শিরোনামঃ
রয়েল বিশ্ববিদ্যালয় অব ঢাকা ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও খেলার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ক্ষমতার আড়ালে শিল্প সাম্রাজ্য: পুলিশ কর্মকর্তার ছায়ায় বেনামে ৯৫ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ হালাল খাদ্য: বৈশ্বিক বাস্তবতা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা - মোহা. আমিনুল ইসলাম ২২ শ্রাবণ: চিরজাগ্রত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফ্যাসিবাদের শাসনামলে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ---- আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: বিপন্ন মানুষ, বিপন্ন পৃথিবী ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতা চেয়ে রুল জারি বন্যা মোকাবেলায় খাল খনন কর্মসূচি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে শিক্ষার্থীরা রাজপথে, নাকি পেছনে রাজনীতির ছায়া? জল দুর্গ গড়তে ঢাকার মেয়র প্রার্থী হবেন শামীম আহমদ

খোলাবাজারে ডলারের দাম রেকর্ড ১১৯ টাকা

#
news image

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের পরও কাটেনি ডলার সংকট। আন্তঃব্যাংক লেনদেন ও খোলাবাজারে ডলারের দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখী।

সব রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম খোলাবাজারে ডলার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ১১৯ টাকা, যা সোমবার ছিল ১১৫ টাকা। খোলাবাজারে সাধারণ গ্রাহক ডলার বিক্রি করলে পাচ্ছেন ১১৫ টাকা থেকে ১১৬ টাকা। কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে ১১৯ টাকা।

গত রোববার খোলা বাজারে ডলারের দাম ছিল ১১১ টাকা। এর আগে, গত ২৬ জুলাই ডলারের দাম বেড়ে ১১২ টাকা হয়।

বুধবার (১০ আগস্ট) খোলাবাজারে ডলার ব্যবসায়ী ও মানি এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ মানি এক্সচেঞ্জেই এখন নগদ ডলার সংকট। বিক্রির চেয়ে কিনছে বেশি। মানি এক্সচেঞ্জগুলো ১১৫/১১৬ টাকায় ডলার কিনলেও বিক্রি করছে ১১৯ টাকায়। তবে বিক্রি করার লোক নেই। আবার এতদিন যারা রাস্তায় ডলার কেনাবেচা করতেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ভয়ে তারাও সরাসরি কেনাবেচা করছেন। শুধু খোলাবাজারে নয়, বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাংকগু‌লো‌তেও ১০৮ থে‌কে ১১০ টাকার ওপরে নগদ ডলার বি‌ক্রি হচ্ছে।

মতিঝিলের খুচরা ডলার এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে থেকে নগদ ডলার কেনাবেচা করি। যারা বিদেশ যান তাদের খুচরা কিছু ডলার লাগে। ব্যাংকে গেলে বিভিন্ন ঝামেলা হয়। আমাদের কাছ থেকে সহজে ডলার কিনতে পারেন। তবে খোলাবাজারে ডলারের চা‌হিদা বে‌শি, সরবরাহ কম। তীব্র সংকট চলছে। ডলার নেই তাই রেটও বলা যাবে না।

শাখারিবাজারের সেঞ্চুরি মানি এক্সচেঞ্জের কর্মচারী জানান, যারা বিদেশ থেকে খুচরা ডলার নিয়ে আসেন তারা আমাদের কাছে বিক্রি করেন। আবার অনেকে ডলার নিয়ে যান, সব খরচ হয় না, তারাও ফেরত দেন। প্রতিদিন দুই তিন হাজার ডলার বিক্রি হয়। বাজার ভালো থাকলে এক দেড় হাজার টাকা পাই। এখন বাজারে ডলারের চাহিদা আছে। কিন্তু ডলার নেই। দামেরও ঠিক নেই। আবার ভয় আছে। আগে সরাসরি বিক্রি করলে কোনো সমস্যা হতো না। এখন পুলিশে ধরছে। তাই ব্যবসা করা সমস্যাজনক। আজ সকালের শুরুতে নগদ ডলার বি‌ক্রি করেছি ১১৬ টাকায়। পরে আর ডলার নেই। এখন ১১৭ টাকায়ও ডলার পাচ্ছি না।

এদিকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডলার সংরক্ষণ করে দাম বা‌ড়ি‌য়ে‌ বি‌ক্রি ক‌রার প্রমাণ পাওয়ায় গত সোমবার দে‌শি-বি‌দে‌শি ৬টি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভা‌গের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অপসারণ কর‌তে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো— বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, সি‌টি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক এবং বিদেশি খা‌তের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

এছাড়া ডলারের কারসা‌জি রো‌ধে খোলাবাজার ও এক্স‌চেঞ্জ হাউজগু‌লো‌তে ধারাবা‌হিক অভিযান পরিচালনা ক‌রছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহ পর্যন্ত কারসা‌জির অপরা‌ধে পাঁচ মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপা‌শি ৪২টি‌কে শোকজ করা হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নি‌তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হ‌য়েছে।

জানা গেছে, তিন মাসের মধ্যে ১৯ দফা বাড়ানো হয়েছে ডলারের দাম। আলোচ্য সময়ে টাকার মান কমেছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা। এর আগে গত ২৯ মে দেশে ডলারের এক রেট ৮৯ টাকা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু, পরবর্তীতে এই রেট উঠিয়ে দিয়ে ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর দুই-একদিন পরপরই বাড়ছে ডলারের দাম।

ডলারের দাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু, এরপর থেকেই বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়, যা এখনও অব্যাহত আছে। ২০২১ সালের আগস্টের শুরুতেও আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের দাম একই ছিল। ৩ আগস্ট থেকে দুই-এক পয়সা করে বাড়তে বাড়তে গত বছরের ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো ডলারের দাম ৮৫ টাকা ছাড়ায়।

এদিকে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কেনাবেচা হয়েছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায়। ৯ জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ টাকা। গত ২৩ মার্চ তা বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা হয়। গত ২৭ এপ্রিল ডলার প্রতি ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে।

গত ১০ মে ডলার প্রতি আরও ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। গত ১৬ মে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২৩ মে ফের ৪০ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এরপরও বাজার স্থিতিশীল হয়নি।

পরে সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশের (এবিবি) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৯ টাকা বেঁধে দেয়। আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির জন্য বিসি সেলিং রেট নির্ধারণ করা হয় ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা। যদিও ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৯ টাকা ৮০ পয়সার প্রস্তাব করেছিল। তাতেও বাজার স্থিতিশীল না হওয়ায় ডলারের এক রেট উঠিয়ে দিয়ে গত ২ জুন আরও ৯০ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দাম ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। গত ৬ জুন প্রতি ডলারের দাম ৯১ টাকা ৫০ পয়সা, ৭ জুন ৯১.৯৫ টাকা, ৮ জুন ৯২ টাকা, ১৩ জুন ৯২.৫০ টাকা, ১৫ জুন ৯২.৮০ টাকা, ২১ জুন ৯২.৯০ টাকা, ২২ জুন ৯২.৯৫ টাকা, ২৮ জুন ৯৩.৪৫ টাকা, ২৯ জুন ৯৩.৪৪ টাকা, ৩০ জুন ৯৩.৪৫ টাকা, ১৪ জুলাই ৯৩.৬১ টাকা, ১৭ জুলাই ৯৩.৯৫ টাকা, ২১ জুলাই ৯৪.৪৫ টাকা এবং ২৫ জুলাই ৯৪.৭০ টাকা হয়। বুধবার আন্তঃব্যাংকে ডলার লেনদেন হয়েছে ৯৪.৯৫ টাকায়, যা ডলারের দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

প্রভাতী খবর ডেস্ক

১০ আগস্ট, ২০২২,  11:03 PM

news image

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের পরও কাটেনি ডলার সংকট। আন্তঃব্যাংক লেনদেন ও খোলাবাজারে ডলারের দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখী।

সব রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম খোলাবাজারে ডলার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ১১৯ টাকা, যা সোমবার ছিল ১১৫ টাকা। খোলাবাজারে সাধারণ গ্রাহক ডলার বিক্রি করলে পাচ্ছেন ১১৫ টাকা থেকে ১১৬ টাকা। কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে ১১৯ টাকা।

গত রোববার খোলা বাজারে ডলারের দাম ছিল ১১১ টাকা। এর আগে, গত ২৬ জুলাই ডলারের দাম বেড়ে ১১২ টাকা হয়।

বুধবার (১০ আগস্ট) খোলাবাজারে ডলার ব্যবসায়ী ও মানি এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ মানি এক্সচেঞ্জেই এখন নগদ ডলার সংকট। বিক্রির চেয়ে কিনছে বেশি। মানি এক্সচেঞ্জগুলো ১১৫/১১৬ টাকায় ডলার কিনলেও বিক্রি করছে ১১৯ টাকায়। তবে বিক্রি করার লোক নেই। আবার এতদিন যারা রাস্তায় ডলার কেনাবেচা করতেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ভয়ে তারাও সরাসরি কেনাবেচা করছেন। শুধু খোলাবাজারে নয়, বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাংকগু‌লো‌তেও ১০৮ থে‌কে ১১০ টাকার ওপরে নগদ ডলার বি‌ক্রি হচ্ছে।

মতিঝিলের খুচরা ডলার এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে থেকে নগদ ডলার কেনাবেচা করি। যারা বিদেশ যান তাদের খুচরা কিছু ডলার লাগে। ব্যাংকে গেলে বিভিন্ন ঝামেলা হয়। আমাদের কাছ থেকে সহজে ডলার কিনতে পারেন। তবে খোলাবাজারে ডলারের চা‌হিদা বে‌শি, সরবরাহ কম। তীব্র সংকট চলছে। ডলার নেই তাই রেটও বলা যাবে না।

