শিরোনামঃ
গুলশানের মিছিলে নেতৃত্বে দেওয়া ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন মতলবের ঝর্ণা অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে পানি সম্পদ মন্ত্রী মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই: টুঙ্গিপাড়ায় বৃদ্ধার গাছ কেটে বসতভিটা দখলের অভিযোগ পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়না চক্রের জুলুম মামলা-কারাবরণ পেরিয়ে ১০ নং পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তোফায়েল পাটোয়ারী নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি রয়েল বিশ্ববিদ্যালয় অব ঢাকা ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও খেলার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ক্ষমতার আড়ালে শিল্প সাম্রাজ্য: পুলিশ কর্মকর্তার ছায়ায় বেনামে ৯৫ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ হালাল খাদ্য: বৈশ্বিক বাস্তবতা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা - মোহা. আমিনুল ইসলাম

প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’: না নারীর পক্ষে না পুরুষের বিপক্ষে 

#
news image

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও বাংলাদেশে নারীরা আজও যেনো দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। হিন্দু-মুসলমান, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমাজের সকল বর্গেই নারীরা ‘সংখ্যালঘু-দশা’র মধ্যে বন্দি হয়ে আছে। নারীর এই অসহায় দশা সংখ্যা নয়, ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত। নারীর মুক্তি ও নরের মুক্তি একই সুতোর বাঁধা। এই বিষয়গুলোকে চিন্তার কেন্দ্রে রেখেছে প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’। 
কবি, প্রাবন্ধিক এবং জেন্ডার ও মিডিয়া বিষয়ক গবেষক আফরোজা সোমার জেন্ডার ও মিডিয়া বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’ নিয়ে এক আলোচনা ও আনন্দ-আড্ডায় অংশ নিয়ে বক্তরা এসব কথা বলেন।  
লেখক-পাঠককে মুখোমুখি সাক্ষাতের সুযোগ ঘটিয়ে দিতে গত শুক্রবার বিকেলে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে এই আয়োজন করে বইটির প্রকাশনী সংস্থা ‘হাসান’স’। 
অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন লেখক, গবেষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দীন আহমদ, লেখক-অনুবাদক ও সাংবাদিক রওশন জে চৌধুরী, সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘লোক’-এর সম্পাদক কবি অনিকেত শামীম, কবি ও কথাসাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ, কবি ও সাংবাদিক জুয়েল মোস্তাফিজ এবং গল্পকার বাকিবিল্লাহ।
মহিউদ্দীন আহমদ বলেন, সমাজ বদলাতে হলে সামাজিক মনস্তত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হলে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছোতে হবে। শহুরে জনগোষ্ঠীর কাছে পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছানোর জন্য ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে পরিবর্তনের এই ভাবনাগুলোকে কীভাবে পৌঁছে দেয়া যায়, এ বিষয়ে আরও ভাবতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
লেখক-অনুবাদক রওশন জে চৌধুরী বলেছেন, সমাজে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার ভেতর দিয়েই যে মূলত  নারী ও পুরুষের চরিত্র ও পরিচয় নির্মিত হয় সেই বিষয়টিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’।

‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’কে সময় ও সমাজের থেকে এগিয়ে থাকা গ্রন্থ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আলোচক বাকিবিল্লাহ।
কবি জুয়েল মোস্তাফিজ বলেছেন, মূলধারার গণমাধ্যমে, বিশেষত পত্রিকায় ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের খবরগুলোর ভাষা যে লিঙ্গ-সংবেদনশীল নয় সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা রয়েছে এই গ্রন্থে। তাই, দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বইটি অবশ্য জরুরী পাঠ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 
কবি ও কথাসাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ বলেছেন, পুরুষতন্ত্র যে শুধু নারীকে নয়, পুরুষকেও বন্দী করে রাখে সেই বিষয়টিকে দারুণভাবে তুলে ধরেছে বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প।
কবি অনিকেত শামীম বলেছেন, পুরুষতন্ত্রের জীবাণুতে শুধু পুরুষ নয় নারীরাও যে আক্রান্ত হতে পারে সেই বিষয়টিকে বিভিন্ন উদাহরণ ও প্রেক্ষাপট টেনে এনে পরিস্কার করেছে ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’।
বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প বইয়ে মোট চারটি অধ্যায় ও ২৭টি প্রবন্ধ রয়েছে। 
স্বাধীনতার পর অর্ধ-শতকে এদেশে নারীর মুক্তি কতটুকু এসেছে? নারীকে কীভাবে আজও এ দেশে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে রাখা হয়েছে? প্রান্তিক জেন্ডার হিসেবে নারীর 'সংখ্যালঘু দশা'র পেছনে রাষ্ট্রের দায় কতটুকু? বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিষয়ক খবরগুলোর ভাষা কীভাবে নারীর প্রতি বিদ্যমান অসহনশীলতা ও অসংবেদনশীলতাকে জারী রাখে? এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কেমন করে পুরুষের পায়েও দিয়েছে বন্দীত্বের জিঞ্জির? এই জরুরি প্রসঙ্গগুলোকে খতিয়ে দেখেছে আফরোজা সোমার প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’।
বইটি ২০২১ সালের একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করে প্রকাশনী সংস্থা হাসান’স।  

