শিরোনামঃ
পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়না চক্রের জুলুম মামলা-কারাবরণ পেরিয়ে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তোফায়েল পাটোয়ারী নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি রয়েল বিশ্ববিদ্যালয় অব ঢাকা ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও খেলার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ক্ষমতার আড়ালে শিল্প সাম্রাজ্য: পুলিশ কর্মকর্তার ছায়ায় বেনামে ৯৫ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ হালাল খাদ্য: বৈশ্বিক বাস্তবতা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা - মোহা. আমিনুল ইসলাম ২২ শ্রাবণ: চিরজাগ্রত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফ্যাসিবাদের শাসনামলে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ---- আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: বিপন্ন মানুষ, বিপন্ন পৃথিবী ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতা চেয়ে রুল জারি

পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়না চক্রের জুলুম

#
news image

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এর প্রশাসন অনু বিভাগ এ সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরটির একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি বদলির প্রক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিক অনুসরণ করা হয় না। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জোর যার মুলুক তার স্টাইলে সকল কাজ করে অতিরিক্ত সচিব রায়না আহমেদ।

প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব রায়না আহমদ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাসীনদের ম্যানেজ করে তাদেরকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নানারকম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অনিয়মের ধরণ সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায়, রায়না আহমদ পরীক্ষা ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্বেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্যদের পদন্নোতি দিয়েছে। 

সিস্টেম এনালিস্ট এটি.এন. আলিমুজ্জামান, প্রোগ্রামার মোঃ আমিনুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-২ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, নুর-এ জান্নাত (সহকারী লাইব্রেরীয়ান), মোঃ সাকিল কেয়ারটেকার ও একান্ত সহযোগী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম রায়না আহমদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রেখে যেকোনো অনিয়মকে নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এই কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

মোঃ উজ্জল বর্তমান প্রশাসনিকা কর্মকর্তা, মো: হাসান আলী (বর্তমান ব্যক্তিগত কর্মকর্তা), মোছা: আমেনা বেগম (বর্তমান আইন-১ শাখায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত), মোঃ সেলিম, বর্তমানে প্রশাসন-২ শাখায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত, বেগম নাসরিন আক্তার (হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা) এই পাচজনকে নিয়ম উপেক্ষা করে পদন্নোতি দেয়া হয়েছে। সুত্র বলছে, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বেগম নাসরিন আক্তার ভুয়া সনদে চাকুরী করছে।

হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বেগম নাসরিন আক্তারের সনদ জাল কি-না জানতে শনিবার বিকেল সারে পাঁচটায় হটসঅ্যপে ফোন করলে সেখানে তার সাথে ১৫ মিনিটে যে কথপোকথন হয়েছে তার শব্দচয়ন উচ্চারণ অপরিবর্তিত রেখে হুবহু লিখে দেয়া হলো:- যে আপনাকে এই তথ্য দিয়েছে দেখেন তার নিজের অপরাধের অভাব নাই। প্রত্যেকের ঘরেবাইরে শত্রু আছে। আমারও আছে। আমি এসএসসির পরে একদিনও সময় নষ্ট করিনি, ১৯৮৮ সালে আমার চাকুরী হয়েছে। তখন চাকরি নিয়েছি অফিস সহকারী ও মুদ্রাক্ষরিক পদে। এর পরে আমার তিনটি পদন্নোতি হয়েছে। আরো দুই বছর চাকরি আছে। সার্টিফিকেট জাল থাকলে তো পদন্নোতি হতো না। এবিষয়ে ২০০৬ সাল থেকে কিছু শয়তান সাংবাদিক আমার তথ্য খোঁজাখুঁজি শুরু করছে। ২০০৯ সালে প্রথম আলোর এক শয়তান সাংবাদিক আমার তথ্য চাওয়ার পরে কাকরাইল মসজিদের সামনে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আপনাকে যে তথ্য দিয়েছে, প্রথম আলোর ওই শয়তান সাংবাদিক তার আপন বোন জামাই। আমার মন্ত্রণালয়ের ওই শয়তানের সাথে আপনি জিগ্যেস করে জানতে পারবেন তার আপন বোন জামাই। এমন শয়তান আমার জা মানুষের হয়! সেটা ভাবতেই ঘৃণা হয়। আপনি ওই শয়তানকে জিগ্যেস করেন, তোর কি কি ত্রুটি আছে। আমি তো অন্যের ত্রুটির তথ্য দেব না। জাল সার্টিফিকেট তথ্য প্রথম ২০০৬ সালে যখন সাংবাদিকরা জানতে চায় তখন তখনই বুঝছি ওই শয়তান তথ্য দিয়েছে। আমার স্বামী তখন আমাকে বলেছিলো যাও, ওরে গিয়ে দুগালে দুটো থাপ্পড় লাগায়ে দাও। আমি তো নিজের 'জা' কে থাপ্পড় মারতে পারি না। এসব ঘটনার কারনেই আমার স্বামী তখন হার্ট অ্যাটাক করে। সেই সময় (২০ বছর আগে) সচিব নিজউদ্যোগে আমার স্বামীর চিকিৎসা করেছিলো। এসব ঘটনার কারনেই আমার সন্তানটাও আজ দুরে। আর আমার অপরাধ হলো আমি আমার হাসবেন্ডের স্ত্রী। আপনি যদি আমার সাথে কথা বলতে চান তাহলে সচিব স্যারের পারমিশন নিয়ে আসেন, আমি সব কথা বলবো। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা সচিবের দপ্তরের বাইরে এবিষয়ে কেউ তদন্ত করতে পারবে না। ওই শয়তান দুদকের চিঠি নিয়ে এসেছিলো একবার। কি হবে তাতে। আমাদের সচিব গিয়ে দুদকের সচিব হয়েছিলো। কোথাকার একটি সীলমোহর দিয়ে দুদকের চিঠি নিয়ে এসেছিলো। এতে আমার কিছু হবে না। আপনি বলেন, আমার তিনটি প্রমোশন হলো কি এমনই! আমার মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং পিএসসি মিলে এমন প্রমোশন হয়েছে। আমার মন্ত্রণালয় না-হয় আমি ম্যানেজ করলাম, পিএসসি ও অন্য মন্ত্রণালয় কি ম্যানেজ করা সম্ভব? আপনি বলেন। আমি এখন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। আমার আপন জা এতো বড় অসভ্য তা আর কি বলব। যাইহোক, আপনাকে অনেক কথাই বলে ফেললাম সরি।

উল্লেখ্য পদের জন্য একই মন্ত্রণালয়ে যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ, পদন্নোতি ও বিশেষ সুবিধা প্রধান প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়াও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থার অযোগ্য ব্যক্তিদের আর্থিক অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সাথে নেপথ্যে যুক্ত থাকারও অভিযোগ পাওয়া যায়। পদন্নোতি বদলির কিংবা যেকোনো কাজে তিনিই সিদ্ধান্ত দেন বলে প্রভাব বিস্তার করে অধস্তন কর্মচারীদের নিকট নিজেকে অঘোষিত "সচিব" হিসেবে উপস্থাপন করে।

রায়না আহমদ বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয়কে নিজের বসত-বাড়ি মনে করে যা ইচ্ছা তাই করে। মন্ত্রণালয়ের সফল ধরণের প্রকল্প ও টেন্ডার তার আত্মীর-সজনের মাধ্যমে টাকা খেয়ে টেন্ডার বাণিজ্য করে থাকেন। তার একান্ত সহযোগী বলেন রায়না ম্যাম পাট মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রী। তার সিদ্ধান্ত এখানে শেষ কথা। ইচ্ছামত কর্মচারীদের সাথে যা করবে (অন্যায়-অবিচার) সকলকে মেনে নিতে হবে। এই রায়নাকে অনেকবার বদলি করা হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি বদলি বাতিল করেন।

