শিরোনামঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি: নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদিত চার লাইনের ব্যালটে লুকানো ৮৪ সিদ্ধান্ত: ভোটাররা কি জানেন ‘হ্যাঁ’ মানে কী? কারাফটকে থেমে গেল শেষ বিদায়: স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম কেন প্যারোলে মুক্তি পেলেন না কারাগারের ফটকে থামানো শেষ বিদায়: বন্দি অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম তরুণদের সঙ্গে তারেক রহমান: দক্ষ জনশক্তি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে অঙ্গীকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা পড়ল কমিশনের সুপারিশ এসআই আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বিচারিক কাজে বাধার অভিযোগে রুমিন ফারহানার বিষয়ে ব্যবস্থা চেয়ে চিঠি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১০ম বর্ষে পদার্পন করল সকালের সময়

চার লাইনের ব্যালটে লুকানো ৮৪ সিদ্ধান্ত: ভোটাররা কি জানেন ‘হ্যাঁ’ মানে কী?

#
news image

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটাররা শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্যই ব্যালটে সিল দেবেন না। একই দিনে, আলাদা একটি ব্যালটে তাদের সামনে হাজির করা হবে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত—‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট। তবে এই গণভোটের ব্যালটে লেখা থাকবে মাত্র চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত সীমিত ভাষায় লেখা ব্যালটে ভোটাররা কি আদৌ বুঝতে পারবেন ‘হ্যাঁ’ বললে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন দিচ্ছেন?

সরকারের ঘোষণামতে, ওই গণভোটে ভোটারদের একটি সরল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তাদের সম্মতি আছে কি না। উত্তরের জন্য থাকবে মাত্র দুটি বিকল্প: ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। কিন্তু এই সরল প্রশ্নের আড়ালে যে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব যুক্ত রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপ্তি ও আইনি প্রভাব ব্যালটের চার লাইনে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ নেই।

গণভোটের ঘোষণা দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার কয়েক দিন ধরে সারাদেশে এ বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, গণভোট নিয়ে প্রচারণা হবে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে—ভোটাররা যেন নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থান বদলাতে শুরু করে।

কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারের প্রচারণায় স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান উঠে আসে। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচারের জন্য একটি ভিডিও বার্তায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে এবং একটি নতুন বাংলাদেশের পথে অগ্রসর হবে।

এই বক্তব্য সরকারপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করলেও, প্রশ্ন থেকে যায়—রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় এমন সরাসরি আহ্বান গণভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে কী বার্তা দেয়?

সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবকে জুলাই সনদের অংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব সাংবিধানিক সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর বাকি ৩৭টি বাস্তবায়ন করার কথা সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে।

কিন্তু ভোটারদের হাতে দেওয়া ব্যালটে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকছে না। সেখানে চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের মাধ্যমে পুরো সনদের প্রতি সমর্থন বা অসমর্থন জানাতে বলা হচ্ছে। ফলে ভোটারদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়—তারা কি চারটি লাইনের বাইরে থাকা ৮৪টি প্রস্তাবের পূর্ণ অর্থ ও প্রভাব সম্পর্কে অবগত?

এই ৮৪টি প্রস্তাবের সবকটিতেই রাজনৈতিক ঐকমত্য রয়েছে—এমন নয়। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একাধিক প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। শুরুতে একটি ধারণা সামনে আসে যে, যেসব প্রস্তাবে কোনো রাজনৈতিক দলের আপত্তি রয়েছে, সেই দল ক্ষমতায় গেলে ওই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না।

কিন্তু এই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই অচলাবস্থা থেকেই সরকার গণভোটের পথ বেছে নেয়। সিদ্ধান্ত হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদ এই ৮৪টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি ‘না’ জয়ী হয়, তাহলে জুলাই সনদ কার্যকরই হবে না।

এখানেই প্রশ্ন জোরালো হয়—গণভোট কি রাজনৈতিক মতপার্থক্য মীমাংসার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি এটি একটি বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজের প্রতি এককালীন অনুমোদন নেওয়ার কৌশল?

গণভোটে ভোট দেওয়ার আগে ভোটাররা সাধারণত জানতে চান—তাদের ভোটে কী বদল আসবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ভোটারদের সামনে থাকা তথ্য কতটুকু? চারটি সংক্ষিপ্ত পয়েন্টে লেখা ব্যালট কি ৮৪টি সংস্কারের আইনি, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট?

সরকারি প্রচারণায় ‘নতুন বাংলাদেশ’, ‘বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হলেও, কোন সংস্কার কীভাবে নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা খুব কমই সামনে এসেছে। ফলে অনেক ভোটারের পক্ষেই হয়তো পরিষ্কারভাবে বোঝা কঠিন—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাস্তবে কী পরিবর্তন ঘটবে, আর ‘না’ ভোট দিলে কী হারিয়ে যাবে।

গণভোটের ফল যা-ই হোক, তার প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক কাঠামো তৈরি হবে, যেখানে ৮৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসর সীমিত হয়ে যেতে পারে। আবার ‘না’ জয়ী হলে পুরো জুলাই সনদই অকার্যকর হয়ে পড়বে, যার ফলে এতদিনের আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন থেকেই যায়—গণভোটের ব্যালটে চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের মাধ্যমে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ভার কি পুরোপুরি ভোটারদের কাঁধে তুলে দেওয়া হচ্ছে? ভোটাররা কি পর্যাপ্ত তথ্য ও সময় পাচ্ছেন সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য? আর এই কাঠামো শেষ পর্যন্ত কার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্বার্থকে বেশি সুরক্ষা দেবে?

