শিরোনামঃ
শিক্ষার্থীরা রাজপথে, নাকি পেছনে রাজনীতির ছায়া? জল দুর্গ গড়তে ঢাকার মেয়র প্রার্থী হবেন শামীম আহমদ বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন বিএবি মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছাত্রদল নেতা সোহাগ ভূঁইয়া ডিএনএ রিপোর্টে মিল, ধর্ষণ মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে; বিচারাধীন মিজানুর রহমান রিপন, ন্যায়বিচারের আশায় এক নারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানির অভিযোগ অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়, , রয়েল ইউনিভার্সিটি ঢাকা দেখার কেউ নেই,,,, ​বিয়ানীবাজারে পথরোধ করে হামলা: কুরবানির গরু কেনার টাকাসহ লাখ টাকার মালামাল ছিনতাই, থানায় মামলা উন্নয়নের কফিনে কোটি টাকার লাশ: এলজিইডিতে "ভূতুড়ে প্রকল্প" সাম্রাজ্যের নেপথ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম! পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি

শিক্ষার্থীরা রাজপথে, নাকি পেছনে রাজনীতির ছায়া?

#
news image

আবারও শিক্ষার্থীরা রাজপথে। এবার হাতে চাকরির দাবি নেই, সরকার পতনের স্লোগানও মূল দাবি নয়। রাজপথে নেমেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তাদের সামনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, অথচ হাতে এখন প্ল্যাকার্ড। প্রশ্ন হচ্ছে, পরীক্ষার টেবিলে বসার কথা যাদের, তারা কেন সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু শিক্ষার্থীদের কাছে খুঁজলে ভুল হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে।

বৈরী আবহাওয়া, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রের মান ও ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ, কঠিন বিষয়ের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এগুলো বাস্তব প্রশ্ন। একজন নীতিনির্ধারক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যে সময়সূচি দেখেন, একজন পরীক্ষার্থী সেই সময়সূচি মেনে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে কখনো হাঁটুসমান পানি পেরোয়। এই দুই বাস্তবতার দূরত্বই আজকের সংকটের একটি বড় কারণ। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সব দাবিই কি সমান যৌক্তিক? না। এখানেই সত্য কথাটি বলা প্রয়োজন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক দাবি হতে পারে। কিন্তু কোনো বিতর্কিত বক্তব্য বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠলেই কয়েক ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে একজন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে হবে, এমন সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক জবাবদিহির একমাত্র পথ হতে পারে না। অভিযোগের মাত্রা, সিদ্ধান্তে কার ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দায় কতটুকু, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে শিক্ষামন্ত্রীও দায় এড়াতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের নিয়ে একজন মন্ত্রীর প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়া উচিত। যে বক্তব্য নিয়ে এত বড় ক্ষোভ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়, সেখানে যোগাযোগের ব্যর্থতা ছিল, এটি অস্বীকার করা কঠিন। দুঃখ প্রকাশ ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, পরিস্থিতি রাজপথ পর্যন্ত গড়ানোর আগেই কেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা হলো না? আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোতে একটি পুরোনো রোগ আছে। সংকটের আগে নীরবতা, সংকটের সময় কঠোরতা, আর পরিস্থিতি জটিল হলে বৈঠক ও ব্যাখ্যা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি আবার সেই পুরোনো পথেই হাঁটল?

এবার আসা যাক সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নে। এই আন্দোলনের পেছনে কি রাজনৈতিক কোনো মহলের ছায়া আছে? ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আন্দোলন ঘিরে প্রভাব বিস্তার, উসকানি এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করার অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। কেউ এক পক্ষের দিকে আঙুল তুলছেন, কেউ অন্য পক্ষের দিকে। কিন্তু অভিযোগ আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য ও নিরপেক্ষভাবে এমন কোনো অকাট্য তথ্য সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে বলা যায় পুরো আন্দোলনটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাজানো মঞ্চ।

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আমাদের সতর্ক হতে শেখায়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ যখন রাজপথে শক্তি তৈরি করে, তখন রাজনৈতিক পক্ষগুলো সেই ক্ষোভের পাশে দাঁড়াতে, দখল নিতে কিংবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেষ্টা করে। এটি নতুন কোনো কৌশল নয়। তাই প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে? সিদ্ধান্ত কোথায় হচ্ছে? হঠাৎ করে দাবির ভাষা কেন বদলাচ্ছে? শিক্ষাবিষয়ক দাবি থেকে আন্দোলন দ্রুত ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদত্যাগের দাবিতে কীভাবে পৌঁছাল? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তকমা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ক্ষোভকে অস্বীকার করাও বিপজ্জনক। আমাদের দেশে ক্ষমতাসীনদের একটি পরিচিত ভুল হলো, রাজপথে মানুষ নামলেই প্রথমে পেছনের শক্তি খোঁজা হয়। অথচ সামনে দাঁড়ানো মানুষের অভিযোগটি শোনার চেষ্টা হয় পরে। এবারও যদি সেটি করা হয়, ভুল হবে। সত্যিকার অর্থে দায় কার?

প্রথম দায় শিক্ষা প্রশাসনের। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে না পারা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগে ঘাটতির দায় তাদের নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ রাজপথে পৌঁছানোর আগেই তাদের কথা শোনা এবং বাস্তব সমস্যাগুলো যাচাই করার সুযোগ ছিল।

দ্বিতীয় দায় শিক্ষামন্ত্রীর। একজন মন্ত্রী শুধু মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক প্রধান নন, সংকটের সময় তিনি আস্থার কেন্দ্র। তার বক্তব্য যদি আস্থা তৈরির বদলে ক্ষোভ বাড়ায়, তবে রাজনৈতিক দায়ের প্রশ্ন উঠবেই। দুঃখ প্রকাশ দায়িত্বশীলতার পরিচয় হতে পারে, কিন্তু শুধু দুঃখ প্রকাশেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়ের সব প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না।

তৃতীয় দায় আন্দোলনের নেতৃত্বের। যৌক্তিক দাবিকে জনসমর্থনের জায়গায় রাখতে হলে আন্দোলনকে স্বচ্ছ রাখতে হবে। রাজনৈতিক কোনো পক্ষকে শিক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না। সড়ক অবরোধে সাধারণ মানুষকে অনির্দিষ্ট দুর্ভোগে ফেলে দাবি আদায়ের পথও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। যৌক্তিক দাবি মানেই আন্দোলনের প্রতিটি পদ্ধতি যৌক্তিক, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।

আর চতুর্থ দায় রাজনৈতিক মহলের। যদি সত্যিই কোনো দল বা গোষ্ঠী কিশোর পরীক্ষার্থীদের আবেগকে নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব মেলাতে ব্যবহার করে, তবে সেটি শুধু অনৈতিক নয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা। শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি নয়। তাদের ভয়, আবেগ ও ভবিষ্যৎকে রাজনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখার অধিকার কারও নেই।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিক ভিত্তি আছে। বৈরী পরিস্থিতিতে পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্রের মান এবং বাস্তবসম্মত সময়সূচির দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু প্রতিটি দাবি যুক্তির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, এমন কথাও বলা যাবে না। আন্দোলন মানেই পবিত্র নয়। আবার সরকারবিরোধী স্লোগান উঠলেই আন্দোলন ষড়যন্ত্রও নয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব সত্য খোঁজা। গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও কঠিন। আবেগের মিছিলে না হাঁটা, আবার ক্ষমতার ভাষাও অন্ধভাবে না বলা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে এখন দুটি পথ। শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করে সংকট আরও বাড়ানো, অথবা তাদের প্রতিনিধিদের সামনে বসিয়ে প্রতিটি দাবি প্রকাশ্যে ও যৌক্তিকভাবে পর্যালোচনা করা। শিক্ষার্থীদেরও সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায় করবে, নাকি অদৃশ্য কোনো রাজনৈতিক খেলোয়াড়কে তাদের ক্ষোভের ওপর দাঁড়িয়ে নিজের হিসাব মেলানোর সুযোগ দেবে। কারণ ইতিহাস সাক্ষী, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু অনেক সময় তার শেষ অধ্যায় লেখার চেষ্টা করে রাজনীতি।

 

মো : গোলাম মোস্তফা

১৫ জুলাই, ২০২৬,  10:29 AM

news image
প্রতীকী ছবি

আবারও শিক্ষার্থীরা রাজপথে। এবার হাতে চাকরির দাবি নেই, সরকার পতনের স্লোগানও মূল দাবি নয়। রাজপথে নেমেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তাদের সামনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, অথচ হাতে এখন প্ল্যাকার্ড। প্রশ্ন হচ্ছে, পরীক্ষার টেবিলে বসার কথা যাদের, তারা কেন সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু শিক্ষার্থীদের কাছে খুঁজলে ভুল হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে।

বৈরী আবহাওয়া, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রের মান ও ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ, কঠিন বিষয়ের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এগুলো বাস্তব প্রশ্ন। একজন নীতিনির্ধারক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে যে সময়সূচি দেখেন, একজন পরীক্ষার্থী সেই সময়সূচি মেনে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে কখনো হাঁটুসমান পানি পেরোয়। এই দুই বাস্তবতার দূরত্বই আজকের সংকটের একটি বড় কারণ। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সব দাবিই কি সমান যৌক্তিক? না। এখানেই সত্য কথাটি বলা প্রয়োজন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক দাবি হতে পারে। কিন্তু কোনো বিতর্কিত বক্তব্য বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠলেই কয়েক ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে একজন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে হবে, এমন সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক জবাবদিহির একমাত্র পথ হতে পারে না। অভিযোগের মাত্রা, সিদ্ধান্তে কার ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দায় কতটুকু, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে শিক্ষামন্ত্রীও দায় এড়াতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের নিয়ে একজন মন্ত্রীর প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়া উচিত। যে বক্তব্য নিয়ে এত বড় ক্ষোভ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়, সেখানে যোগাযোগের ব্যর্থতা ছিল, এটি অস্বীকার করা কঠিন। দুঃখ প্রকাশ ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, পরিস্থিতি রাজপথ পর্যন্ত গড়ানোর আগেই কেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা হলো না? আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোতে একটি পুরোনো রোগ আছে। সংকটের আগে নীরবতা, সংকটের সময় কঠোরতা, আর পরিস্থিতি জটিল হলে বৈঠক ও ব্যাখ্যা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি আবার সেই পুরোনো পথেই হাঁটল?

এবার আসা যাক সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নে। এই আন্দোলনের পেছনে কি রাজনৈতিক কোনো মহলের ছায়া আছে? ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আন্দোলন ঘিরে প্রভাব বিস্তার, উসকানি এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করার অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। কেউ এক পক্ষের দিকে আঙুল তুলছেন, কেউ অন্য পক্ষের দিকে। কিন্তু অভিযোগ আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য ও নিরপেক্ষভাবে এমন কোনো অকাট্য তথ্য সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে বলা যায় পুরো আন্দোলনটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাজানো মঞ্চ।

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আমাদের সতর্ক হতে শেখায়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ যখন রাজপথে শক্তি তৈরি করে, তখন রাজনৈতিক পক্ষগুলো সেই ক্ষোভের পাশে দাঁড়াতে, দখল নিতে কিংবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেষ্টা করে। এটি নতুন কোনো কৌশল নয়। তাই প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে? সিদ্ধান্ত কোথায় হচ্ছে? হঠাৎ করে দাবির ভাষা কেন বদলাচ্ছে? শিক্ষাবিষয়ক দাবি থেকে আন্দোলন দ্রুত ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদত্যাগের দাবিতে কীভাবে পৌঁছাল? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তকমা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ক্ষোভকে অস্বীকার করাও বিপজ্জনক। আমাদের দেশে ক্ষমতাসীনদের একটি পরিচিত ভুল হলো, রাজপথে মানুষ নামলেই প্রথমে পেছনের শক্তি খোঁজা হয়। অথচ সামনে দাঁড়ানো মানুষের অভিযোগটি শোনার চেষ্টা হয় পরে। এবারও যদি সেটি করা হয়, ভুল হবে। সত্যিকার অর্থে দায় কার?

প্রথম দায় শিক্ষা প্রশাসনের। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে না পারা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগে ঘাটতির দায় তাদের নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ রাজপথে পৌঁছানোর আগেই তাদের কথা শোনা এবং বাস্তব সমস্যাগুলো যাচাই করার সুযোগ ছিল।

দ্বিতীয় দায় শিক্ষামন্ত্রীর। একজন মন্ত্রী শুধু মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক প্রধান নন, সংকটের সময় তিনি আস্থার কেন্দ্র। তার বক্তব্য যদি আস্থা তৈরির বদলে ক্ষোভ বাড়ায়, তবে রাজনৈতিক দায়ের প্রশ্ন উঠবেই। দুঃখ প্রকাশ দায়িত্বশীলতার পরিচয় হতে পারে, কিন্তু শুধু দুঃখ প্রকাশেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়ের সব প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না।

তৃতীয় দায় আন্দোলনের নেতৃত্বের। যৌক্তিক দাবিকে জনসমর্থনের জায়গায় রাখতে হলে আন্দোলনকে স্বচ্ছ রাখতে হবে। রাজনৈতিক কোনো পক্ষকে শিক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না। সড়ক অবরোধে সাধারণ মানুষকে অনির্দিষ্ট দুর্ভোগে ফেলে দাবি আদায়ের পথও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। যৌক্তিক দাবি মানেই আন্দোলনের প্রতিটি পদ্ধতি যৌক্তিক, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।

আর চতুর্থ দায় রাজনৈতিক মহলের। যদি সত্যিই কোনো দল বা গোষ্ঠী কিশোর পরীক্ষার্থীদের আবেগকে নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব মেলাতে ব্যবহার করে, তবে সেটি শুধু অনৈতিক নয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা। শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি নয়। তাদের ভয়, আবেগ ও ভবিষ্যৎকে রাজনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখার অধিকার কারও নেই।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিক ভিত্তি আছে। বৈরী পরিস্থিতিতে পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্রের মান এবং বাস্তবসম্মত সময়সূচির দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু প্রতিটি দাবি যুক্তির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, এমন কথাও বলা যাবে না। আন্দোলন মানেই পবিত্র নয়। আবার সরকারবিরোধী স্লোগান উঠলেই আন্দোলন ষড়যন্ত্রও নয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব সত্য খোঁজা। গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও কঠিন। আবেগের মিছিলে না হাঁটা, আবার ক্ষমতার ভাষাও অন্ধভাবে না বলা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে এখন দুটি পথ। শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করে সংকট আরও বাড়ানো, অথবা তাদের প্রতিনিধিদের সামনে বসিয়ে প্রতিটি দাবি প্রকাশ্যে ও যৌক্তিকভাবে পর্যালোচনা করা। শিক্ষার্থীদেরও সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায় করবে, নাকি অদৃশ্য কোনো রাজনৈতিক খেলোয়াড়কে তাদের ক্ষোভের ওপর দাঁড়িয়ে নিজের হিসাব মেলানোর সুযোগ দেবে। কারণ ইতিহাস সাক্ষী, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু অনেক সময় তার শেষ অধ্যায় লেখার চেষ্টা করে রাজনীতি।