটা গার্মেন্টসে অপারেটরের কাজ করতো, এখন পাবলিকের টাকা মেরে তারা দুই ভাই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। এই প্রতারকদের অফিসের ঠিকানা বারিধারা নতুনবাজার ২ নং রোডে ৩ নং বাড়ি জে ব্লক রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেড নামের একটি ডেভলপার কোম্পানির মালিক মজুবুর রহমান, সে আমার ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্ট্যাম্পে টিপ্ সহি-সহ সিগনেচার বায়না চুক্তিনামা বাবদ নিয়ে উত্তরখানের নীলাখান গংদের ৪ কাটা জমি রেজিষ্ট্রেশন দেবে বলে নিয়েছে আজ প্রায় ৩ বছর। আমি জমি মেপে আসার পর দেখি অন্য লোকদের বায়না সূত্রে মালিকানা সাইনবোর্ড আমার বরাদ্দকৃত জমিতে লাগিয়ে দে, পরবর্তীতে প্রতারক মজিবরকে জিজ্ঞেস করলে আমাকে উত্তর দেয় খুব দ্রুতই আপনার ডিমারগেশন করা জমি রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। 
যাহা অদ্যবধি জমিও দেয় না টাকাও ফেরত দেয় না, দেখা করে না, আমার ফোন ধরেনা এ বিষয়ে তার সাথে অনেকবার আমি বসেও সমঝোতে আসতে পারি নাই, কারণ বিভিন্ন সময়ে জমি আজকে দিব দিচ্ছি কালকে দিচ্ছি বলে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। সে বিএনপির নেতা পরিচয় দেয়। সে নাকি কোন কোন পাওনাদারদের ভাটারা থানায় নিয়ে বেঁধে পিটাইছে, এমন হুমকি আমাকে দেয় লোক মার্ফত এবং আমাকে মামলা দিয়ে ধরে নিয়ে যাবে এই ধরনের হুমকিও দিয়েছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। ৩ বছর সে আমার টাকা আটকিয়ে রাখছে, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময় সে আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রীদের সাথে চলাচল করে ছবি তুলছে এবং গ্রাহকদের লক্ষ লক্ষ টাকা মেরে খেয়েছে, এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় তাই বিএনপির পরিচয় দিয়ে দাপট দেখায়। মজিবুর রহমানের মোবাইল নাম্বার  +880 1710536136 সে আওয়ামী লীগের সময় বলতো তার মা বাবা আওয়ামী লীগের ভক্ত তাই বঙ্গবন্ধুর নামের সাথে মিল রেখে তার নাম রাখা হয়েছে মজিবুর রহমান। প্রতিদিন গুলশান বনানী বিভিন্ন ক্লাবে বারে নিত্যনতুন মেয়েদের নিয়ে রাত্রি যাপন করে।"

Raiyan Building Technology Ltd নামে ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রেজেন্টেশন বিজ্ঞাপন দেয় মজিবুর রহমানের আপন ছোটভাই গার্মেন্টস কর্মী ইব্রাহীম। সেই বিজ্ঞাপনে বলা হয় বাজার মূল্যের ৪০ শতাংশ কম মূল্যে ফ্লাট বিক্রি করা হয়। নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলতে ধনাঢ্য ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে গুলশান বনানী বাড্ডা রামপুরা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কিছু সুন্দরী মেয়ে দিয়ে মার্কেটিং চালায়। ক্রেতার নিকট থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে মার্কেটিং করা সুন্দরী মেয়েকে কৌশল শিখিয়ে দেয় প্রেমের ফাঁদ পাতানোর জন্য। ক্রেতার মতিগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতারক মজিবুর রহমান। মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ আছে এমন ঝোঁক বুঝে কোন রেস্টুরেন্টে বসে আলাপ করতে করতে সুবিধাজনক সময়ে বনানী বা গুলশানের কোন আবাসিক হোটেলে যায় মজিবুর রহমান। সেখানে উপস্থিত হয় ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করা কোন সুন্দরী মেয়ে। সেই মেয়েকে পরিচয় করানো হয় ছোট বোন বা তার স্টাফের বান্ধবী। এর পরে শুরু করে আড্ডা। আড্ডা শেষে বিভিন্ন আপ্যায়ন। আপ্যায়নের শেষাংশে থাকে মদ। মদের শেষাংশে ওই নারীর সাথে শেয়ার ক্রেতার যৌনতার সুযোগ তৈরি করে মজিবুর রহমান। সুযোগ বুঝে এসব ব্যক্তিগত মুহুর্ত মোবাইলে ভিডিও করে মজিবুর। এর পরে শুরু হয় মজিবুরের ভিন্ন রূপ। শেয়ার বা ফ্লাট ক্রেতাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করার উপকরণ মজিবুরের মোবাইলে থাকায় বহু লোক মজিবুর রহমান থেকে দুরে সরে গেছে। হাজারো লোক আছে এক বা দুই লক্ষ টাকা অগ্রীম দিয়েছে। মজিবুরের কর্মকান্ড বুঝে তারা জোর দিয়ে টাকা ফেরত চায় না। একাধিক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী তাকে এক লক্ষ বা দুই লক্ষ টাকা অগ্রীম দিয়েছে। পরে শেয়ার নেয়া হয়নি, তবে সেই টাকা ফেরতযোগ্য হলেও মজিবুর কাউকে ফেরত দেয়নি। দুবছর আগে কূটকৌশলে মজিবুর বিশ লক্ষ টাকা মেরে দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের। ব্যাংকের ডিএমডি বলছেন- আমাকে শেয়ার রেজিষ্ট্রেশন দেয়ার মধ্যস্থতা করেছে মজিবুর। আমাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার নিকট থেকে বিশ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে। আমার সৎ ইনকাম। আমার টাকা মেরে ব্যবসা করতে পারবে না। মজিবুর রহমানকে না জানানোর শর্তে ডিএমডি বলেছেন- "আমার প্লান আছে প্রতারক রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার বিল্ডিং নির্মাণ বন্ধ করবো।"

