শিরোনামঃ
মামলা-কারাবরণ পেরিয়ে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তোফায়েল পাটোয়ারী নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি রয়েল বিশ্ববিদ্যালয় অব ঢাকা ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও খেলার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ক্ষমতার আড়ালে শিল্প সাম্রাজ্য: পুলিশ কর্মকর্তার ছায়ায় বেনামে ৯৫ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ হালাল খাদ্য: বৈশ্বিক বাস্তবতা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা - মোহা. আমিনুল ইসলাম ২২ শ্রাবণ: চিরজাগ্রত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফ্যাসিবাদের শাসনামলে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ---- আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: বিপন্ন মানুষ, বিপন্ন পৃথিবী ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতা চেয়ে রুল জারি বন্যা মোকাবেলায় খাল খনন কর্মসূচি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে

মামলা-কারাবরণ পেরিয়ে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তোফায়েল পাটোয়ারী

#
news image

মামলা, কারাবরণ, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মো. তোফায়েল পাটোয়ারী। ৩৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

বর্তমানে তোফায়েল পাটোয়ারী মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৪ সালের ১০ অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী তোফায়েল পাটোয়ারী উপজেলার লুধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ পাটোয়ারী। তিনি মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৯ সালে মতলব ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে তিনি মতলব কলেজ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে কমনরুম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ সময় তাঁর বাড়িঘর লুটপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর চার ভাইও একই মামলায় আসামি হয়ে কারাভোগ করেছেন বলে জানান তোফায়েল পাটোয়ারী। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর পরিবারকে বিভিন্ন সময় চাপ, হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের আদর্শ থেকে সরে যাননি এবং স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, দুঃসময়ে নির্যাতন সহ্য করেও দলের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের পাশে তিনি সবসময় ছিলেন।

২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়। তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, তৎকালীন সরকারের চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব, সন্ত্রাস ও ভোট কারচুপির অভিযোগের মধ্যেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে তিনি বিজয়ী হতে পারতেন বলেও মনে করেন তিনি।

ওই নির্বাচন প্রসঙ্গে তোফায়েল পাটোয়ারী তাঁর বাবার একটি বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, ভোট দিতে গিয়ে তাঁর বাবা বাধার মুখে পড়েন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এ ঘটনায় তাঁর বাবা গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে মারা যান বলে জানান তিনি।তোফায়েল পাটোয়ারী বলেন, “আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা কখনোই ভোলার মতো নয়। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা আমার অন্যতম অঙ্গীকার।”

তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে রাস্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি।

তোফায়েল পাটোয়ারীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। সুযোগ পেলে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নকে উন্নত, জনবান্ধব ও সেবামুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।মামলা, কারাবরণ, পারিবারিক ত্যাগ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন জনগণের রায়ের প্রত্যাশায় রয়েছেন তোফায়েল পাটোয়ারী। তিনি আশা করছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবে।

পাশাপাশি ভোটাররা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে মূল্যায়ন করবেন বলেও প্রত্যাশা তাঁর।উল্লেখ্য, তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলায় বর্তমানে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। তাঁর ছোট ভাই শরীফ আহম্মেদ লিটন মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

মো: গোলাম মোস্তফা

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  10:52 PM

news image
মো: তোফায়েল পাটোয়ারী

মামলা, কারাবরণ, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মো. তোফায়েল পাটোয়ারী। ৩৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

বর্তমানে তোফায়েল পাটোয়ারী মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৪ সালের ১০ অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী তোফায়েল পাটোয়ারী উপজেলার লুধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ পাটোয়ারী। তিনি মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৯ সালে মতলব ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে তিনি মতলব কলেজ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে কমনরুম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ সময় তাঁর বাড়িঘর লুটপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর চার ভাইও একই মামলায় আসামি হয়ে কারাভোগ করেছেন বলে জানান তোফায়েল পাটোয়ারী। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর পরিবারকে বিভিন্ন সময় চাপ, হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের আদর্শ থেকে সরে যাননি এবং স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, দুঃসময়ে নির্যাতন সহ্য করেও দলের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের পাশে তিনি সবসময় ছিলেন।

২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়। তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, তৎকালীন সরকারের চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব, সন্ত্রাস ও ভোট কারচুপির অভিযোগের মধ্যেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে তিনি বিজয়ী হতে পারতেন বলেও মনে করেন তিনি।

ওই নির্বাচন প্রসঙ্গে তোফায়েল পাটোয়ারী তাঁর বাবার একটি বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, ভোট দিতে গিয়ে তাঁর বাবা বাধার মুখে পড়েন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এ ঘটনায় তাঁর বাবা গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে মারা যান বলে জানান তিনি।তোফায়েল পাটোয়ারী বলেন, “আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা কখনোই ভোলার মতো নয়। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা আমার অন্যতম অঙ্গীকার।”

তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে রাস্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি।

তোফায়েল পাটোয়ারীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। সুযোগ পেলে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নকে উন্নত, জনবান্ধব ও সেবামুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।মামলা, কারাবরণ, পারিবারিক ত্যাগ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন জনগণের রায়ের প্রত্যাশায় রয়েছেন তোফায়েল পাটোয়ারী। তিনি আশা করছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবে।

পাশাপাশি ভোটাররা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে মূল্যায়ন করবেন বলেও প্রত্যাশা তাঁর।উল্লেখ্য, তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলায় বর্তমানে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। তাঁর ছোট ভাই শরীফ আহম্মেদ লিটন মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।