শিরোনামঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: বিপন্ন মানুষ, বিপন্ন পৃথিবী ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতা চেয়ে রুল জারি বন্যা মোকাবেলায় খাল খনন কর্মসূচি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে শিক্ষার্থীরা রাজপথে, নাকি পেছনে রাজনীতির ছায়া? জল দুর্গ গড়তে ঢাকার মেয়র প্রার্থী হবেন শামীম আহমদ বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন বিএবি মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছাত্রদল নেতা সোহাগ ভূঁইয়া ডিএনএ রিপোর্টে মিল, ধর্ষণ মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে; বিচারাধীন মিজানুর রহমান রিপন, ন্যায়বিচারের আশায় এক নারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানির অভিযোগ অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়, , রয়েল ইউনিভার্সিটি ঢাকা দেখার কেউ নেই,,,,

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: বিপন্ন মানুষ, বিপন্ন পৃথিবী

#
news image

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো সতর্কবার্তা নয়—এটি বর্তমানের নির্মম বাস্তবতা। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার একটি চরাঞ্চলের গ্রামে বসবাসকারী রোকেয়া বেগমের কণ্ঠে উচ্চারিত একটি বাক্য—“মাটি আর আগের মতো নাই, পানি খাইতেও কষ্ট”—সমগ্র সংকটের সারাংশ তুলে ধরে।

উন্নয়নের উল্লাসে এগিয়ে চলা মানবসভ্যতা আজ নিজের হাতেই নিজের অস্তিত্বকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। মেরুর বরফ গলছে, সমুদ্রের পানি বাড়ছে, প্রকৃতির ছন্দ ভেঙে পড়ছে—আর তার সরাসরি আঘাত এসে পড়ছে সবচেয়ে অসহায় মানুষের জীবনে। বাংলাদেশে এই সংকটের চিত্র আরও স্পষ্ট ও বেদনাদায়ক।

নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, উপকূলে বাড়ছে লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় হয়ে উঠছে আরও ঘন ও তীব্র। চাঁদপুরের চরাঞ্চলগুলোতে প্রতিটি দিন মানেই অনিশ্চয়তা—আজ আছে, কাল নেই। মানুষ ঘর হারাচ্ছে, জমি হারাচ্ছে, পরিচয় হারাচ্ছে। এরা পরিসংখ্যানের সংখ্যা নয়; এরা জলবায়ু পরিবর্তনের জীবন্ত সাক্ষ্য। এই বিপর্যয়ের পেছনে দায় অস্বীকারের সুযোগ নেই। শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির নির্বিচার ব্যবহার, বন উজাড়—সবকিছু মিলিয়ে মানুষই তৈরি করেছে এই সংকট। অথচ এর সবচেয়ে বড় মাশুল দিচ্ছে সেই মানুষগুলো, যারা এই সংকট তৈরিতে সবচেয়ে কম দায়ী। আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

এখন আর আলোচনা বা প্রতিশ্রুতিতে থেমে থাকার সুযোগ নেই। প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত—জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থান। একই সঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশের সংকট নয়; এটি মানবতার অস্তিত্বের লড়াই।

আজ যে রোকেয়ার কণ্ঠে আমরা অসহায়তার সুর শুনছি, আগামীকাল তা আমাদের সবার বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে। এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—আমরা কি বাঁচার পথ বেছে নেব, নাকি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাব।

 

শাহাদাত হোসেন সবুজ

০৪ আগস্ট, ২০২৬,  3:22 AM

news image
সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো সতর্কবার্তা নয়—এটি বর্তমানের নির্মম বাস্তবতা। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার একটি চরাঞ্চলের গ্রামে বসবাসকারী রোকেয়া বেগমের কণ্ঠে উচ্চারিত একটি বাক্য—“মাটি আর আগের মতো নাই, পানি খাইতেও কষ্ট”—সমগ্র সংকটের সারাংশ তুলে ধরে।

উন্নয়নের উল্লাসে এগিয়ে চলা মানবসভ্যতা আজ নিজের হাতেই নিজের অস্তিত্বকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। মেরুর বরফ গলছে, সমুদ্রের পানি বাড়ছে, প্রকৃতির ছন্দ ভেঙে পড়ছে—আর তার সরাসরি আঘাত এসে পড়ছে সবচেয়ে অসহায় মানুষের জীবনে। বাংলাদেশে এই সংকটের চিত্র আরও স্পষ্ট ও বেদনাদায়ক।

নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, উপকূলে বাড়ছে লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় হয়ে উঠছে আরও ঘন ও তীব্র। চাঁদপুরের চরাঞ্চলগুলোতে প্রতিটি দিন মানেই অনিশ্চয়তা—আজ আছে, কাল নেই। মানুষ ঘর হারাচ্ছে, জমি হারাচ্ছে, পরিচয় হারাচ্ছে। এরা পরিসংখ্যানের সংখ্যা নয়; এরা জলবায়ু পরিবর্তনের জীবন্ত সাক্ষ্য। এই বিপর্যয়ের পেছনে দায় অস্বীকারের সুযোগ নেই। শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির নির্বিচার ব্যবহার, বন উজাড়—সবকিছু মিলিয়ে মানুষই তৈরি করেছে এই সংকট। অথচ এর সবচেয়ে বড় মাশুল দিচ্ছে সেই মানুষগুলো, যারা এই সংকট তৈরিতে সবচেয়ে কম দায়ী। আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

এখন আর আলোচনা বা প্রতিশ্রুতিতে থেমে থাকার সুযোগ নেই। প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত—জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থান। একই সঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশের সংকট নয়; এটি মানবতার অস্তিত্বের লড়াই।

আজ যে রোকেয়ার কণ্ঠে আমরা অসহায়তার সুর শুনছি, আগামীকাল তা আমাদের সবার বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে। এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—আমরা কি বাঁচার পথ বেছে নেব, নাকি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাব।