শিরোনামঃ
ডিএনএ রিপোর্টে মিল, ধর্ষণ মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে; বিচারাধীন মিজানুর রহমান রিপন, ন্যায়বিচারের আশায় এক নারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানির অভিযোগ অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়, , রয়েল ইউনিভার্সিটি ঢাকা দেখার কেউ নেই,,,, ​বিয়ানীবাজারে পথরোধ করে হামলা: কুরবানির গরু কেনার টাকাসহ লাখ টাকার মালামাল ছিনতাই, থানায় মামলা উন্নয়নের কফিনে কোটি টাকার লাশ: এলজিইডিতে "ভূতুড়ে প্রকল্প" সাম্রাজ্যের নেপথ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম! পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব ছাড়া নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা সম্ভব নয়: বিএবি কর্মশালা প্রতিমন্ত্রী হতে পারে মাওলানা শামীম সকলের সময়ের নির্বাহী সম্পাদককে হত্যার হুমকি

ডিএনএ রিপোর্টে মিল, ধর্ষণ মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে; বিচারাধীন মিজানুর রহমান রিপন, ন্যায়বিচারের আশায় এক নারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা

#
news image

রাত গভীর হলে এখনো ঘুম আসে না তার। ঘরের বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেও চোখ বন্ধ করতে ভয় লাগে। কারণ চোখ বন্ধ করলেই ফিরে আসে সেই দুঃসহ স্মৃতি, সেই আতঙ্ক, সেই অপমান, যা তার জীবনকে বদলে দিয়েছে চিরতরে। একসময় তিনি ছিলেন স্বপ্ন দেখা একজন সাধারণ নারী। পরিবার, ভবিষ্যৎ আর ছোট ছোট সুখ নিয়ে ছিল তার নিজস্ব পৃথিবী। কিন্তু একটি অভিযোগ, একটি মামলা এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া সেই পৃথিবীকে যেন মুহূর্তেই ওলটপালট করে দিয়েছে। আজ তিনি শুধু একটি মামলার বাদী নন; তিনি ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষমাণ এক মুখ, যার প্রতিটি দিন কাটে আদালতের পরবর্তী তারিখের দিকে তাকিয়ে।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি মিজানুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার বিচার বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ চলছে। মামলার তদন্ত শেষে দাখিল করা চার্জশিট এবং ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর শরীর ও পরিধেয় বস্ত্র থেকে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে অভিযুক্তের ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র আদালতের।

ভুক্তভোগী (ছদ্মনাম) আকলিমা বলেন, “আমি প্রতিশোধ চাই না। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হোক। আদালতে যাওয়ার প্রতিটি দিন আমার কাছে নতুন করে সেই দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হওয়ার মতো।” তার দাবি, মামলা দায়েরের পর শুধু তার জীবন নয়, বদলে গেছে পুরো পরিবারের জীবন। একসময় যে বাড়িতে হাসি ছিল, সেখানে এখন নীরবতা। একসময় যে মানুষগুলো ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতেন, তারা এখন আদালতের তারিখ গোনেন। সামাজিক কটূক্তি, পরিচিত মানুষের কৌতূহলী প্রশ্ন, অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোনকল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অজানা শঙ্কা—সব মিলিয়ে তাদের প্রতিটি দিন যেন এক অদৃশ্য মানসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে কাটছে।

পরিবারের এক সদস্য বলেন, “মানুষ ভাবে মামলা শুধু আদালতে চলে। কিন্তু আমরা জানি, একটা মামলা মানুষের বুকের ভেতরও চলে। বছরের পর বছর ধরে চলে। আমরা কাউকে হয়রানি করতে চাই না, প্রতিশোধও চাই না। আমরা শুধু চাই আদালত সত্য উদঘাটন করুক।” তাদের ভাষায়, এই লড়াই শুধু একটি মামলার লড়াই নয়; এটি সম্মান, নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার লড়াই।

মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আদালতে চার্জশিট জমা পড়েছে। বিচারিক কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ মামলায় ফরেনসিক ডিএনএ রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলার সুযোগ নেই। বিচারিক প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে অভিযোগের সত্যতা। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—বছরের পর বছর ধরে বিচারপ্রার্থীর এই অপেক্ষার দায় কে নেবে? যে নারী প্রতিদিন সমাজের চোখে নিজেকে ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হন, তার হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক জীবনের মূল্য কে পরিশোধ করবে?

অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন মিজানুর রহমান রিপন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার পরও তার নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। যদিও এসব বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাগরিক সমাজের একটি অংশের প্রশ্ন—ক্ষমতা ও প্রভাবের বলয় কি কখনও সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে দীর্ঘ ও কঠিন করে তোলে?

ঘটনার আরেকটি অধ্যায় এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রিপনের ছোট ভাই শেখ তুহিনের সম্পদের উৎস, অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি এবং আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে ১০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মিজানুর রহমান রিপনকে। বিষয়টি সামনে আসার পর সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, এটি কেবল একটি মামলার বিষয় নয়; বরং জবাবদিহিতা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাল্টা মামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে যখন কোনো বিতর্কিত ও বিচারাধীন বিষয়ে আলোচিত ব্যক্তি আবার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় সাক্ষী হিসেবে আবির্ভূত হন, তখন জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম নেয়। সেই প্রশ্নের উত্তরও শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে।

আজ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় বিচারাধীন একটি মামলা। কিন্তু এর বাইরেও বিচারাধীন যেন আরও কিছু প্রশ্ন—একজন সাধারণ নারী কি সত্যিই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমানভাবে ন্যায়বিচার পান? ক্ষমতার বলয় কি কখনও সত্যকে আড়াল করে? অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কি পাল্টা মামলার চাপে নিরুৎসাহিত হয়? আর একজন অসহায় মানুষের কণ্ঠ কি ক্ষমতার উচ্চ শব্দে হারিয়ে যায়?