শাখারিবাজারের সেঞ্চুরি মানি এক্সচেঞ্জের কর্মচারী জানান, যারা বিদেশ থেকে খুচরা ডলার নিয়ে আসেন তারা আমাদের কাছে বিক্রি করেন। আবার অনেকে ডলার নিয়ে যান, সব খরচ হয় না, তারাও ফেরত দেন। প্রতিদিন দুই তিন হাজার ডলার বিক্রি হয়। বাজার ভালো থাকলে এক দেড় হাজার টাকা পাই। এখন বাজারে ডলারের চাহিদা আছে। কিন্তু ডলার নেই। দামেরও ঠিক নেই। আবার ভয় আছে। আগে সরাসরি বিক্রি করলে কোনো সমস্যা হতো না। এখন পুলিশে ধরছে। তাই ব্যবসা করা সমস্যাজনক। আজ সকালের শুরুতে নগদ ডলার বি‌ক্রি করেছি ১১৬ টাকায়। পরে আর ডলার নেই। এখন ১১৭ টাকায়ও ডলার পাচ্ছি না।

এদিকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডলার সংরক্ষণ করে দাম বা‌ড়ি‌য়ে‌ বি‌ক্রি ক‌রার প্রমাণ পাওয়ায় গত সোমবার দে‌শি-বি‌দে‌শি ৬টি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভা‌গের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অপসারণ কর‌তে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো— বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, সি‌টি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক এবং বিদেশি খা‌তের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

এছাড়া ডলারের কারসা‌জি রো‌ধে খোলাবাজার ও এক্স‌চেঞ্জ হাউজগু‌লো‌তে ধারাবা‌হিক অভিযান পরিচালনা ক‌রছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহ পর্যন্ত কারসা‌জির অপরা‌ধে পাঁচ মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপা‌শি ৪২টি‌কে শোকজ করা হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নি‌তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হ‌য়েছে।

জানা গেছে, তিন মাসের মধ্যে ১৯ দফা বাড়ানো হয়েছে ডলারের দাম। আলোচ্য সময়ে টাকার মান কমেছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা। এর আগে গত ২৯ মে দেশে ডলারের এক রেট ৮৯ টাকা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু, পরবর্তীতে এই রেট উঠিয়ে দিয়ে ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর দুই-একদিন পরপরই বাড়ছে ডলারের দাম।

ডলারের দাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু, এরপর থেকেই বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়, যা এখনও অব্যাহত আছে। ২০২১ সালের আগস্টের শুরুতেও আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের দাম একই ছিল। ৩ আগস্ট থেকে দুই-এক পয়সা করে বাড়তে বাড়তে গত বছরের ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো ডলারের দাম ৮৫ টাকা ছাড়ায়।

এদিকে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কেনাবেচা হয়েছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায়। ৯ জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ টাকা। গত ২৩ মার্চ তা বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা হয়। গত ২৭ এপ্রিল ডলার প্রতি ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে।

গত ১০ মে ডলার প্রতি আরও ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। গত ১৬ মে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২৩ মে ফের ৪০ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এরপরও বাজার স্থিতিশীল হয়নি।

পরে সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশের (এবিবি) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৯ টাকা বেঁধে দেয়। আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির জন্য বিসি সেলিং রেট নির্ধারণ করা হয় ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা। যদিও ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৯ টাকা ৮০ পয়সার প্রস্তাব করেছিল। তাতেও বাজার স্থিতিশীল না হওয়ায় ডলারের এক রেট উঠিয়ে দিয়ে গত ২ জুন আরও ৯০ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দাম ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। গত ৬ জুন প্রতি ডলারের দাম ৯১ টাকা ৫০ পয়সা, ৭ জুন ৯১.৯৫ টাকা, ৮ জুন ৯২ টাকা, ১৩ জুন ৯২.৫০ টাকা, ১৫ জুন ৯২.৮০ টাকা, ২১ জুন ৯২.৯০ টাকা, ২২ জুন ৯২.৯৫ টাকা, ২৮ জুন ৯৩.৪৫ টাকা, ২৯ জুন ৯৩.৪৪ টাকা, ৩০ জুন ৯৩.৪৫ টাকা, ১৪ জুলাই ৯৩.৬১ টাকা, ১৭ জুলাই ৯৩.৯৫ টাকা, ২১ জুলাই ৯৪.৪৫ টাকা এবং ২৫ জুলাই ৯৪.৭০ টাকা হয়। বুধবার আন্তঃব্যাংকে ডলার লেনদেন হয়েছে ৯৪.৯৫ টাকায়, যা ডলারের দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড।