শিরোনামঃ
দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানির অভিযোগ অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়, , রয়েল ইউনিভার্সিটি ঢাকা দেখার কেউ নেই,,,, ​বিয়ানীবাজারে পথরোধ করে হামলা: কুরবানির গরু কেনার টাকাসহ লাখ টাকার মালামাল ছিনতাই, থানায় মামলা উন্নয়নের কফিনে কোটি টাকার লাশ: এলজিইডিতে "ভূতুড়ে প্রকল্প" সাম্রাজ্যের নেপথ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম! পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব ছাড়া নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা সম্ভব নয়: বিএবি কর্মশালা প্রতিমন্ত্রী হতে পারে মাওলানা শামীম সকলের সময়ের নির্বাহী সম্পাদককে হত্যার হুমকি রায়পুরায় মেঘনা গ্রুপের থাবায় ফসলি, অকৃষি, সরকারি খাস জমি ও কাঁকন নদী

বাংলাদেশ কি পারবে গ্যাবাকে মিরপুর বানাতে?

#
news image

নিরান্নবই বিশ্বকাপ থেকে নিয়মিত বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে তো তিরাশির বিশ্বকাপ থেকেই আছে। পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে দুই দল নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক আসরে দুই দলের একবারও দেখা হয়নি।

শুধু পঞ্চাশ ওভার কেন? ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের বড় আসরেও তাদের দেখা মেলেনি। এবার অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষা ফুরাতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দুই দল ১৯ বার মুখোমুখি হওয়ার পর বিশ্বকাপে প্রথমবার লড়তে যাচ্ছে।

খেলাটা হবে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রাচীন ভেন্যু, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ব্রিসবেনের গ্যাবায়। ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া গ্যাবায় অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিল ২০০৬ সালে। অস্ট্রেলিয়ান সামারে গ্যাবায় নিয়মিত টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা হয়। পেসারদের স্বর্গ এই মাঠে টি-টোয়েন্টি হয়েছে মাত্র ছয়টি। বিশ্বকাপে এখনও একটি ম্যাচ হয়নি। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ব্রিসবেন পর্ব। দুই দলও প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক এই মাঠে।

ম্যাচের আগে দুই দলের ড্রেসিংরুমে দুই আবহ। দুই রোমাঞ্চ। পাকিস্তানকে পার্থে হারিয়ে রীতিমত উড়ছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ভাঙা মন আর নড়বড়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলের এ শহরে। দুই দলের আগের ১৯ মুখোমুখির পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের ১২ জয়ের বিপরীতে জিম্বাবুয়ের জয় ৭টিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় জিম্বাবুয়ের ধারের কাছেও নেই বাংলাদেশ। হারারেতে গত জুলাই-আগস্টে তিন ম্যাচের সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। বাংলাদেশকে বলে-কয়ে হারিয়ে জিম্বাবুয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল সেই সিরিজ।

বলা হতে পারে, সেই সিরিজে সাকিব আল হাসান খেলননি। কিন্তু সাকিব থাকলেও ম্যাচের ফল পাল্টাতো কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। কারণ, টি-টোয়েন্টির আগে ওয়ানডে সিরিজেও তারা বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল। ২২ গজে সিকান্দার রাজা, রায়ান বার্লরা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেই বাংলাদেশকে হারিয়েছে। তাইতো ৩৭ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গ্যাবা স্টেডিয়ামে হারারে ফেরাতে চাইবে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশকে আরও একবার হারিয়ে সেমিফাইনালের পথ মসৃণও করতে চাইবে তারা।

এদিকে বাংলাদেশ শেষ সিরিজটি হারলেও ফেলনার পাত্র নয় মোটেও। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলায় দুই দলের শক্তির পার্থক্য সমানই থাকবে। বাংলাদেশেরও সুযোগ থাকবে গ্যাবাকে মিরপুর বানানোর। সাকিবরা পারবেন কিনা সেটাই দেখার। মিরপুর শের-ই-বাংলায় দুই দলের পাঁচ দেখায় বাংলাদেশ কেবল একটি ম্যাচই হেরেছে। সেটাও সাত বছর আগে। ২০২০ সালে সবশেষ দুই দেখায় দুইবারই জিতেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের অভিজ্ঞতা তাই বাংলাদেশের পুঁজি হিসেবেই কাজ করবে। সেই সুখস্মৃতি গ্যাবায় ফেরাতে পারে কিনা সেটাই দেখার।

বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন। কারণ, গোটা দলের পারফরম্যান্স একেবারেই হতশ্রী। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং কিছুই হয়নি। পুচকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঠিকঠাক হয়নি ব্যাটিং। বোলারদের পারফরম্যান্সে পার পেয়েছিল। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দুয়েকটা আসলেও দলীয় পারফরম্যান্স একেবারেই নেই। জিম্বাবুয়ের চিত্র পুরো উল্টো। গোটা দল যে এক হয়ে খেলছে, নিজেদের সাফল্য-ব্যর্থতা একসঙ্গে ভাগাভাগি করছে, সুস্থ ও হাসিখুশি এক পরিবার হয়ে উঠেছে, সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। তাইতো তাদেরকে হারাতে শুধু গ্যাবার ২২ গজে ভালো ক্রিকেট খেললেই হবে না, স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণও করতে হবে। নয়তো এই ম্যাচের এফিটাফ জিম্বাবুয়েই লিখে দেবে।

