শিরোনামঃ
২২ শ্রাবণ: চিরজাগ্রত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফ্যাসিবাদের শাসনামলে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ---- আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: বিপন্ন মানুষ, বিপন্ন পৃথিবী ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতা চেয়ে রুল জারি বন্যা মোকাবেলায় খাল খনন কর্মসূচি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে শিক্ষার্থীরা রাজপথে, নাকি পেছনে রাজনীতির ছায়া? জল দুর্গ গড়তে ঢাকার মেয়র প্রার্থী হবেন শামীম আহমদ বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানালেন বিএবি মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ছাত্রদল নেতা সোহাগ ভূঁইয়া ডিএনএ রিপোর্টে মিল, ধর্ষণ মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে; বিচারাধীন মিজানুর রহমান রিপন, ন্যায়বিচারের আশায় এক নারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা

২২ শ্রাবণ: চিরজাগ্রত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

#
news image

প্রয়াণের ৮৫ বছর পরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির চেতনা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধে সমান প্রাসঙ্গিক

আজ ২২ শ্রাবণ। বাঙালির হৃদয়ের গভীরে শোক, শ্রদ্ধা ও চেতনার এক অনির্বাণ দিন। ১৯৪১ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তবে তার প্রস্থান কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এক অনন্ত যাত্রার সূচনা, যেখানে তার সৃষ্টি, চিন্তা ও দর্শন আজও আমাদের পথ দেখায়, আলো দেয়, প্রশ্ন তোলে।

রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন কবি নন; তিনি এক সম্পূর্ণ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা বিশ্বমানচিত্রে বাঙালির পরিচয়কে নতুন মর্যাদা দিয়েছে। কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তার অবাধ বিচরণ তাকে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে নতুন ইতিহাস রচনা করেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মহত্ত্ব কেবল তার সাহিত্যকীর্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন মানবতার কবি, স্বাধীন চিন্তার প্রবক্তা এবং এক গভীর দার্শনিক। তার লেখায় বারবার উঠে এসেছে মানুষের মুক্তি, সাম্যের বোধ, প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা এবং আত্মিক উন্নতির কথা। ঔপনিবেশিক শাসনের কঠিন সময়ে তিনি যেমন স্বাধীনতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন, তেমনি অন্ধ জাতীয়তাবাদেরও সমালোচনা করেছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল মানবিক, উদার এবং বিশ্বজনীন।

২২ শ্রাবণ তাই শুধু শোকের দিন নয়; এটি আমাদের আত্মপরিচয় ফিরে দেখার দিন। এই দিনে আমরা উপলব্ধি করি—রবীন্দ্রনাথ আমাদের সংস্কৃতির রক্তধারায় কত গভীরভাবে মিশে আছেন। তার গান ছাড়া বাঙালির আনন্দ-উৎসব অসম্পূর্ণ, তার কবিতা ছাড়া প্রেমের ভাষা অপূর্ণ, তার চিন্তা ছাড়া মানবিকতার আলো ম্লান। আজকের এই সময়েও রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যখন সমাজে বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও সংকীর্ণতা বাড়ছে, তখন তার “মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ”—এই বাণী আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে, যেখানে মানুষ ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, সেখানে রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি-প্রেম, সৌন্দর্যবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ আমাদের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

বিশ্বায়নের এই যুগে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায়ও রবীন্দ্রনাথ এক অটল স্তম্ভ। তার সৃষ্টি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, একই সঙ্গে বিশ্বমানবতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। তাই তিনি কেবল অতীতের স্মৃতি নন—তিনি বর্তমানের শক্তি এবং ভবিষ্যতের দিশারি।

২২ শ্রাবণে আমরা তাকে স্মরণ করি, কিন্তু এই স্মরণ যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। তার আদর্শ, তার চিন্তা, তার মানবিকতা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠুক—এই হোক আজকের অঙ্গীকার। কবি গুরু, আপনার প্রয়াণে শূন্যতা তৈরি হলেও আপনার সৃষ্টির আলো কখনো নিভে যায়নি, নিভবে না। আপনি আছেন আমাদের প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি সুরে, প্রতিটি চেতনায়।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়—চিরন্তন রবীন্দ্রনাথ।

 

মো : গোলাম মোস্তফা

০৬ আগস্ট, ২০২৬,  5:56 PM

news image

প্রয়াণের ৮৫ বছর পরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির চেতনা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধে সমান প্রাসঙ্গিক

আজ ২২ শ্রাবণ। বাঙালির হৃদয়ের গভীরে শোক, শ্রদ্ধা ও চেতনার এক অনির্বাণ দিন। ১৯৪১ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তবে তার প্রস্থান কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এক অনন্ত যাত্রার সূচনা, যেখানে তার সৃষ্টি, চিন্তা ও দর্শন আজও আমাদের পথ দেখায়, আলো দেয়, প্রশ্ন তোলে।

রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন কবি নন; তিনি এক সম্পূর্ণ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা বিশ্বমানচিত্রে বাঙালির পরিচয়কে নতুন মর্যাদা দিয়েছে। কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তার অবাধ বিচরণ তাকে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে নতুন ইতিহাস রচনা করেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মহত্ত্ব কেবল তার সাহিত্যকীর্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন মানবতার কবি, স্বাধীন চিন্তার প্রবক্তা এবং এক গভীর দার্শনিক। তার লেখায় বারবার উঠে এসেছে মানুষের মুক্তি, সাম্যের বোধ, প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা এবং আত্মিক উন্নতির কথা। ঔপনিবেশিক শাসনের কঠিন সময়ে তিনি যেমন স্বাধীনতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন, তেমনি অন্ধ জাতীয়তাবাদেরও সমালোচনা করেছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল মানবিক, উদার এবং বিশ্বজনীন।

২২ শ্রাবণ তাই শুধু শোকের দিন নয়; এটি আমাদের আত্মপরিচয় ফিরে দেখার দিন। এই দিনে আমরা উপলব্ধি করি—রবীন্দ্রনাথ আমাদের সংস্কৃতির রক্তধারায় কত গভীরভাবে মিশে আছেন। তার গান ছাড়া বাঙালির আনন্দ-উৎসব অসম্পূর্ণ, তার কবিতা ছাড়া প্রেমের ভাষা অপূর্ণ, তার চিন্তা ছাড়া মানবিকতার আলো ম্লান। আজকের এই সময়েও রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যখন সমাজে বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও সংকীর্ণতা বাড়ছে, তখন তার “মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ”—এই বাণী আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে, যেখানে মানুষ ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, সেখানে রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি-প্রেম, সৌন্দর্যবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ আমাদের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

বিশ্বায়নের এই যুগে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায়ও রবীন্দ্রনাথ এক অটল স্তম্ভ। তার সৃষ্টি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, একই সঙ্গে বিশ্বমানবতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। তাই তিনি কেবল অতীতের স্মৃতি নন—তিনি বর্তমানের শক্তি এবং ভবিষ্যতের দিশারি।

২২ শ্রাবণে আমরা তাকে স্মরণ করি, কিন্তু এই স্মরণ যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। তার আদর্শ, তার চিন্তা, তার মানবিকতা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠুক—এই হোক আজকের অঙ্গীকার। কবি গুরু, আপনার প্রয়াণে শূন্যতা তৈরি হলেও আপনার সৃষ্টির আলো কখনো নিভে যায়নি, নিভবে না। আপনি আছেন আমাদের প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি সুরে, প্রতিটি চেতনায়।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়—চিরন্তন রবীন্দ্রনাথ।