শিরোনামঃ
সুচনাকে মেয়র হিসেবে গ্রহন করলেন ঢাকাস্থ কুমিল্লা মহানগর নাগরিক ফোরাম কক্সবাজারের সুগন্ধা বিচের নতুন নাম ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন গ্রীস ফেরত অসুস্থ বেলায়েত হোসেনের পাশে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্র্যাক এই প্রথম ইসরায়েলের কোনো নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার চেষ্টা ৪ মাসে গাজায় নিহত হয়েছে ১০ হাজার হামাস যোদ্ধা : ইসরায়েল তুরাগতীরে দেশের বৃহত্তম জুমার জামাত আজ ১২শ স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে প্যারিস খালে অভিযান শুরু মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইরানে মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জোড়া বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ১০৩

সড়কের গড়ফাদার পাখি-আমিনুল

#
news image

নাজমুল হাসান ওরফে পাখি হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আর মোহাম্মদ আমিনুল হক ওরফে মনির মোহাম্মদ আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যব¯াপনা পরিচালক। এরা দুজনেই সড়কের কুখ্যাত ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। কথিত আছে সড়কে তাদের ডাকা হয় সড়কের আউলিয়া বা দরবেশ বলে। কারণ দুধে ময়লা থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণে নেই কোন ময়লা। দুজনের নামেই রয়েছে প্রতারণা ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়া, সড়কের অফিসারদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ ব্যাপক অভিযোগ।

কথিত আছে, নাজমুল হাসান পাখি তারই আপন মামার ঠিকাদারি প্রতিান রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেডে কর্মরত থাকা অবস্থায় অফিসারদের সাথে সক্ষতা গড়ে ও কাজে ব্যাপক আর্থিক গরমিল ও জালিয়াতির মাধ্যমেই মূলত প্রতিা করে হাসান টেকনো বিল্ডার্স  লিমিটেড। এ প্রসঙ্গে রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলম ওরফে নাজমুল হাসান পাখির মামার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাখি ঠিক কতদিন এবং কি হিসেবে রানা বিল্ডার্সের কর্মরত ছিলেন এবং কবে ও কিভাবে হাসান টেকনো বিল্ডারস লিমিটেড নামক প্রতিান গড়ে তোলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে বলেন যে, আমি এখন মিটিংয়ে আছি পরে কথা বলব। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে বলেন, আমি এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না। তবে আমি একটা কথা বলতে চাই, যদি কেউ দোষী হয়ে থাকে আল্লাহ পাক যেন তার বিচার করেন।

অন্যদিকে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ইতোমধ্যেই দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় অকাট্য তথ্য প্রমাণাদিসহ একজন সড়কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আর্থিক লেনদেনের  একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের বেলায়। ইতোমধ্যে এম রহমান নামে এক ব্যক্তি গত ২৭ অক্টোবর দুটি প্রতিানকেই সড়কের দরবেশ হিসেবে অভিহিত করে পর্ব এক হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তথ্য প্রমাণসহ সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবর আবেদন করেন। অভিযোগপত্রটি সড়কের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দুদকসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল মিডিয়ায় ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়। সকালের সময় ইনভেস্টিগেশন টিম ইতোমধ্যেই অভিযোগ পত্রটির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট জোনে অভিযোগটির সত্যতা যাচাই এ কাজ করছে। পরবর্তীতে যা তথ্য উপাত্তসহ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ পাবে।

এ প্রসঙ্গে অভিযোগকারী এম রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যদি কোন মিথ্যা অভিযোগ করে থাকি তাদের উচিত আমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যব¯া নেয়া। আমি তো কোন বেনামে অভিযোগ করিনি। আমি অভিযোগ করেছি নিজের সচল মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে। সড়কে, দুদকে, মন্ত্রণালয় কিংবা সিপিটিইউতে যে কোন তদন্ত কমিটিতেই আমি সশরীরে আমার বক্তব্য এবং অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণাদি তুলে ধরব। শুধুমাত্র এই দুইজন দরবেশকে নিয়েই নয়, এদের মুরিদরূপী মজাহার এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড, আবিদ মনসুর কনস্ট্রাকশন লিমিটেডসহ সওজের অফিসার ও মন্ত্রণালয়ের আরও বেশ কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রমাণাদি আমার হাতে রয়েছে। রহস্য করে তিনি বলেন অপেক্ষা করুন। তথ্য প্রমাণাদি সহ কমপক্ষে ১৫টি পর্ব পাবেন। তাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হচ্ছে- সড়ক ও মন্ত্রণালয়ের অনেক উচ্চপদ¯ কর্মকর্তার আত্মীয়-স্বজন এদের লাইসেন্সে কাজ করে কালো টাকা সাদা করে। সত্য ঘটনা পত্রিকায় ছাপিয়েও যদি কোনো কাজ না হয় তবে  আমি আইনের আশ্রয় নেব।

সকল তথ্য প্রমাণাদিসহ লাইভে যাব, সংবাদ সম্মেলন করব। কারণ আমার মনে হয় ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটির নামে প্রহসন শুরু হয়ে গেছে। কারণ ৫ নভেম্বরে তদন্ত কমিটির চিঠি আমার ঠিকানায় ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আমাকে স্ব-শরীরে ১২ তারিখ সকাল ১১ টায় তথ্য প্রমাণসহ উপ¯িত থাকার জন্য। যেখানে আমি চিঠিটি গ্রহণই করি ১২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায়। তাই আমার মনে হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে আমার ঠিকানায় চিঠি পোস্ট করা হয়েছে। ক্ষোভের সাথে তিনি আরো বলেন, তদন্ত কমিটির নামে প্রহসনের নাটক সাজানোর দরকার কি? কালক্ষেপণ না করে টেন্ডার আইডিগুলোতে ইজিপিতে ভেরিফিকেশন করলেই আমার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

 মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত সূত্রমতে, অভিযোগকারী এম রহমানের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ তদন্তের শুনানির জন্য অভিযুক্তদের একটি পত্র প্রেরণ করে। যার স্মারক নং: ৩৫.০০.০০০০.৪৭.২৭.০০৩.২৩-১৯১।
এদিকে দেশব্যাপী চলমান ঠিকাদারি কাজে ও টেন্ডারে অংশগ্রহণে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধানে গিয়ে সকালের সময় ইনভেস্টিগেশন টিমের হাতে এসেছে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রমতে, কাজ শেষ না করেই চাঁদপুর সড়ক বিভাগে ফাইনাল বিল নেয়ার পাঁয়তারা করছে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স (জেভি)। 

জানা যায়, হাসান টেকনো বিল্ডার্সের ব্যব¯াপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাখির বাল্যবন্ধু কুমিল্লা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার। অভিযোগ উঠেছে, মূলত এই জিয়াউল হায়দারের চাপের মুখে ইতোমধ্যেই চাঁদপুর সড়ক বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী মুদাফফরগঞ্জ -চিতোষ সড়কে দ্বিতীয় কিলোমিটারে অব¯িত বড় ভাঙ্গানিয়া সেতুর নির্মাণ কাজের মেয়াদ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত থাকলেও কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাইনাল বিলের আইপিসি স্বাক্ষর করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের কাছে পাঠিয়েছে এবং জিয়াউল হায়দারও উক্ত ফাইনাল বিলে স্বাক্ষর করে ইতোমধ্যেই ফাইনাল বিলটি কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠিয়েছে। সড়ক সার্কেলের একটি বিশ্বস্ত সূত্র হতে উক্ত কাজের ফাইনাল বিলের আইপিসি কপি ইতোমধ্যেই সকালের সময় ইনভেস্টিগেশন টিমের হাতে এসেছে। অথচ এখনো ব্রিজের উভয় পাশের সংযোগ সড়কের আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, ব্রিজের প্যারাপেট ওয়ালসহ প্রায় ২ কোটি টাকার অধিক কাজ বাকি রয়েছে। 

অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, এই কাজের ডাইভারশন  সড়কের ৬০ লাখ টাকার কাজ না করেই আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড ও হাসান টেকনো বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হাসান পাখির বাল্যবন্ধু এবং ব্যবসায়িক পার্টনার জিয়াউল হায়দার নিজেদের মাঝে সমভাবে বন্টন করে নেয়। ইতোমধ্যেই চাঁদপুর সড়ক বিভাগে এই অনিয়ম নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে কুমিল্লা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার তড়িঘড়ি করে বিগত ৮ নভেম্বর চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি লোক দেখানো সতর্কবার্তা প্রেরণ করে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করে। যার স্মারক নং: ৩৫.০১.১৯৩৩.১৭৪.৩১.০০১.২৩-১৪৩৫।
অভিযোগ রয়েছে কুমিল্লা সড়ক সার্কেলে হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড জেভি নামে এ ধরনের অন্তত ২০টি কাজ রয়েছে, যেগুলোর কাজের মেয়াদ ইতোমধ্যেই প্রায় দুই থেকে তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। ফাইনাল বিলও দিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কার্য সম্পাদন সনদও প্রদান করা হয়েছে। যেগুলোর এখনো প্রতিটির অন্তত ২ থেকে ৩ কোটি টাকার কাজ বাকি রয়েছে। 

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত আহমেদ মজুমদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।তবে কুমিল্লা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের সময়কে জানান, কাজ শেষ না হলে কোন বিলই দেওয়া হবে না, আর এই ধরনের কোন বিলের আইপিসিতেও আমি স্বাক্ষর করিনি।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, ওয়ারলেস বাজার মোড়-ইলিশ চত্বর সড়ক আর -১৪৬ সড়কে কাজের মেয়াদ ১৫/১০/২০২৩ পর্যন্ত ছিল। এ কাজের একটি রানিং বিল হয়েছে। কিš বাকি কাজ এখনো শেষ না হলেও মেয়াদ বৃদ্ধির কোন আবেদন করেনি হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড। পরে তারা কাজ শেষ করে ব্যাকডেটে বিল নিবে। এই দুই প্রতিানের এ ধরনের অসংখ্য কাজ কুমিল্লা সড়ক সার্কেল অংশে অতীতে হয়েছে এবং বর্তমানেও চলমান রয়েছে।

অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তারেক ইকবাল  বলেন, আমি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব। তবে আমার দপ্তরে এ ধরনের কোন বিল আসেনি।সরজমিনে কুমিল্লা সড়ক সার্কেলে উক্ত দুই ঠিকাদারের টেন্ডার-এ অংশগ্রহণসহ নানা অনিয়ম এবং কাজের মান অনুসন্ধানে গিয়ে কুমিল্লা সড়ক সার্কেল অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্যমসারির এক কর্মকর্তার সাথে কথা হয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দৈনিক যুগান্তরে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর প্রকাশিত হলে বেশ কিছুদিন আমিনুল হক সার্কেলে টেন্ডারে অংশগ্রহণে বিরত থাকে। এরপর হাসান টেকনো বিল্ডার্সের পাখি ও তার বাল্যবন্ধু তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের যোগসাজসে তারা আবার জেভি করে টেন্ডার অংশগ্রহণ শুরু করে। তাদের দৌরাত্মের কারণে ¯ানীয় ঠিকাদাররা ঠিকাদারী কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ পরবর্তীতে প্রায় ১০% এর মত কমিশনে ¯ানীয় ঠিকাদারদের কাছে কাজগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়  এবং এই কমিশনের টাকা আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড, হাসান টেকনো বিল্ডার্স ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। আর যেই কাজগুলো বিক্রি না করে হাসান টেকনো বিল্ডার্সের ব্যব¯াপনা পরিচালক পাখি নিজে অথবা তার আত্মীয়-স্বজন করে সেই কাজগুলো প্রতিটিরই প্রায় ২-৩ কোটি টাকার কাজ বাকি রেখেই ফাইনাল বিল করে ফেলা হয়। অবাক হয়ে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন ১০/১২ দিন আগেই এই দুই ঠিকাদারির নামে বেশ কিছু জালিয়াতির অভিযোগ এসেছে। এরপরেও এরা এই ধরনের সাহস পায় কিভাবে?

এ ব্যাপারে হাসান টেকনো বিল্ডার্সের ব্যব¯াপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাখির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা, তবে আমি ঢাকার বাইরে আছি। ঢাকায় এসে আপনার সাথে চা খেতে খেতে সব কথা বলব। তবে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যব¯াপনা পরিচালক আমিনুল হকের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ নভেম্বর, ২০২৩,  8:47 PM

news image

নাজমুল হাসান ওরফে পাখি হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আর মোহাম্মদ আমিনুল হক ওরফে মনির মোহাম্মদ আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যব¯াপনা পরিচালক। এরা দুজনেই সড়কের কুখ্যাত ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। কথিত আছে সড়কে তাদের ডাকা হয় সড়কের আউলিয়া বা দরবেশ বলে। কারণ দুধে ময়লা থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণে নেই কোন ময়লা। দুজনের নামেই রয়েছে প্রতারণা ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়া, সড়কের অফিসারদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ ব্যাপক অভিযোগ।

কথিত আছে, নাজমুল হাসান পাখি তারই আপন মামার ঠিকাদারি প্রতিান রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেডে কর্মরত থাকা অবস্থায় অফিসারদের সাথে সক্ষতা গড়ে ও কাজে ব্যাপক আর্থিক গরমিল ও জালিয়াতির মাধ্যমেই মূলত প্রতিা করে হাসান টেকনো বিল্ডার্স  লিমিটেড। এ প্রসঙ্গে রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলম ওরফে নাজমুল হাসান পাখির মামার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাখি ঠিক কতদিন এবং কি হিসেবে রানা বিল্ডার্সের কর্মরত ছিলেন এবং কবে ও কিভাবে হাসান টেকনো বিল্ডারস লিমিটেড নামক প্রতিান গড়ে তোলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে বলেন যে, আমি এখন মিটিংয়ে আছি পরে কথা বলব। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে বলেন, আমি এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না। তবে আমি একটা কথা বলতে চাই, যদি কেউ দোষী হয়ে থাকে আল্লাহ পাক যেন তার বিচার করেন।

অন্যদিকে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ইতোমধ্যেই দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় অকাট্য তথ্য প্রমাণাদিসহ একজন সড়কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আর্থিক লেনদেনের  একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের বেলায়। ইতোমধ্যে এম রহমান নামে এক ব্যক্তি গত ২৭ অক্টোবর দুটি প্রতিানকেই সড়কের দরবেশ হিসেবে অভিহিত করে পর্ব এক হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তথ্য প্রমাণসহ সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবর আবেদন করেন। অভিযোগপত্রটি সড়কের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দুদকসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল মিডিয়ায় ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়। সকালের সময় ইনভেস্টিগেশন টিম ইতোমধ্যেই অভিযোগ পত্রটির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট জোনে অভিযোগটির সত্যতা যাচাই এ কাজ করছে। পরবর্তীতে যা তথ্য উপাত্তসহ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ পাবে।

এ প্রসঙ্গে অভিযোগকারী এম রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যদি কোন মিথ্যা অভিযোগ করে থাকি তাদের উচিত আমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যব¯া নেয়া। আমি তো কোন বেনামে অভিযোগ করিনি। আমি অভিযোগ করেছি নিজের সচল মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে। সড়কে, দুদকে, মন্ত্রণালয় কিংবা সিপিটিইউতে যে কোন তদন্ত কমিটিতেই আমি সশরীরে আমার বক্তব্য এবং অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণাদি তুলে ধরব। শুধুমাত্র এই দুইজন দরবেশকে নিয়েই নয়, এদের মুরিদরূপী মজাহার এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড, আবিদ মনসুর কনস্ট্রাকশন লিমিটেডসহ সওজের অফিসার ও মন্ত্রণালয়ের আরও বেশ কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রমাণাদি আমার হাতে রয়েছে। রহস্য করে তিনি বলেন অপেক্ষা করুন। তথ্য প্রমাণাদি সহ কমপক্ষে ১৫টি পর্ব পাবেন। তাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হচ্ছে- সড়ক ও মন্ত্রণালয়ের অনেক উচ্চপদ¯ কর্মকর্তার আত্মীয়-স্বজন এদের লাইসেন্সে কাজ করে কালো টাকা সাদা করে। সত্য ঘটনা পত্রিকায় ছাপিয়েও যদি কোনো কাজ না হয় তবে  আমি আইনের আশ্রয় নেব।