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ আগস্ট, ২০২২,  10:42 PM

news image

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও বাংলাদেশে নারীরা আজও যেনো দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। হিন্দু-মুসলমান, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমাজের সকল বর্গেই নারীরা ‘সংখ্যালঘু-দশা’র মধ্যে বন্দি হয়ে আছে। নারীর এই অসহায় দশা সংখ্যা নয়, ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত। নারীর মুক্তি ও নরের মুক্তি একই সুতোর বাঁধা। এই বিষয়গুলোকে চিন্তার কেন্দ্রে রেখেছে প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’। 
কবি, প্রাবন্ধিক এবং জেন্ডার ও মিডিয়া বিষয়ক গবেষক আফরোজা সোমার জেন্ডার ও মিডিয়া বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’ নিয়ে এক আলোচনা ও আনন্দ-আড্ডায় অংশ নিয়ে বক্তরা এসব কথা বলেন।  
লেখক-পাঠককে মুখোমুখি সাক্ষাতের সুযোগ ঘটিয়ে দিতে গত শুক্রবার বিকেলে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে এই আয়োজন করে বইটির প্রকাশনী সংস্থা ‘হাসান’স’। 
অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন লেখক, গবেষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দীন আহমদ, লেখক-অনুবাদক ও সাংবাদিক রওশন জে চৌধুরী, সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘লোক’-এর সম্পাদক কবি অনিকেত শামীম, কবি ও কথাসাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ, কবি ও সাংবাদিক জুয়েল মোস্তাফিজ এবং গল্পকার বাকিবিল্লাহ।
মহিউদ্দীন আহমদ বলেন, সমাজ বদলাতে হলে সামাজিক মনস্তত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হলে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছোতে হবে। শহুরে জনগোষ্ঠীর কাছে পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছানোর জন্য ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে পরিবর্তনের এই ভাবনাগুলোকে কীভাবে পৌঁছে দেয়া যায়, এ বিষয়ে আরও ভাবতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
লেখক-অনুবাদক রওশন জে চৌধুরী বলেছেন, সমাজে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার ভেতর দিয়েই যে মূলত  নারী ও পুরুষের চরিত্র ও পরিচয় নির্মিত হয় সেই বিষয়টিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’।

‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’কে সময় ও সমাজের থেকে এগিয়ে থাকা গ্রন্থ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আলোচক বাকিবিল্লাহ।
কবি জুয়েল মোস্তাফিজ বলেছেন, মূলধারার গণমাধ্যমে, বিশেষত পত্রিকায় ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের খবরগুলোর ভাষা যে লিঙ্গ-সংবেদনশীল নয় সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা রয়েছে এই গ্রন্থে। তাই, দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বইটি অবশ্য জরুরী পাঠ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 
কবি ও কথাসাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মুরশেদ বলেছেন, পুরুষতন্ত্র যে শুধু নারীকে নয়, পুরুষকেও বন্দী করে রাখে সেই বিষয়টিকে দারুণভাবে তুলে ধরেছে বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প।
কবি অনিকেত শামীম বলেছেন, পুরুষতন্ত্রের জীবাণুতে শুধু পুরুষ নয় নারীরাও যে আক্রান্ত হতে পারে সেই বিষয়টিকে বিভিন্ন উদাহরণ ও প্রেক্ষাপট টেনে এনে পরিস্কার করেছে ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’।
বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প বইয়ে মোট চারটি অধ্যায় ও ২৭টি প্রবন্ধ রয়েছে। 
স্বাধীনতার পর অর্ধ-শতকে এদেশে নারীর মুক্তি কতটুকু এসেছে? নারীকে কীভাবে আজও এ দেশে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে রাখা হয়েছে? প্রান্তিক জেন্ডার হিসেবে নারীর 'সংখ্যালঘু দশা'র পেছনে রাষ্ট্রের দায় কতটুকু? বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিষয়ক খবরগুলোর ভাষা কীভাবে নারীর প্রতি বিদ্যমান অসহনশীলতা ও অসংবেদনশীলতাকে জারী রাখে? এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কেমন করে পুরুষের পায়েও দিয়েছে বন্দীত্বের জিঞ্জির? এই জরুরি প্রসঙ্গগুলোকে খতিয়ে দেখেছে আফরোজা সোমার প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বেশ্যা ও বিদুষীর গল্প’।
বইটি ২০২১ সালের একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করে প্রকাশনী সংস্থা হাসান’স।