রায়ের অপেক্ষায় আছে একটি পরিবার। অপেক্ষায় আছে সেই নারী, যিনি দাবি করছেন তার জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে স্বাভাবিকতা। অপেক্ষায় আছে সাংবাদিক সমাজও। আর অপেক্ষা করছে পুরো সমাজ—আইনের চোখে সবাই সত্যিই সমান কি না, সেই উত্তর শোনার জন্য।

 

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

০৫ জুন, ২০২৬,  10:14 PM

news image
সংগৃহীত - মিজানুর রহমান রিপন

রাত গভীর হলে এখনো ঘুম আসে না তার। ঘরের বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেও চোখ বন্ধ করতে ভয় লাগে। কারণ চোখ বন্ধ করলেই ফিরে আসে সেই দুঃসহ স্মৃতি, সেই আতঙ্ক, সেই অপমান, যা তার জীবনকে বদলে দিয়েছে চিরতরে। একসময় তিনি ছিলেন স্বপ্ন দেখা একজন সাধারণ নারী। পরিবার, ভবিষ্যৎ আর ছোট ছোট সুখ নিয়ে ছিল তার নিজস্ব পৃথিবী। কিন্তু একটি অভিযোগ, একটি মামলা এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া সেই পৃথিবীকে যেন মুহূর্তেই ওলটপালট করে দিয়েছে। আজ তিনি শুধু একটি মামলার বাদী নন; তিনি ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষমাণ এক মুখ, যার প্রতিটি দিন কাটে আদালতের পরবর্তী তারিখের দিকে তাকিয়ে।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি মিজানুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার বিচার বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ চলছে। মামলার তদন্ত শেষে দাখিল করা চার্জশিট এবং ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর শরীর ও পরিধেয় বস্ত্র থেকে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে অভিযুক্তের ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র আদালতের।

ভুক্তভোগী (ছদ্মনাম) আকলিমা বলেন, “আমি প্রতিশোধ চাই না। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হোক। আদালতে যাওয়ার প্রতিটি দিন আমার কাছে নতুন করে সেই দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হওয়ার মতো।” তার দাবি, মামলা দায়েরের পর শুধু তার জীবন নয়, বদলে গেছে পুরো পরিবারের জীবন। একসময় যে বাড়িতে হাসি ছিল, সেখানে এখন নীরবতা। একসময় যে মানুষগুলো ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতেন, তারা এখন আদালতের তারিখ গোনেন। সামাজিক কটূক্তি, পরিচিত মানুষের কৌতূহলী প্রশ্ন, অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোনকল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অজানা শঙ্কা—সব মিলিয়ে তাদের প্রতিটি দিন যেন এক অদৃশ্য মানসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে কাটছে।

পরিবারের এক সদস্য বলেন, “মানুষ ভাবে মামলা শুধু আদালতে চলে। কিন্তু আমরা জানি, একটা মামলা মানুষের বুকের ভেতরও চলে। বছরের পর বছর ধরে চলে। আমরা কাউকে হয়রানি করতে চাই না, প্রতিশোধও চাই না। আমরা শুধু চাই আদালত সত্য উদঘাটন করুক।” তাদের ভাষায়, এই লড়াই শুধু একটি মামলার লড়াই নয়; এটি সম্মান, নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার লড়াই।

মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আদালতে চার্জশিট জমা পড়েছে। বিচারিক কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ মামলায় ফরেনসিক ডিএনএ রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলার সুযোগ নেই। বিচারিক প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে অভিযোগের সত্যতা। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—বছরের পর বছর ধরে বিচারপ্রার্থীর এই অপেক্ষার দায় কে নেবে? যে নারী প্রতিদিন সমাজের চোখে নিজেকে ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হন, তার হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক জীবনের মূল্য কে পরিশোধ করবে?

অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন মিজানুর রহমান রিপন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার পরও তার নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। যদিও এসব বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাগরিক সমাজের একটি অংশের প্রশ্ন—ক্ষমতা ও প্রভাবের বলয় কি কখনও সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে দীর্ঘ ও কঠিন করে তোলে?

ঘটনার আরেকটি অধ্যায় এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রিপনের ছোট ভাই শেখ তুহিনের সম্পদের উৎস, অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি এবং আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে ১০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মিজানুর রহমান রিপনকে। বিষয়টি সামনে আসার পর সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, এটি কেবল একটি মামলার বিষয় নয়; বরং জবাবদিহিতা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাল্টা মামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে যখন কোনো বিতর্কিত ও বিচারাধীন বিষয়ে আলোচিত ব্যক্তি আবার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় সাক্ষী হিসেবে আবির্ভূত হন, তখন জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম নেয়। সেই প্রশ্নের উত্তরও শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে।

আজ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় বিচারাধীন একটি মামলা। কিন্তু এর বাইরেও বিচারাধীন যেন আরও কিছু প্রশ্ন—একজন সাধারণ নারী কি সত্যিই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমানভাবে ন্যায়বিচার পান? ক্ষমতার বলয় কি কখনও সত্যকে আড়াল করে? অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কি পাল্টা মামলার চাপে নিরুৎসাহিত হয়? আর একজন অসহায় মানুষের কণ্ঠ কি ক্ষমতার উচ্চ শব্দে হারিয়ে যায়?

রায়ের অপেক্ষায় আছে একটি পরিবার। অপেক্ষায় আছে সেই নারী, যিনি দাবি করছেন তার জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে স্বাভাবিকতা। অপেক্ষায় আছে সাংবাদিক সমাজও। আর অপেক্ষা করছে পুরো সমাজ—আইনের চোখে সবাই সত্যিই সমান কি না, সেই উত্তর শোনার জন্য।