অনুসন্ধানে ১১ জন তরুনী পাওয়া গেছে যারা স্বীকার করে বলেছে মজিবুর রহমান তাদেরকে রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেডে চাকুরী দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করছে। ওইসব তরুনীদের হাতে রয়েছে সেই ধর্ষণের ভিডিও। মেয়েদের মোবাইল থেকে এমন আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে তারা মজিবুরের উপযুক্ত বিচার আশা করছে। পাওনাদারদের অভিযোগ ও প্রমাণাদি পেয়ে রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাথে যোগাযোগ করলে তিনি হটসঅ্যপে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। আমার রাজনৈতিক বিরোধিতা অনেকে করতে চায়! কোন সালা আমার কাছে টাকা পাইবে? সাহস থাকলে আমার সামনে আসুক। রনি মাহমুদ নামের একজন আছে, সে না-কি আমার কাছে টাকা পায়। তারা আসছিলো গতকাল, সালারা আওয়ামী লীগ করতো। কয়েকজনকে ধরে বেঁধে বাড্ডা থানায় নিয়েছিলাম। ওসির রুমে আটকিয়ে ওদেরকে পিটিয়ে স্টাম্পে লিখিত নিয়েছি। এখন জিগ্যেস করেন- আমার কাছে টাকা পায় কি-না? এই প্রতিবেদককে জিগ্যেস করে আপনি কি রনির তথ্যের ভিত্তিতে ফোন করেছেন? রনি আমার কাছে টাকা পায় না, তবুও ওসির অনুরোধে এক লক্ষ দিয়ে দিয়েছি। আসলে আমার অফিস আমার প্রজেক্ট দেখিয়ে রনি মাহমুদ বহু লেকের নিকট থেকে টাকা নিয়েছে। সে আমার পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ক্ষতি করছে। এমন থ্রেট করেছি, ভবিষ্যতে সাহস করে বলবে না- আমার কাছে টাকা পায়। আপনি ওসির সাথে কথা বলবেন? 'এই নেন' ওসি সাহেব ফোনটা ধরেন, দেখেন কোথাকার সাংবাদিক! দেখেন আওয়ামী লীগের দোসর কি-না। "ওসি" পরিচয়ে কাকে ফোন দিয়েছে তা অনুমান করা সম্ভব হয়নি। ওপাশ থেকে ফোনে বলেন, রাইয়ান বিল্ডিংয়ের এমডি স্যারের নিকট কেউ টাকা পায় না। গত কাল একটি সালিশ করে সমাধান দিলাম। এই কথা বলে ফোন রেখে দিলো।

বাড্ডায় ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অলিভ লাউঞ্জ রেস্তোরাঁ মালিক রনি মাহমুদ মজিবুর রহমানের কাছে টাকা পায় একুশ লক্ষ টাকা। জানতে চেয়েছি সেই টাকা উদ্ধারে তার পদক্ষেপ কি? রনি মাহমুদ বলেন, সারা জীবন সে আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে চলাচল করে আওয়ামী লীগের লোকজন থেকে হাজার রকম উপকার এবং স্বার্থ নিয়ে এখন তার নানারকম অপকর্ম ঢাকার জন্য বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেকে পরিচয় দেয়, বিএনপির অনেক বড় অবস্থানে আছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তার অপকর্মগুলো জানতে পারবে। রহমানের আসল রূপ সামনে প্রকাশ পাবে। আমার পাওনা টাকার বিষয় আমি আল্লাহর কাছে জানিয়ে রেখেছি। আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা হবে। বরগুনা গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, মজিবুর ঢাকায় বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করার তথ্য গ্রামের লোকেরা জানে। গ্রামে তার চলাচল সীমিত থাকায় হালনাগাদ খবর কেউ বলতে পারেনি। তার পিতা মৃত্যু রশিদ হাওলাদার, মাতা মোসাঃ আমবীয়া বেগম, Date of Birth 02 Apr 1983, NID No. 329 800 8859। ভাটারা থানায় একাধিক অভিযোগের তথ্য পেয়ে বর্তমান ঠিকানা- ফ্লাট ৮বি, অফিসার্স টাওয়ার, হোল্ডিং ৫০১, বারোবিঘা, বীরপ্রতীক সড়ক, ভাটারা, ঢাকা ঠিকানা থেকে পালিয়ে গেছে। বিশস্ত সুত্র বলছে, বর্তমানে তার স্ত্রীর নামে ক্রয়কৃত ফ্লাটে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আত্মগোপনে আছে। তেজগাঁও থানা পূর্ব পাশে ১০/১/এ ভুইয়াবাড়ি তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা আবদুস সালামের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করে পালিয়ে রয়েছে এম রহমান। আব্দুস সালাম তার ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে মুজিবুর রহমানকে খুঁজছে। ফেসবুকে মজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে তিনি লিখছে- রাইয়ান বিল্ডিং টেকনোলজি লিমিটেডের মালিক মহাপ্রতারক মজিবুর রহমানকে ধরিয়ে দিতে পারলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার দেব।