এসব অভিযোগ রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হলেও রায়না আহমদ এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কেউ। এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মন্তব্য জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানান, যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে শূণ্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখা হবে। কিন্তু ফলস্বরূপ কোনো কিছুই ঘটেনি।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অতিরিক্ত সচিব রায়না আহমদের মন্তব্য চেয়ে একাধিক বার ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটা তার হটসঅ্যপে যোগাযোগ করা হয়েছিলো।

শামীম আহমদ

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  4:53 PM

news image

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এর প্রশাসন অনু বিভাগ এ সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরটির একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি বদলির প্রক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিক অনুসরণ করা হয় না। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জোর যার মুলুক তার স্টাইলে সকল কাজ করে অতিরিক্ত সচিব রায়না আহমেদ।

প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব রায়না আহমদ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাসীনদের ম্যানেজ করে তাদেরকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নানারকম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অনিয়মের ধরণ সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায়, রায়না আহমদ পরীক্ষা ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্বেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্যদের পদন্নোতি দিয়েছে। 

সিস্টেম এনালিস্ট এটি.এন. আলিমুজ্জামান, প্রোগ্রামার মোঃ আমিনুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-২ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, নুর-এ জান্নাত (সহকারী লাইব্রেরীয়ান), মোঃ সাকিল কেয়ারটেকার ও একান্ত সহযোগী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম রায়না আহমদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রেখে যেকোনো অনিয়মকে নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এই কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

মোঃ উজ্জল বর্তমান প্রশাসনিকা কর্মকর্তা, মো: হাসান আলী (বর্তমান ব্যক্তিগত কর্মকর্তা), মোছা: আমেনা বেগম (বর্তমান আইন-১ শাখায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত), মোঃ সেলিম, বর্তমানে প্রশাসন-২ শাখায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত, বেগম নাসরিন আক্তার (হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা) এই পাচজনকে নিয়ম উপেক্ষা করে পদন্নোতি দেয়া হয়েছে। সুত্র বলছে, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বেগম নাসরিন আক্তার ভুয়া সনদে চাকুরী করছে।

হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বেগম নাসরিন আক্তারের সনদ জাল কি-না জানতে শনিবার বিকেল সারে পাঁচটায় হটসঅ্যপে ফোন করলে সেখানে তার সাথে ১৫ মিনিটে যে কথপোকথন হয়েছে তার শব্দচয়ন উচ্চারণ অপরিবর্তিত রেখে হুবহু লিখে দেয়া হলো:- যে আপনাকে এই তথ্য দিয়েছে দেখেন তার নিজের অপরাধের অভাব নাই। প্রত্যেকের ঘরেবাইরে শত্রু আছে। আমারও আছে। আমি এসএসসির পরে একদিনও সময় নষ্ট করিনি, ১৯৮৮ সালে আমার চাকুরী হয়েছে। তখন চাকরি নিয়েছি অফিস সহকারী ও মুদ্রাক্ষরিক পদে। এর পরে আমার তিনটি পদন্নোতি হয়েছে। আরো দুই বছর চাকরি আছে। সার্টিফিকেট জাল থাকলে তো পদন্নোতি হতো না। এবিষয়ে ২০০৬ সাল থেকে কিছু শয়তান সাংবাদিক আমার তথ্য খোঁজাখুঁজি শুরু করছে। ২০০৯ সালে প্রথম আলোর এক শয়তান সাংবাদিক আমার তথ্য চাওয়ার পরে কাকরাইল মসজিদের সামনে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আপনাকে যে তথ্য দিয়েছে, প্রথম আলোর ওই শয়তান সাংবাদিক তার আপন বোন জামাই। আমার মন্ত্রণালয়ের ওই শয়তানের সাথে আপনি জিগ্যেস করে জানতে পারবেন তার আপন বোন জামাই। এমন শয়তান আমার জা মানুষের হয়! সেটা ভাবতেই ঘৃণা হয়। আপনি ওই শয়তানকে জিগ্যেস করেন, তোর কি কি ত্রুটি আছে। আমি তো অন্যের ত্রুটির তথ্য দেব না। জাল সার্টিফিকেট তথ্য প্রথম ২০০৬ সালে যখন সাংবাদিকরা জানতে চায় তখন তখনই বুঝছি ওই শয়তান তথ্য দিয়েছে। আমার স্বামী তখন আমাকে বলেছিলো যাও, ওরে গিয়ে দুগালে দুটো থাপ্পড় লাগায়ে দাও। আমি তো নিজের 'জা' কে থাপ্পড় মারতে পারি না। এসব ঘটনার কারনেই আমার স্বামী তখন হার্ট অ্যাটাক করে। সেই সময় (২০ বছর আগে) সচিব নিজউদ্যোগে আমার স্বামীর চিকিৎসা করেছিলো। এসব ঘটনার কারনেই আমার সন্তানটাও আজ দুরে। আর আমার অপরাধ হলো আমি আমার হাসবেন্ডের স্ত্রী। আপনি যদি আমার সাথে কথা বলতে চান তাহলে সচিব স্যারের পারমিশন নিয়ে আসেন, আমি সব কথা বলবো। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা সচিবের দপ্তরের বাইরে এবিষয়ে কেউ তদন্ত করতে পারবে না। ওই শয়তান দুদকের চিঠি নিয়ে এসেছিলো একবার। কি হবে তাতে। আমাদের সচিব গিয়ে দুদকের সচিব হয়েছিলো। কোথাকার একটি সীলমোহর দিয়ে দুদকের চিঠি নিয়ে এসেছিলো। এতে আমার কিছু হবে না। আপনি বলেন, আমার তিনটি প্রমোশন হলো কি এমনই! আমার মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং পিএসসি মিলে এমন প্রমোশন হয়েছে। আমার মন্ত্রণালয় না-হয় আমি ম্যানেজ করলাম, পিএসসি ও অন্য মন্ত্রণালয় কি ম্যানেজ করা সম্ভব? আপনি বলেন। আমি এখন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। আমার আপন জা এতো বড় অসভ্য তা আর কি বলব। যাইহোক, আপনাকে অনেক কথাই বলে ফেললাম সরি।

উল্লেখ্য পদের জন্য একই মন্ত্রণালয়ে যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ, পদন্নোতি ও বিশেষ সুবিধা প্রধান প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়াও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থার অযোগ্য ব্যক্তিদের আর্থিক অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সাথে নেপথ্যে যুক্ত থাকারও অভিযোগ পাওয়া যায়। পদন্নোতি বদলির কিংবা যেকোনো কাজে তিনিই সিদ্ধান্ত দেন বলে প্রভাব বিস্তার করে অধস্তন কর্মচারীদের নিকট নিজেকে অঘোষিত "সচিব" হিসেবে উপস্থাপন করে।

রায়না আহমদ বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয়কে নিজের বসত-বাড়ি মনে করে যা ইচ্ছা তাই করে। মন্ত্রণালয়ের সফল ধরণের প্রকল্প ও টেন্ডার তার আত্মীর-সজনের মাধ্যমে টাকা খেয়ে টেন্ডার বাণিজ্য করে থাকেন। তার একান্ত সহযোগী বলেন রায়না ম্যাম পাট মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রী। তার সিদ্ধান্ত এখানে শেষ কথা। ইচ্ছামত কর্মচারীদের সাথে যা করবে (অন্যায়-অবিচার) সকলকে মেনে নিতে হবে। এই রায়নাকে অনেকবার বদলি করা হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি বদলি বাতিল করেন।

এসব অভিযোগ রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হলেও রায়না আহমদ এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কেউ। এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মন্তব্য জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানান, যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে শূণ্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখা হবে। কিন্তু ফলস্বরূপ কোনো কিছুই ঘটেনি।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অতিরিক্ত সচিব রায়না আহমদের মন্তব্য চেয়ে একাধিক বার ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটা তার হটসঅ্যপে যোগাযোগ করা হয়েছিলো।