হারারে নাকি মিরপুর কোথায় হবে আনন্দৎসব? প্রশ্নটা সময়ের কাছেই তোলা থাক।

অনলাইন ডেস্ক

৩০ অক্টোবর, ২০২২,  12:24 AM

news image

নিরান্নবই বিশ্বকাপ থেকে নিয়মিত বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে তো তিরাশির বিশ্বকাপ থেকেই আছে। পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে দুই দল নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক আসরে দুই দলের একবারও দেখা হয়নি।

শুধু পঞ্চাশ ওভার কেন? ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের বড় আসরেও তাদের দেখা মেলেনি। এবার অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষা ফুরাতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দুই দল ১৯ বার মুখোমুখি হওয়ার পর বিশ্বকাপে প্রথমবার লড়তে যাচ্ছে।

খেলাটা হবে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রাচীন ভেন্যু, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ব্রিসবেনের গ্যাবায়। ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া গ্যাবায় অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিল ২০০৬ সালে। অস্ট্রেলিয়ান সামারে গ্যাবায় নিয়মিত টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা হয়। পেসারদের স্বর্গ এই মাঠে টি-টোয়েন্টি হয়েছে মাত্র ছয়টি। বিশ্বকাপে এখনও একটি ম্যাচ হয়নি। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ব্রিসবেন পর্ব। দুই দলও প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক এই মাঠে।

ম্যাচের আগে দুই দলের ড্রেসিংরুমে দুই আবহ। দুই রোমাঞ্চ। পাকিস্তানকে পার্থে হারিয়ে রীতিমত উড়ছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ভাঙা মন আর নড়বড়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলের এ শহরে। দুই দলের আগের ১৯ মুখোমুখির পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের ১২ জয়ের বিপরীতে জিম্বাবুয়ের জয় ৭টিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় জিম্বাবুয়ের ধারের কাছেও নেই বাংলাদেশ। হারারেতে গত জুলাই-আগস্টে তিন ম্যাচের সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। বাংলাদেশকে বলে-কয়ে হারিয়ে জিম্বাবুয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল সেই সিরিজ।

বলা হতে পারে, সেই সিরিজে সাকিব আল হাসান খেলননি। কিন্তু সাকিব থাকলেও ম্যাচের ফল পাল্টাতো কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। কারণ, টি-টোয়েন্টির আগে ওয়ানডে সিরিজেও তারা বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল। ২২ গজে সিকান্দার রাজা, রায়ান বার্লরা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেই বাংলাদেশকে হারিয়েছে। তাইতো ৩৭ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গ্যাবা স্টেডিয়ামে হারারে ফেরাতে চাইবে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশকে আরও একবার হারিয়ে সেমিফাইনালের পথ মসৃণও করতে চাইবে তারা।

এদিকে বাংলাদেশ শেষ সিরিজটি হারলেও ফেলনার পাত্র নয় মোটেও। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলায় দুই দলের শক্তির পার্থক্য সমানই থাকবে। বাংলাদেশেরও সুযোগ থাকবে গ্যাবাকে মিরপুর বানানোর। সাকিবরা পারবেন কিনা সেটাই দেখার। মিরপুর শের-ই-বাংলায় দুই দলের পাঁচ দেখায় বাংলাদেশ কেবল একটি ম্যাচই হেরেছে। সেটাও সাত বছর আগে। ২০২০ সালে সবশেষ দুই দেখায় দুইবারই জিতেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের অভিজ্ঞতা তাই বাংলাদেশের পুঁজি হিসেবেই কাজ করবে। সেই সুখস্মৃতি গ্যাবায় ফেরাতে পারে কিনা সেটাই দেখার।

বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন। কারণ, গোটা দলের পারফরম্যান্স একেবারেই হতশ্রী। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিং কিছুই হয়নি। পুচকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঠিকঠাক হয়নি ব্যাটিং। বোলারদের পারফরম্যান্সে পার পেয়েছিল। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দুয়েকটা আসলেও দলীয় পারফরম্যান্স একেবারেই নেই। জিম্বাবুয়ের চিত্র পুরো উল্টো। গোটা দল যে এক হয়ে খেলছে, নিজেদের সাফল্য-ব্যর্থতা একসঙ্গে ভাগাভাগি করছে, সুস্থ ও হাসিখুশি এক পরিবার হয়ে উঠেছে, সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। তাইতো তাদেরকে হারাতে শুধু গ্যাবার ২২ গজে ভালো ক্রিকেট খেললেই হবে না, স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণও করতে হবে। নয়তো এই ম্যাচের এফিটাফ জিম্বাবুয়েই লিখে দেবে।

হারারে নাকি মিরপুর কোথায় হবে আনন্দৎসব? প্রশ্নটা সময়ের কাছেই তোলা থাক।