উত্তর আপাতত অনিশ্চিত। নিশ্চিত শুধু এটুকুই—১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটে দেওয়া একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শুধু একটি মতামত নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশের অংশ হয়ে উঠবে।

মো: গোলাম মোস্তফা

২৬ জানুয়ারি, ২০২৬,  8:04 PM

news image
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সারাদেশে গণভোট নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটাররা শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্যই ব্যালটে সিল দেবেন না। একই দিনে, আলাদা একটি ব্যালটে তাদের সামনে হাজির করা হবে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত—‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট। তবে এই গণভোটের ব্যালটে লেখা থাকবে মাত্র চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত সীমিত ভাষায় লেখা ব্যালটে ভোটাররা কি আদৌ বুঝতে পারবেন ‘হ্যাঁ’ বললে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন দিচ্ছেন?

সরকারের ঘোষণামতে, ওই গণভোটে ভোটারদের একটি সরল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তাদের সম্মতি আছে কি না। উত্তরের জন্য থাকবে মাত্র দুটি বিকল্প: ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। কিন্তু এই সরল প্রশ্নের আড়ালে যে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব যুক্ত রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপ্তি ও আইনি প্রভাব ব্যালটের চার লাইনে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ নেই।

গণভোটের ঘোষণা দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার কয়েক দিন ধরে সারাদেশে এ বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, গণভোট নিয়ে প্রচারণা হবে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে—ভোটাররা যেন নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থান বদলাতে শুরু করে।

কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারের প্রচারণায় স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান উঠে আসে। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচারের জন্য একটি ভিডিও বার্তায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে এবং একটি নতুন বাংলাদেশের পথে অগ্রসর হবে।

এই বক্তব্য সরকারপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করলেও, প্রশ্ন থেকে যায়—রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় এমন সরাসরি আহ্বান গণভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে কী বার্তা দেয়?

সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবকে জুলাই সনদের অংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব সাংবিধানিক সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর বাকি ৩৭টি বাস্তবায়ন করার কথা সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে।

কিন্তু ভোটারদের হাতে দেওয়া ব্যালটে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকছে না। সেখানে চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের মাধ্যমে পুরো সনদের প্রতি সমর্থন বা অসমর্থন জানাতে বলা হচ্ছে। ফলে ভোটারদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়—তারা কি চারটি লাইনের বাইরে থাকা ৮৪টি প্রস্তাবের পূর্ণ অর্থ ও প্রভাব সম্পর্কে অবগত?

এই ৮৪টি প্রস্তাবের সবকটিতেই রাজনৈতিক ঐকমত্য রয়েছে—এমন নয়। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একাধিক প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। শুরুতে একটি ধারণা সামনে আসে যে, যেসব প্রস্তাবে কোনো রাজনৈতিক দলের আপত্তি রয়েছে, সেই দল ক্ষমতায় গেলে ওই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না।

কিন্তু এই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই অচলাবস্থা থেকেই সরকার গণভোটের পথ বেছে নেয়। সিদ্ধান্ত হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদ এই ৮৪টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি ‘না’ জয়ী হয়, তাহলে জুলাই সনদ কার্যকরই হবে না।

এখানেই প্রশ্ন জোরালো হয়—গণভোট কি রাজনৈতিক মতপার্থক্য মীমাংসার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি এটি একটি বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজের প্রতি এককালীন অনুমোদন নেওয়ার কৌশল?

গণভোটে ভোট দেওয়ার আগে ভোটাররা সাধারণত জানতে চান—তাদের ভোটে কী বদল আসবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ভোটারদের সামনে থাকা তথ্য কতটুকু? চারটি সংক্ষিপ্ত পয়েন্টে লেখা ব্যালট কি ৮৪টি সংস্কারের আইনি, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট?

সরকারি প্রচারণায় ‘নতুন বাংলাদেশ’, ‘বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হলেও, কোন সংস্কার কীভাবে নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা খুব কমই সামনে এসেছে। ফলে অনেক ভোটারের পক্ষেই হয়তো পরিষ্কারভাবে বোঝা কঠিন—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাস্তবে কী পরিবর্তন ঘটবে, আর ‘না’ ভোট দিলে কী হারিয়ে যাবে।

গণভোটের ফল যা-ই হোক, তার প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক কাঠামো তৈরি হবে, যেখানে ৮৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসর সীমিত হয়ে যেতে পারে। আবার ‘না’ জয়ী হলে পুরো জুলাই সনদই অকার্যকর হয়ে পড়বে, যার ফলে এতদিনের আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন থেকেই যায়—গণভোটের ব্যালটে চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের মাধ্যমে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ভার কি পুরোপুরি ভোটারদের কাঁধে তুলে দেওয়া হচ্ছে? ভোটাররা কি পর্যাপ্ত তথ্য ও সময় পাচ্ছেন সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য? আর এই কাঠামো শেষ পর্যন্ত কার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্বার্থকে বেশি সুরক্ষা দেবে?

উত্তর আপাতত অনিশ্চিত। নিশ্চিত শুধু এটুকুই—১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটে দেওয়া একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শুধু একটি মতামত নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশের অংশ হয়ে উঠবে।