সকল তথ্য প্রমাণাদিসহ লাইভে যাব, সংবাদ সম্মেলন করব। কারণ আমার মনে হয় ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটির নামে প্রহসন শুরু হয়ে গেছে। কারণ ৫ নভেম্বরে তদন্ত কমিটির চিঠি আমার ঠিকানায় ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আমাকে স্ব-শরীরে ১২ তারিখ সকাল ১১ টায় তথ্য প্রমাণসহ উপ¯িত থাকার জন্য। যেখানে আমি চিঠিটি গ্রহণই করি ১২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায়। তাই আমার মনে হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে আমার ঠিকানায় চিঠি পোস্ট করা হয়েছে। ক্ষোভের সাথে তিনি আরো বলেন, তদন্ত কমিটির নামে প্রহসনের নাটক সাজানোর দরকার কি? কালক্ষেপণ না করে টেন্ডার আইডিগুলোতে ইজিপিতে ভেরিফিকেশন করলেই আমার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

 মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত সূত্রমতে, অভিযোগকারী এম রহমানের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ তদন্তের শুনানির জন্য অভিযুক্তদের একটি পত্র প্রেরণ করে। যার স্মারক নং: ৩৫.০০.০০০০.৪৭.২৭.০০৩.২৩-১৯১।
এদিকে দেশব্যাপী চলমান ঠিকাদারি কাজে ও টেন্ডারে অংশগ্রহণে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধানে গিয়ে সকালের সময় ইনভেস্টিগেশন টিমের হাতে এসেছে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রমতে, কাজ শেষ না করেই চাঁদপুর সড়ক বিভাগে ফাইনাল বিল নেয়ার পাঁয়তারা করছে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স (জেভি)। 

জানা যায়, হাসান টেকনো বিল্ডার্সের ব্যব¯াপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাখির বাল্যবন্ধু কুমিল্লা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার। অভিযোগ উঠেছে, মূলত এই জিয়াউল হায়দারের চাপের মুখে ইতোমধ্যেই চাঁদপুর সড়ক বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী মুদাফফরগঞ্জ -চিতোষ সড়কে দ্বিতীয় কিলোমিটারে অব¯িত বড় ভাঙ্গানিয়া সেতুর নির্মাণ কাজের মেয়াদ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত থাকলেও কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাইনাল বিলের আইপিসি স্বাক্ষর করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের কাছে পাঠিয়েছে এবং জিয়াউল হায়দারও উক্ত ফাইনাল বিলে স্বাক্ষর করে ইতোমধ্যেই ফাইনাল বিলটি কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠিয়েছে। সড়ক সার্কেলের একটি বিশ্বস্ত সূত্র হতে উক্ত কাজের ফাইনাল বিলের আইপিসি কপি ইতোমধ্যেই সকালের সময় ইনভেস্টিগেশন টিমের হাতে এসেছে। অথচ এখনো ব্রিজের উভয় পাশের সংযোগ সড়কের আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, ব্রিজের প্যারাপেট ওয়ালসহ প্রায় ২ কোটি টাকার অধিক কাজ বাকি রয়েছে। 

অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, এই কাজের ডাইভারশন  সড়কের ৬০ লাখ টাকার কাজ না করেই আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড ও হাসান টেকনো বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হাসান পাখির বাল্যবন্ধু এবং ব্যবসায়িক পার্টনার জিয়াউল হায়দার নিজেদের মাঝে সমভাবে বন্টন করে নেয়। ইতোমধ্যেই চাঁদপুর সড়ক বিভাগে এই অনিয়ম নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে কুমিল্লা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার তড়িঘড়ি করে বিগত ৮ নভেম্বর চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি লোক দেখানো সতর্কবার্তা প্রেরণ করে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করে। যার স্মারক নং: ৩৫.০১.১৯৩৩.১৭৪.৩১.০০১.২৩-১৪৩৫।
অভিযোগ রয়েছে কুমিল্লা সড়ক সার্কেলে হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড জেভি নামে এ ধরনের অন্তত ২০টি কাজ রয়েছে, যেগুলোর কাজের মেয়াদ ইতোমধ্যেই প্রায় দুই থেকে তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। ফাইনাল বিলও দিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কার্য সম্পাদন সনদও প্রদান করা হয়েছে। যেগুলোর এখনো প্রতিটির অন্তত ২ থেকে ৩ কোটি টাকার কাজ বাকি রয়েছে। 

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত আহমেদ মজুমদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।তবে কুমিল্লা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের সময়কে জানান, কাজ শেষ না হলে কোন বিলই দেওয়া হবে না, আর এই ধরনের কোন বিলের আইপিসিতেও আমি স্বাক্ষর করিনি।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, ওয়ারলেস বাজার মোড়-ইলিশ চত্বর সড়ক আর -১৪৬ সড়কে কাজের মেয়াদ ১৫/১০/২০২৩ পর্যন্ত ছিল। এ কাজের একটি রানিং বিল হয়েছে। কিš বাকি কাজ এখনো শেষ না হলেও মেয়াদ বৃদ্ধির কোন আবেদন করেনি হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড। পরে তারা কাজ শেষ করে ব্যাকডেটে বিল নিবে। এই দুই প্রতিানের এ ধরনের অসংখ্য কাজ কুমিল্লা সড়ক সার্কেল অংশে অতীতে হয়েছে এবং বর্তমানেও চলমান রয়েছে।

অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তারেক ইকবাল  বলেন, আমি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব। তবে আমার দপ্তরে এ ধরনের কোন বিল আসেনি।সরজমিনে কুমিল্লা সড়ক সার্কেলে উক্ত দুই ঠিকাদারের টেন্ডার-এ অংশগ্রহণসহ নানা অনিয়ম এবং কাজের মান অনুসন্ধানে গিয়ে কুমিল্লা সড়ক সার্কেল অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্যমসারির এক কর্মকর্তার সাথে কথা হয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দৈনিক যুগান্তরে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর প্রকাশিত হলে বেশ কিছুদিন আমিনুল হক সার্কেলে টেন্ডারে অংশগ্রহণে বিরত থাকে। এরপর হাসান টেকনো বিল্ডার্সের পাখি ও তার বাল্যবন্ধু তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের যোগসাজসে তারা আবার জেভি করে টেন্ডার অংশগ্রহণ শুরু করে। তাদের দৌরাত্মের কারণে ¯ানীয় ঠিকাদাররা ঠিকাদারী কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ পরবর্তীতে প্রায় ১০% এর মত কমিশনে ¯ানীয় ঠিকাদারদের কাছে কাজগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়  এবং এই কমিশনের টাকা আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড, হাসান টেকনো বিল্ডার্স ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। আর যেই কাজগুলো বিক্রি না করে হাসান টেকনো বিল্ডার্সের ব্যব¯াপনা পরিচালক পাখি নিজে অথবা তার আত্মীয়-স্বজন করে সেই কাজগুলো প্রতিটিরই প্রায় ২-৩ কোটি টাকার কাজ বাকি রেখেই ফাইনাল বিল করে ফেলা হয়। অবাক হয়ে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন ১০/১২ দিন আগেই এই দুই ঠিকাদারির নামে বেশ কিছু জালিয়াতির অভিযোগ এসেছে। এরপরেও এরা এই ধরনের সাহস পায় কিভাবে?

এ ব্যাপারে হাসান টেকনো বিল্ডার্সের ব্যব¯াপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাখির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা, তবে আমি ঢাকার বাইরে আছি। ঢাকায় এসে আপনার সাথে চা খেতে খেতে সব কথা বলব। তবে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যব¯াপনা পরিচালক আমিনুল হকের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।