শিরোনামঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি: নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদিত চার লাইনের ব্যালটে লুকানো ৮৪ সিদ্ধান্ত: ভোটাররা কি জানেন ‘হ্যাঁ’ মানে কী? কারাফটকে থেমে গেল শেষ বিদায়: স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম কেন প্যারোলে মুক্তি পেলেন না কারাগারের ফটকে থামানো শেষ বিদায়: বন্দি অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমান: দক্ষ জনশক্তি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে অঙ্গীকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা পড়ল কমিশনের সুপারিশ এসআই আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বিচারিক কাজে বাধার অভিযোগে রুমিন ফারহানার বিষয়ে ব্যবস্থা চেয়ে চিঠি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১০ম বর্ষে পদার্পন করল সকালের সময়

তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমান: দক্ষ জনশক্তি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে অঙ্গীকার

#
news image

বিএনপি সরকার গঠন করলে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেলেও এর মধ্যে অন্তত সাত লাখই অদক্ষ। ফলে তাঁদের শ্রম যেমন ব্যক্তিগতভাবে সঠিক মূল্য পায় না, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও প্রত্যাশিত সুফল আসে না। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিদেশগামীদের পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকার গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সিলেটের ১৯টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীর বাস্তব ও টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

‘দ্য প্ল্যান’ শিরোনামে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভা সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চলে। অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে রওনা হন। পথে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান রাস্তার দুপাশে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ।

মতবিনিময়কালে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। সরকার গঠন করলে বিদেশগামীদের জন্য এমন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোন দেশ আগামী ১০–১২ বছরে কী ধরনের দক্ষ কর্মী নেবে, সে বিষয়ে গবেষণা করে সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করেন তারেক রহমান। ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে সিলেট আসার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন সময় লাগত সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা, আর এখন ঢাকা থেকে সিলেট যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। তাঁর মতে, সড়ক যোগাযোগের এই দুরবস্থা দেশের উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায়।

তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিএনপি সরকারে এলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করে সাধারণ মানুষের নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। মানুষের অসুখবিসুখ কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

পরিবেশ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাত হাজার টন বর্জ্য জমা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে একটি দেশে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে জানান, বিএনপি প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছে। আইটি পার্কের নামে অব্যবহৃত স্থাপনা উন্নয়ন করে তরুণদের জন্য কার্যকর কর্মপরিবেশ তৈরির কথাও বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ দলীয় নেতারা।

এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরেও শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে প্রয়াত বাবার আদলে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর প্রত্যয় ব্যক্ত করে ধানের শীষে ভোট চান।

আজ সাত জেলায় জনসভা সিলেটের পর আজ আরও ছয় জেলায় নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। পথে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলার বিএনপি–মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিবেন।

 

 

মো: গোলাম মোস্তফা

২২ জানুয়ারি, ২০২৬,  1:20 PM

news image
সিলেটে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে

বিএনপি সরকার গঠন করলে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেলেও এর মধ্যে অন্তত সাত লাখই অদক্ষ। ফলে তাঁদের শ্রম যেমন ব্যক্তিগতভাবে সঠিক মূল্য পায় না, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও প্রত্যাশিত সুফল আসে না। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিদেশগামীদের পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকার গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সিলেটের ১৯টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীর বাস্তব ও টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

‘দ্য প্ল্যান’ শিরোনামে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভা সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চলে। অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে রওনা হন। পথে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান রাস্তার দুপাশে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ।

মতবিনিময়কালে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। সরকার গঠন করলে বিদেশগামীদের জন্য এমন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোন দেশ আগামী ১০–১২ বছরে কী ধরনের দক্ষ কর্মী নেবে, সে বিষয়ে গবেষণা করে সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করেন তারেক রহমান। ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে সিলেট আসার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন সময় লাগত সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা, আর এখন ঢাকা থেকে সিলেট যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। তাঁর মতে, সড়ক যোগাযোগের এই দুরবস্থা দেশের উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায়।

তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিএনপি সরকারে এলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করে সাধারণ মানুষের নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। মানুষের অসুখবিসুখ কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

পরিবেশ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাত হাজার টন বর্জ্য জমা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে একটি দেশে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে জানান, বিএনপি প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছে। আইটি পার্কের নামে অব্যবহৃত স্থাপনা উন্নয়ন করে তরুণদের জন্য কার্যকর কর্মপরিবেশ তৈরির কথাও বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ দলীয় নেতারা।

এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরেও শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে প্রয়াত বাবার আদলে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর প্রত্যয় ব্যক্ত করে ধানের শীষে ভোট চান।

আজ সাত জেলায় জনসভা সিলেটের পর আজ আরও ছয় জেলায় নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। পথে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলার বিএনপি–মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিবেন।